নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে  হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি দলে রয়েছে আওয়ামীলীগ। এভাবে বছরের পর বছর ক্ষমতায় থেকেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের দূরাবস্থা দূর সম্ভব হচ্ছে না। এখানকার দলীয় কর্মসূচিগুলোতে নেতাকর্মীদের তেমন একটা সরব উপস্থিতি থাকে না। প্রায় কর্মসূচিস্থলগুলোই থাকে নেতাকর্মীদের কোলাহল মুক্ত। যার সূত্র ধরে এবার স্বয়ং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে নেতাকর্মীদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছেন। জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ২নং রেলগেইট আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই আলোচনা সভায় নেতাকর্মীদের তেমন একটা উপস্থিতি ছিল না। আর এটা নজরে পড়ে উপস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আলোচনার সভার শুরুতে নেতাকর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে সেই উপস্থিতি নেই। ভবিষ্যতে এটা আর করা যাবে না। সভাপতি আব্দুল হাই ভাই যেভাবে বলবেন সেভাবে চলতে হবে। অন্যথায় কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। যারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তারাই দায়িত্ব থাকবেন। প্রয়োজন হলে কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি দেয়া হবে। তিনি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো অঙ্গসংগঠন জেগে উঠছে। যাদের দলের প্রয়োজনে খুঁজে পাওয়া যায় না। এরকম অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আমাদের দরকার নেই। অনেকেই আছেন আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বই দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্কতাবলম্বন করতে হবে। আওয়ামীলীগের বদনাম করার জন্য জামাত শিবিরের লোকজন ষড়যন্ত করতে পারে। সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ওই কমিটি গঠনের পর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। তবে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সব মিলিয়ে ৮টি পদ খালি ছিল। যা এখন পর্যন্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনের বছর পর বছর অতিবাহিত হতে থাকলেও তাদের নিয়ন্ত্রনে থাকা থানা কমিটিগুলোর নবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। কোন কোন থানা কমিটি এরই মধ্যে প্রায় দেড় যুগও অহিবাহিত করেছে। যা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দিয়ে সাংগঠনিক কাজকর্ম চলছে। এসব কমিটি নবায়ন করার ব্যাপারে জেলা কমিটির দায়িত্বে থাকা নেতাদের কার্যত কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে ক্ষমতায় থেকেও জেলা আওয়ামীলীগে দূরবস্থা বিরজমান রয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *