মঙ্গলবার | ২০ নভেম্বর, ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ | ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ | রাত ১১:২০

একক সংবাদ

সবুজ ঘাসের মাঝে গোলাপি আর সাদা পদ্মের মিতালী

Badal-nj | নভেম্বর ০১, ২০১৮

সবুজ ঘাসের মাঝে গোলাপি আর সাদা পদ্মের মিতালী। বিলের এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণ। প্রকৃতির এমন অসাধারণ দৃশ্য দেখতে হলে সৌন্দর্যপিপাসুদের যেতে হবে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলার বলাকইড় পদ্ম বিলে। যে বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপি, সাদা পদ্মের সমাহার। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে শত শত দর্শনার্থী। পর্যটকদের কাছে এই বিল যাতে আরো আকর্ষণীয় হয় তার ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

পদ্মকে বলা হয় জলজ ফুলের রানী। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পদ্ম ফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বেশ কয়েকটি বিলের। দূর থেকে দেখে মনে হবে এ যেন গোলাপী আর সাদা ফুলের বিছানা। সৌন্দর্য পিপাসুদের কাছে পদ্ম বিল খুবই আকর্ষণীয়। তাইতো প্রতিদিনই এ বিলে শত শত সৌন্দর্য পিপাসু পরিবার পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসছেন। এত করে একই সঙ্গে নৌকা ভ্রমণ আর পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন দর্শনার্থীরা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড়, বনগ্রাম, খেলনা, কাজুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকাজুড়ে এসব পদ্ম ফুলের দেখা মেলে। বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া এসব পদ্মফুলের কারণে এখন এ বিলটি পদ্ম বিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে এ বিলের চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গোলাপি আর সাদা রং এর পদ্ম দেখলে মনও জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য প্রতিদিনই ছেলেমেয়ে নিয়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তারা নৌকায় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। স্থানীয়রাও ভ্রমণ পিপাসুদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তবে, দর্শনার্থীদের অসচেতনতা আর খামখেয়ালীপনার কারণে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলার চার পাশে রয়েছে অসংখ্য বিল। তার মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার বলাকইড় বিল। গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে এই বিলের অবস্থান। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলে পদ্ম ফুল ফুটতে শুরু করে। শুধু সৌন্দর্যই নয় বর্যা মৌসুমে কোনো কাজ না থাকায় এ বিলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নৌকায় ঘুরিয়ে স্থানীয়দের আয়েরও একটা পথ হয়েছে। এ ছাড়াও বিলের পদ্ম ফুল ঢাকা, খুলনা, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা।

পদ্ম বিলে ঘুরতে আসা সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থী রাতুল ইসলাম সাজ্জাত ও কাজী মেজবাহ আমীন বলেন, পদ্ম বিলের অপরুপ সৌন্দর্য অন্য যে কোনো সৌন্দর্যকে হার মানাবে। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, তাদের কাছে এ বিল আকর্ষণীয়। তবে, দর্শনার্থীদের সচেতনতার অভাবে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান তাদের। আর এখানে যদি একটা পর্যটন স্পট করা হয়, তবে দর্শনার্থী আরো বাড়বে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছি, তাদের বেশিরভাগই গোপালগঞ্জের বাইরের জেলার। এখানকার পদ্ম বিল সত্যিই অনন্য অসাধারণ। প্রতিদিনই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরতে আসে।

বিলে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী সোহেল জোহা বলেন, আমি বিভিন্ন মানুষের মুখে এই বিলের গল্প শুনছি। কিন্তু এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না, এই বিলটা কত সুন্দর। এই পদ্ম বিলের সৌন্দর্য সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মতো সুন্দর একটি স্থান এটি। কিন্তু এখানে কোনো বিশ্রামাগার ও ওয়াস রুম না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

বলাকইড় গ্রামের নিউটন মোল্লা ও বনগ্রামের সাকিব মৃধা জানান, বছরের এই বর্ষা মৌসুমে এসব বিলে প্রচুর পরিমাণে পদ্ম ফুল ফোটে। এখানে মূলত গোলাপি আর সাদা রং এর ফুলের দেখা মেলে। প্রতিদিনই দূর দূরান্ত থেকে শত শত পর্যটক পরিবার পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের সমাগম আরো বেড়ে যায়। তবে, দর্শনার্থীরা পদ্ম ফুল ছিড়ে নষ্ট করার ফলে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। এটা রোধ করা জরুরি।

বড়াকইড় বিলের মাঝি পলাশ সরদার, ইকবাল সরদার বলেন, এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ বেড়াতে আসে। তাদের আমরা নৌকায় ঘুরিয়ে পদ্ম বিল দেখাই। তাতে আমাদের ভালোই উপার্জন হয়।

ফুল বিক্রেতা মিঠুন বিশ্বাস বলেন, এখানের গোলাপি সাদা পদ্ম ফুল বিভিন্ন এলাকার পাইকারা কিনতে আসে। দামও ভালো। বছরের এই সময়ে আমাদের কাজ না থাকায় এই ফুল বিক্রি করেই সংসার চালাই।

গোপালগঞ্জ কৃষি অফিসের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া পদ্মফুল দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। বছরের এই সময়ে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়। এ ছাড়া এই পদ্ম পচে জৈব সার হয়। যেটা চাষাবাদের জন্য উপকারী।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, গোপালগঞ্জে তেমন কোনো পর্যটন স্পট না থাকলেও অতি সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, গোপালগঞ্জের বলাকইড় বিলসহ বিভিন্ন বিলে পদ্মফুল পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এসব স্পট যাতে পর্যটক বান্ধব করা যায় তার জন্য পর্যটন কর্পোরেশনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা হবে। এসব স্পটকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে জেলা প্রশাসন কাজ করবে। এ ছাড়াও গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার করায় গণমাধ্যম কর্মীদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রসাশক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপিরাইট © দৈনিক ডান্ডিবার্তা, ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসিরউদ্দিন-০১৭১২৫৭৪৯৯০

top