আবারো ফুটপাত দখলে হকাররা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার ইস্যুতে কলঙ্কময় অধ্যায় রচিত হলেও ফুটপাত দখলের মহোৎসব কিছুতেই থামছেনা। রক্তাক্ত লঙ্কাকান্ডের মধ্য দিয়েও অপ্রতিরোধ্য হকাররা ঘুরে ফিরে সেই ফুটপাত দখল করে দিব্যি ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে করে জনভোগান্তিতে কোনভাবেই লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে ফুটপাত দখলের পেছনে লাখ টাকার চাঁদাবাজিকে দায়ী করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত বছরের ১৬ জানুয়ারীতে হকার ইস্যুতে মেয়র আইভী সমর্থকদের সাথে হকারদের সংঘর্ষে মেয়র আইভী সহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে যাওয়া মেয়র আইভীকে বাঁচাতে মানব ঢাল হিসেবে তার অনুগামীদের দেখা গেছে। এসময় প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ সহ ইট বর্ষণের চিত্র দেখা যায়। এই ঘটনায় বহু আলোচনা সমালোচনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি অনেকটা ঘোলাটে আকার ধারণ করলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন ও হকার সহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ বৈঠকে হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসা নিষেধ করে দেয়া হয়। এতে পুলিশ প্রশাসন অনেকটা হার্ডলাইনে অবস্থান করার ফলে হকাররা অনেক চেষ্টার পরও বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসনের নমনীয়তা তাদের সেই চেষ্টাকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশের ফুটপাত জুড়ে হকারদের দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। হকারারা পুরো শহরের বাকি সড়ক ও ফুটপাতের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকাররা দখলে নিতে শুরু করেছে। যদিও সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখল করতে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে হকারদের বসতে দেখা যাচ্ছে। দেখা যায় বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত সোনালি ব্যাংকের সামনের ফুটপাতে হকাররা একটি নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে লাল রং দিয়ে দাগ দিয়ে তাদের দোকানের অংশ নিশ্চিত করেছে। যেখানে পুলিশ প্রশাসনের টহল টিমের গাড়ি পাশেই অবস্থান করে। কিন্তু তাতে চোখের সামনে হকার বসলেও পুলিশ প্রশাসনকে হার্ডলাইনে দেখা যাচ্ছেনা। যেকারণে হকাররা অনায়াসে প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল করে দিব্যি ব্যবসা করছে। একটি নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, ‘দৈনিক হিসেবে বঙ্গবন্ধু সড়কে সবচেয়ে বেশি হকার বসে। আর এই সড়কে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। যেকারণে এই ফুটপাতের চাঁদবাজির পরিমাণও বেশি। তার উপরে পুলিশি ও রাজনৈতিক বাধা পেরুতে গিয়ে সেই চাঁদার পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এতে করে হকার নেতারা উপর মহলকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ফের হকার বসাচ্ছেন। তবে এই মোটা অংকের টাকার যোগান দিতে হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করে থাকে বিভিন্ন হকার নেতারা। এই চাঁদাবাজির পরিমাণ একের হকারদের কাছে একের রকম। ফুটপাতে দোকানের পজিশন অনুযায়ী হকারদের চাঁদার পরিমাণ কম বেশি হয়ে থাকে। তবে পুলিশি ও রাজনৈতিক যত বাধা বিপত্তি আসে হকাদের কাঁধে এই চাঁদার পরিমাণ তত বাড়ে। তাই এ চাঁদার পরিমাণ গত কয়েক মাসে দুই থেক তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে এই চাঁদা শুধুমাত্র হকারদের দিয়েই খান্ত করা যায়না তার সাথে নতুন করে আবার পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ফের ভাগ বসায়। হকার সূত্র বলছে, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন দোকানের পজিশন অনুযায়ী ১শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। যদিও বিগত দিনে সর্বোচ্চ ৫শ টাকা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানা গেলেও সেই চাঁদার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা হয়েছে। যদিও হকার নেতারা পুলিশ প্রশাসন সহ রাজনৈতিক বিভিন্ন আমলাদের কথা বলে হকার নেতারা এই টাকা হকারদের কাছ থেকে আদায় করলেও পরবর্তীতে আবারো পুলিশ প্রশাসনের কিছু আসাধু কর্মকর্তারা হকারদের কাছে ফের টাকা দাবি করে। আর হকাররা অনেকটা বাধ্য হয়ে সেই দাবিকৃত টাকা দেয়।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে প্রতিদিন প্রায় লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদয় হচ্ছে ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে। তবে এতে করে হকার নেতা ও এক ধরণের অসাধু পুলিশ প্রশাসন এর সাথে জড়িত রয়েছে যারা এই টাকার ভাগ পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। তবে হকার ইস্যুতে হার্ডলাইনে থাকা পুলিশ প্রশাসন সম্প্রতি নিরব ভূমিকা পালন করলে চাঁদাবাজির সাথে পুলিশ প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগটি আরো দৃঢ় হতে থাকে। আর তাতে করে হকারদের ফুটপাত দখলদারিত্বের বিষয়টি ধীরে ধীরে ফের স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *