বন্দর সেন্ট্রাল ফেরী সাভিসটি রক্ষায় সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা

মহিউদ্দিন সিদ্দিকী
দীর্র্ঘ প্রতীক্ষার পর বন্দর ১ নং খেয়াঘাট সংলগ্ন ফেরী সার্ভিসটি কতৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, তেলের সংকট, বি আইডব্লিউ টি এ, দুই পাড়ে নাসিকের অতিরিক্ত টোলের কারনে চালু হবার কয়েক মাসের মধ্যে বন্ধ হওয়ার পথে বন্দর সেন্ট্রাল ঘাট ফেরীটি। বর্তমানে চারকবিহীন অবস্থায় দিনে ২/১ বার পারাপার হচ্ছে ফেরীটি। ১নং খেয়াঘাটে নিয়োজিত ফেরীর গ্রীজার জিল্লুর রহমান জানান, ৪ জনের স্থলে আমি আর একজন খালাসী নজরুলকে দিয়েই ফেরী চলাচল করছি। কতৃপক্ষ সারাদিনের জন্য প্রতিদিন ১৫ লিটার তেল দিচ্ছে। তাও আবার প্রতি;িদন না। এই সামান্য তেল দিয়ে ৭৫ হর্সের ২টি ইঞ্জিন চালিয়ে ১ বার পারাপার হলে আরেকবার পারাপার হওয়া যায় না। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় কেবল জোয়ারের সময়ই ফেরী চালানো নম্ভব হয়। নবীগঞ্জ ঘাট হতে এ ঘাটের দুরত্ব বেশি,দুটি মোড় ঘুরতেই অনেক তেল খরচ হয়। ১নং খেয়া ঘাট হতে পারাপারে বরাবর আম ঘাট(মাতলা ঘাট) না হয়ে ৫নং ঘাটে হওয়ায় কোন কাজে আসেনি বন্দর সেন্ট্রাল ফেরীটি। একবার ফেরী দিয়ে পার হতে এসে বিরম্বনার কারনে পুরনায় কোন পরিবহন এখান দিয়ে ফেরী পারাপার হতে আসেননা বলে ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে নবীগঞ্জ ফেরী ঘাটের দুপাড়ে সর্বক্ষনিক পারাপারের অপেক্ষায় থাকে অনেক পরিবহন। পরিবহন পারাপারে হিমশিম খাচ্ছে ফেরী। অথচ সেন্ট্রারঘাটে পারাপারে নিয়োজিত ফেরীটি সারাদিনে ২/১ বারের বেশি পারাপার হয় না। এ ব্যাপারে তাও আবার ২ /১টি রিক্সা ভ্যান ছাড়া কোন পরিবহন পার হতে দেখা যায়না। গতকার ফেরী দিয়ে পার হওয়া মোটর সাইকেল আরোহী আক্তার হোসেন জানান, প্রায় ২ ঘন্টা ফেরীতে অপেক্ষার পর নদী পার হলাম। দু ঘন্টায় ১টি মটর সাইকেল, ৩ টি রিক্সা ভ্যান, একটি ছোট কভার্ডভ্যান নিয়ে পার হলো ফেরীটি। বন্দর উইলসন রোড এলাকার এক ব্যক্তি জানান, ১নং ঘাট হতে ৫নং ঘাটে না গিয়ে মাছ ঘাট সংলগ্ন আম ঘাট দিয়ে পারাপার হলে এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত হাজার হাজার লোক ও শত শত যানবাহন পারাপার হতো। তাহলেও ফেরী সার্ভিসটি চালুর স্বার্থকতা থাকতো। বিশেষ করে গার্মেন্টস্ ও হোসিয়ারী শ্রমিকরা এর সুপল পেতো। এ ব্যাপরে অপর একজন নাম না প্রকাশ করার স্বার্থে বলেন, বরাবর পারাপারে ফেরী দিলে পারাপারে ২ টাকার ট্রলারে আর কেহ উঠতো না বলেই কারসাজি করে ফেরীটিকে ৫নং ঘাট দিয়ে পারাপারের সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বসুন্ধরা সিমেন্টের এক প্রাইভেট চালক বলেন, ১নং খেয়া ঘাটের ফেরীটি ঢাকা হতে মদনগঞ্জে যাতায়াতের জন্য সঠিক রোড হলেও ফেরীঘাটে ঢুকতেই প্রাইভেট কার প্রতি বি আই ডব্লিউ টিএ ও নাসিকের ৬০ টাকা এবং ফেরীপার হলে বন্দর ১নং খেয়াঘাটে আবার নাসিকের ৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এদিক দিয়ে একবার পার হতে ২৪০ টাকা খরচ হয়্ অথচ নবীগঞ্জ ফেরী ঘাট দিয়ে পার হতে ফেরীর টোল ছাড়া কোন পাড়ে কোন রকম টোল দিতে হয় না। এ কারনেই এ ফেরী ঘাটটি দিয়ে কোন পরিবহন পারাপার হতে আগ্রহী না। ফেরীর চালক জানান, পারাপারের পরিবহন বা যাত্রী না থাকায় অলস বসে থাকতে হয়। নৌ পারাপারে বিঘœ ঘটছে। সারাদিনে প্রায় যাত্রীশূন্য নিয়েই ফেরী ৩/৪ বার পারাপার হচ্ছি। উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। যে কোন সময় সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদেরমতে, ফেরীটি ৫নং ঘাট হতে স্থানান্তর করে ১নং খেয়া ঘাটের বরাবর আমঘাট (মাতলা ঘাট) দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা হলে ফেরীসর্ভিসটি প্রান ফিরে পেতো। এ প্রসঙ্গে উপ সহকারী প্রকৌশলী মো: ফিরোজ আলম জানান, আমরা ফেরীটি কোনাকোনি না দিয়ে বরাবর দিয়ে চেয়েছিলাম কিন্তু বি আই ডব্লিউ টি এ কতৃপক্ষ রাজি না থাকায় ৫নং ঘাট দিয়ে ফেরীটি চাণু করা হয়েছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ভাটার সময় ফেরী ঘাটে ভিরতে পারছে না। পল্টুনের সামনে খননের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অবিলম্বে ফেরী সার্ভিসটি সেন্ট্রাল ঘাট হতে ৫নং ঘাটের বদলে বরাবর মাতলাঘাট দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করার জন্য জন্য স্থানীয় এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ভোক্তভোগীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *