আইভী’র হঠাৎ সরব হওয়ার কারণ খুঁজছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াত আইভীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।  আওয়ামীলীগের মনোনয়নে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলেও আওয়ামীলীগের ক্রান্তিকালে আইভীকে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পাশে পাওয়া যায়নি বলে দলের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সর্বশেষ রূপগঞ্জ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর আইভীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।  জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা আইভীর বিরুদ্ধে নানা স্ট্যাটাস দিচ্ছে। মেহেদী হাসান নামে এক যুবক তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে যখন গাজী সাহেবরা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিল তখন আনোয়ার সাহেবরা সামনে থাকার পরেও তাদের সাথে কোন ছবি তোলেননি কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার সাথে সাথেই ছবি ওঠাটে চলে গেলেন। ঠিক একইভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পাশে ছিলেন না মেয়র আইভী।ধরে নিলাম ওসমান পরিবারকে আপনি (আইভী) দেখতে পারেন না কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ১ ও ২ আসনের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন না মেয়র আইভী । অথচ অন্যান্য জেলায় মাননীয় মেয়ররা নৌকার পক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু মেয়র আইভী নৌকা কিংবা দলের পক্ষে কোন দায়িত্ব পালন করেনি। মাননীয় মন্ত্রী গাজী সাহেব মন্ত্রী হওয়ার পরে হঠাৎ করে কেন আপনি এতো গাজী সাহেব প্রেমিক হয়ে গেলেন??? নারায়ণগঞ্জবাসী সেটা জানতে চায়।’ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতারা বলছেন, বিগত দিনে বিভিন্ন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জে যখন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সঙ্কট দেখা দিয়েছিল তখনো আইভীকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। আইভী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হলেও আওয়ামীলীগ বিরোধীদের সাথেই তার বেশি সুসম্পর্ক। গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার পর রূপগঞ্জ আসনের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীকে পাট ও বন্ত্র মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার পর মেয়র আইভী নড়েচড়ে বসেন। মেয়র আইভী ও তার অনুসারিরা হঠাৎ করেই গোলাম দস্তগীর গাজীর অনুরাগী হয়ে পড়েন। অথচ মন্ত্রীসভার নাম ঘোষনার আগ পর্যন্ত মেয়র আইভীর অধিকাংশ অনুসারিই ছিল গাজীর বিপক্ষে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে নৌকা ও দুটি আসনে লাঙ্গল প্রতীকে মহাজোটের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রচারণায় একাধিকবার বলেছেন, যে খানে নৌকা নেই সেখানেই লাঙ্গল মহাজোটের প্রতীক। তারপরও নির্বাচনী প্রচারণায় মেয়র আইভী ও তার অনুসারিরা নিশ্চুপ থাকলেও হঠাৎ সরব হয়ে উঠায় সর্বত্র এনিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *