সহসাই রাজনীতিতে চাঙ্গা হচ্ছে না  নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতারা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সহসাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি চাঙ্গা হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বেশীর ভাগ শীর্ষ নেতাই নির্বাচনের আগেই একাধিক মামলার আসামী হয়ে নারায়ণগঞ্জের বাইরে অবস্থান করছেন। পুলিশের ভয়ের কথা বলে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, তার ভাই কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ শীর্ষ নেতারা কেউ নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছেন না। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যাদের নেতৃত্বে দলের তৃনমূল চাঙ্গা হয়ে উঠবে সে সমস্ত নেতারা জেলায় না ফেরার কারনে বিএনপির রাজনীতি চাঙ্গা হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষক মহল। যদিও নির্বাচনের পর অনেক নেতাই নারায়ণগঞ্জে ফিরেছেন। অনেক আবার জামিন নিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বিভিন্ন থানায় পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ৯৯ নেতাকর্মী। এদের মধ্যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পণ করা ১৫ জন জামিন লাভ করেন এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করা ৮৪ নেতাকর্মীর জামিন শুনানীর দিন পরে নির্ধারন করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত। গত বুধবার প্রায় ৪০ জন ও গতকাল বৃহসম্পতিবার ৩৭ জন নাশকতার মামরায় আত্মসমর্পণ করেছেন। জানাগেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার নারায়ণগঞ্জের সাতটি থাকায় বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়ের পর গ্রেফতার আতংকে বিএনপির নেতারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি। যার ফলে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের পরও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হেভীওয়েট নেতারা নারায়ণগঞ্জে বাহিরে অবস্থান করছেন না। এদিকে, বিএনপি আবারো সরকার বিরোধী আন্দোলনে যেতে পারে বলে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানাগেছে। এর মধ্যে বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ করে নতুন করে দিক নিদের্শনা দিতে পারে বলে বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে। সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন পদে যারা আসীন তারা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামা তো দূরের কথা নির্বাচন ইস্যুতে দলের তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত রাখছেন না। যে কারনে নির্বাচন পরবর্তী সময়ের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। যতোদিন না পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে এসে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারবে ততোদিন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি চাঙ্গা হবে না। তবে গুঞ্জন উঠেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি পুন:গঠন করা হবে। তবে কমিটি পুন:গঠন করা হলে অচিরেই নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি চাঙ্গা হবে। কেননা কমিটিতে পদ-পদবী বাগিয়ে আনতে নেতারা রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। নতুন কমিটিতে দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানাগেছে। একই সাথে থানা, মহানগরের আওয়াতাধীন ওয়ার্ডগুলো ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের মধ্যদিয়ে দলকে নতুন করে সাজানো হবে। এতে করে চাঙ্গা হবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *