বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বন্দরে ফেরী সার্ভিস

মহিউদ্দিন সিদ্দিকী

পারাপারে তেমন কোন পরিবহন না থাকায় চালু হবার কয়েক মাসের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাটের ফেরী সার্ভিসটি। বিগত ২১ আগষ্ট জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাট হতে শহরের ৫নং ঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিসটি চালু হলেও কতৃপক্ষের ভূল সিদ্ধান্তের ফলে বিআইডব্লিউটিএর ১নং খেয়া ঘাট হতে পারাপারে আম ঘাট না হয়ে ৫নং ঘাটে হওয়ায় কোন কাজে আসেনি বন্দর সেন্ট্রাল ফেরীটি। একবার ফেরী দিয়ে পার হতে এসে বিরম্বনার কারনে পুরনায় কোন পরিবহন এখান দিয়ে ফেরী পারাপার হতে আসেননা বলে ভুক্তভোগী অনেকেই এ অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে নবীগঞ্জ ফেরী ঘাটের দু’পাড়ে সর্বক্ষনিক পারাপারের অপেক্ষায় থাকে অনেক পরিবহন। পরিবহন পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে দুইটি ফেরী। অথচ সেন্ট্রারঘাটে পারাপারে নিয়োজিত ফেরীটি সারাদিনে ২/৩ বারের বেশি পারাপার হয় না।  তাও আবার ২ /১টি রিক্সা ভ্যান ছাড়া কোন পরিবহন পার হতে দেখা যায়না। গতকাল ফেরী দিয়ে পার হওয়া মোটর সাইকেল আরোহী ঔষধ কোস্পানীর মার্কেটিং অফিসার আফসার হোসেন জানান, প্রায় ২ ঘন্টা ফেরীতে অপেক্ষার পর নদী পার হলাম। দু ঘন্টায় ১টি মটর সাইকেল, ৩ টি রিক্সা ভ্যান, একটি  ছোট কভার্ডভ্যান নিয়ে পার হলো ফেরীটি। বন্দর উইলসন রোড এলাকার আমির হোসেন সাগর জানান, ১নং ঘাট হতে ৫নং ঘাটে না গিয়ে মাছ ঘাট সংলগ্ন আম ঘাট দিয়ে পারাপার হলে এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত হাজার হাজার লোক ও শত শত যানবাহন পারাপার হতো। তাহলেও ফেরী সার্ভিসটি চালুর স্বার্থকতা পেত। বিশেষ করে গার্মেন্টস্ ও হোসিয়ারী শ্রমিকরা এর সুফল পেতো। নাম না প্রকাশ করার স্বার্থে এক ব্যক্তি বলেন, বরাবর পারাপারে ফেরী দিলে পারাপারে ২ টাকার ট্রলারে আর কেহ উঠতো না বলেই কারসাজি করে ফেরীটিকে ৫নং ঘাট দিয়ে পারাপারের সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বসুন্ধরা সিমেন্টের এক প্রাইভেট চালক বলেন, ১নং খেয়া ঘাটের ফেরীটি ঢাকা হতে মদনগঞ্জে যাতায়াতের জন্য সঠিক রোড হলেও ফেরীঘাটে ঢুকতেই প্রাইভেট কার প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ও নাসিকের ৬০ টাকা এবং ফেরীপার হলে বন্দর ১নং খেয়াঘাটে আবার নাসিকের ৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এদিক দিয়ে একবার পার হতে ২৪০ টাকা খরচ হয়?। অথচ নবীগঞ্জ ফেরী ঘাট দিয়ে পার হতে ফেরীর টোল ছাড়া কোন পাড়ে কোন রকম টোল দিতে হয় না। এ কারনেই এ ফেরী ঘাটটি দিয়ে কোন পরিবহন পারাপার হতে আগ্রহী নয়। ফেরীর চালক  জানান, পারাপারের পরিবহন বা যাত্রী না থাকায় অলস বসে থাকতে হয়। নৌ পারাপারে বিঘœ ঘটছে। সারাদিনে প্রায় যাত্রীশূন্য নিয়েই ফেরী ৩/৪ বার পারাপার হচ্ছি। উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। যে কোন সময় সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদেরমতে, ফেরীটি ৫নং ঘাট হতে স্থানান্তর করে ১নং খেয়া ঘাটের বরাবর আমঘাট দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা হলে ফেরীসর্ভিসটি প্রান ফিরে পেতো। অবিলম্বে ফেরী সার্ভিসটি সেন্ট্রাল ঘাট হতে ৫নং ঘাটের বদলে বরাবর মাতলাঘাট দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভোক্তভোগীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *