যোগদানের পরই প্রশ্নবিদ্ধ নাহিদা বারিক!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন আলোচিত-সমালোচিত সেই নাহিদা বারিক। যিনি পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার, বন্দর ও ফতুল্লার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, নিজ কর্মগুনে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ সদর উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পরপরই আবারো বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন তিনি। সূত্র জানায়, কৌশল অবলম্বন করে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বীনাকে সরিয়ে তার স্থানে নাহিদা বারিক ইউএনও হিসেবে যোগদানের পরই প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে হোসনে আরা বীনা তার ফেসবুক আইডিতে ব্যপক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে একটি হৃদয়স্পশী স্ট্যাটাস দিয়েছেন। জানা গেছে, সদর উপজেলাধীন ফতুল্লা সার্কেলে কর্মরত ছিলেন নাহিদা বারিক। তবে, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, কোন সাবেক এসিল্যান্ড একই উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করতে পারবে না। অথচ প্রশাসনিক এই নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অনেকটা প্রভাব খাটিয়েই একই উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন তিনি। তার এই যোগদানে নানা প্রশ্ন দেখে দিয়েছে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। প্রশাসনিক একটি সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে সদর সার্কেলের সাবেক এক এসিল্যান্ড সদর ইউএনও হিসেবে যোগনাদের চেষ্টা করলেও তা নিয়ম বর্হিভূত হওয়ায় ব্যর্থ হয় ওই কর্মকর্তা। কিন্তু সেই কানুন প্রযোজ্য হলো না নাহিদা বারিকের ক্ষেত্রে !  প্রশ্ন উঠেছে, নারায়ণগঞ্জে কি এমন মধু রয়েছে, যা সংগ্রহে বারবার ছুটে আসছেন নাহিদা বারিক ! সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার এসিল্যান্ড থাকাবস্থায় বিভিন্ন কর্মকান্ডে সমালোচিত হয়েছিলেন নাহিদা বারিক। বিশেষ করে, বিগত সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে ম্যাজিস্ট্রেট নাদিহা বারিকের উপস্থিতিতে জাল ভোটের মহোৎসবের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরই ব্যপক সমালোচনার মুখে পরেন তিনি। অপর দিকে, বিদায়ী ইউএনও হোসনে আরা বীনা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সাধারণত ফেসবুকে খুব একটা শেয়ার করি না। তবে আজ মনে হল এখন চুপ করে থাকাটাও অন্যায়। তাই আজ আর না, আজ আমি বলবো… আমি হোসনে আরা বেগম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণগঞ্জ সদর, মাত্র ৯ মাস পূর্বে আমি এ পদে যোগদান করি। আমার দীর্ঘ ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বহু চেষ্টা চিকিৎসার পরও আমরা কোন সন্তান লাভ করতে পারিনি। কিন্তু পাঁচ মাস পূর্বে আমি জানতে পারি আমি দুই মাসের সন্তানসম্ভবা। এ ঘটনা আমার জীবনে সৃষ্টিকর্তার অপার রহমত ছাড়া আর কিছুই নয় এ বিশ্বাস আমি প্রতিনিয়ত বুকে ধারণ করেছি। এ বিশ্বাস ও স্বপ্ন বুকে নিয়ে অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছিলাম।’’বীনা লিখেন, ‘‘উল্লেখ্য আমি আমার বাবুকে পেটে নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আংশিক নির্বাচন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করি। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে অজুহাত ফাঁকিবাজী এই বিষয়গুলোকে কখনই পুঁজি করিনি। যখন যে পদে কাজ করেছি চেষ্টা করেছি শতভাগ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে। সন্তানসম্ভবা হয়েও এর কোন ব্যতিক্রম আমি করিনি। অথচ আমি সন্তানসম্ভবা হয়েছি শোনার পর থেকেই একজন বিশেষ কর্মকর্তা, যার নাম বলতেও আমার রুচি হচ্ছে না, বিভিন্ন মহলে আমাকে অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বদলীর পায়তারা করেই চলেছিল। আমার সন্তান সম্ভবা হওয়াটাকেই সে বিভিন্ন মহলে আমার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অথচ এই সন্তান পেটে নিয়েই আমি অত্যন্ত সফলভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারি রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এপ্রিসিয়েশনও পেয়েছি। আমার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল এপ্রিলের ২০ তারিখ, তেমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই আমি ছিলাম।’’ ‘‘গত ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ বিকালে রেগুলার চেকাপ করতে আমি হাসব্যান্ড সহ স্কয়ার হাসপাতালে আসি, চেকআপ শেষে সন্ধ্যায় আমার হাসপাতালে অপেক্ষা করছি পরবর্তী পরীক্ষার জন্য এমন সময় আমার একজন ব্যাচমেট ফোন করে জানায় আমার সদাসয় কর্তৃপক্ষ আমাকে ওএসডি করেছে অর্থাৎ আমাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেছে।’’ ‘‘আমার অপরাধ হলো আমি সন্তানসম্ভবা, আর তার চেয়েও বড় কারণ হল সেই তথাকথিত ক্ষমতাধর কর্মকর্তার উপরের মহল কর্তৃক তদবির। খবরটা শোনার পর আমি প্রচন্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে পারিনি, উল্লেখ আমি এজমার রোগি। প্রচন্ড মানসিকচাপে আমার ফুসফুসে ব্লাড সার্কুলেশন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে আমার পেটের সন্তানের অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় এবং হঠাৎ করেই আমার পেটের বাবু নড়াচড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তাৎক্ষনিক হসপিটালে ভর্তি করা হলে ডক্টর সেদিন রাতেই সিজার করে বাবু বের করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়, পরে আমার পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে পরদিন সকালে আমার মাএ ৩১ সপ্তাহ বয়সি প্রিমেচিউর বেবিকে সিজার করে বের করে ফেলা হয়। এখন সে স্কয়ার হাসপাতালের এনআইসিওতে বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপন যুদ্ধ করে যাচ্ছে!!!’’‘‘আমার এই নিষ্পাপ সন্তানটার কি অপরাধ ছিল? নাকি মা হতে চাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল আমি জানিনা!!! তবে জানি একজন সব দেখেন তিনি আমার নিষ্পাপ মাসুম সন্তানের উপর এই জুলুমের বিচার করবেন। এই নিষ্ঠুর অমানবিকতার পৃথিবীতে কোন কর্তা ব্যক্তিদের কাছে আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই না, শুধু আমার সৃষ্টিকর্তা কে বলবো তুমি এর বিচার করো!!! আর যারা আমাকে একটুও ভালোবাসেন আমার নিষ্পাপ সন্তানটার জন্য দোয়া করবেন, ও সুস্থ হয়ে গেলে কোন কষ্টের কথাই আমার মনে থাকবে না।’’এদিকে হোসনে আরা বীনার এমন স্ট্যাটাসের পরই নাহিদা বারিককে নিয়ে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *