রবিবার | ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ | বিকাল ৪:৩১

একক সংবাদ

পর্যটকে মুখরিত আটঘর কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান

Badal-nj | নভেম্বর ০১, ২০১৮

দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান এলাকা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা জায়, উপজেলা সদর থেকে মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই ইউনিয়নের ৩২টি গ্রামের ৬৫৭ হেক্টর জমিতে ২০৭০টি পরিবার এই পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িত।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরু সরু খালের দু’পাড়ে দৃষ্টি নন্দন সারি সারি পেয়ারা বাগান দেখে পর্যটকদের মন জুড়িয়ে যায়। বিগত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে পেয়ারা বাগানে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীরা লঞ্চ, বাস ও মাইক্রোবাসসহ নানা বাহনে করে এই এলাকায় ঘুরতে আসছেন। এখানে এসে বাগানের ভেতর যাওয়ার জন্য তারা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার অথবা নৌকা ভাড়া করে তাতে চড়ে ঘুরে বেড়ান। শুধু পেয়ারা বাগানেই নয়, এখানকার ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি খালে নৌকায় করে পেয়ারার হাট বসে হাজার হাজার টন পেয়ারা বিক্রি হয়।

পেয়ারা ব্যবসায়ী রাসেল জোমদ্দার জানান, তারাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পেয়ারা ক্রয় করে লঞ্চ, ট্রাক যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন। এসব দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসা প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে সরগরম থাকে কুড়িয়ানা। গ্রামীণ জনপদে বিনোদনপ্রেমীদের জন্য মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পেয়ারা বাগান দিন দিন পরিণত হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রে। পর্যটকদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পেয়ারা বাগান এলাকায় গড়ে উঠতে পারে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র এবং সরকারও আয় করতে পারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। পেয়ারার মৌসুমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ঢাকাসহ দূর-দূরান্তের নানা বয়সী ভ্রমণ পিপাসু অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমান। দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি এ পেয়ারা বাগানে বিদেশি পর্যটকরাও আসছেন। দর্শনার্থীদের আনন্দ উল্লাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা এলাকা থাকে মুখরিত। পর্যটকবাহী ট্রলারে ট্রলারে সয়লাব হয়ে যায় পেয়ারা বাগান এলাকার খালগুলো। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করলেও এখানে নেই কোনো বিশ্রামাগার, নেই কোনো ভালো মানসম্মত খাবারের দোকান। নেই কোনো শৌচাগার।

আদমকাঠি এলাকার ৫ উচ্চশিক্ষিত তরুণ ৩ একর পেয়ারা বাগান লিজ নিয়ে পেয়ারা পার্ক নামে একটি মিনি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলেছেন এ বছর। পার্কের পরিচালক অতনু হালদার জানান, সহনীয় পর্যায়ে খরচের মাধ্যমে পর্যটকদের বিনোদন সহায়তার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর করাই তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আটঘর কুড়িয়ানাতে গত বছর সফরকালে আদমকাঠিতে একটি বিশ্রামাগার ও হোটেল নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন করেন। এ লক্ষ্যে খসড়া প্ল্যান তৈরিও করা হয়েছিল। কিন্তু চাহিদামতো জমি না পাওয়ায় বিশ্রামাগার ও হোটেল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাঈদ জানান, যেখানে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানে চাহিদামতো জমি নেই বিধায় অন্যত্র জমি খোঁজা হচ্ছে। খুব শিগগিরই জমির ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশাবাদী। জমির ব্যাপারে আটঘর এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও অবসরপাপ্ত শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, সরকার যদি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য আটঘরকে নির্বাচন করে তাহলে এখানে প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করা যাবে এবং চারদিক থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দর্শনার্থীরা সহজেই এখানে আসতে পারবেন।

পেয়ারা বাগানে আসবেন যেভাবে: ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে বরিশাল। বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে নেমে মাহিন্দ্রতে সরাসরি আটঘর কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান। ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে স্বরূপকাঠির ছারছিনা লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট ঘাট থেকে নেমে ইঞ্জিতচালিত ট্রলারে বা অটোরিকশায় আটঘর কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান। সায়েদাবাদ, গাবতলী বাসস্ট্যান্ট থেকে বাসে সরাসরি স্বরূপকাঠি। সেখান থেকে ইঞ্জিতচালিত ট্রলারে বা অটোরিকশায় আটঘর কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপিরাইট © দৈনিক ডান্ডিবার্তা, ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসিরউদ্দিন-০১৭১২৫৭৪৯৯০

top