আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে তৃণমূল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আওয়ামীলীগ দলটি টানা জয়ের মধ্য দিয়ে জয়ের সাগরে ভাসলেও দলটির নীতিনির্ধারক পদে থাকা নেতাদের সাথে তৃণমূলের ফের দূরত্ব রয়েছে। এছাড়া তৃণমূলের সাথে নেতাকর্মীদের গা ছাড়া ভাব রয়েছে। তার উপরে তৃণমূলের দাবিগুলো পূরণ না হওয়ার দরুণ বেশ ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। এরুপ নানা কারণে আওয়ামীলীগ দলটির সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটি বিপুল ভোটেরা ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে মহাজোট সবকটি আসনেই জয় পায়। তবে আওয়ামীলীগ দলটি তাদের শরীক দল জাতীয় পার্টির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে। এতে করে আওয়ামীলীগ দলটি জাতীয় পার্টিকে অনেকগুলো আসনে ছাড় দেয়। নারায়ণগঞ্জ জেলায়ও ৫টি আসনের মধ্যে ২টি আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া আওয়ামীলীগ। এতে করে আওয়ামীলীগ দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ ক্ষোভ দেখা দেয়। সূত্র বলছে, ‘আওয়ামীলীগ দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই জেলার সবকটি আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেয়ার দাবি করে আসছিল। তাদের অভিযোগ ছিল আওয়ামীলীগ দলটি ক্ষমতায় থাকলেও স্থানীয় এমপি জাতীয় পার্টির হওয়ার কারণে দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নিষ্পেষিত হচ্ছে। যেকারণে অন্য কোন জেলায় জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হলেও এ জেলায় যেন তা না হয়। এর জোর দাবি জানিয়ে আসছিল দলের নেতাকর্মীরা।’ এতে করে স্থানীয়ভাবে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হতে থাকে। তবে আওয়ামীলী তৃণমূলের সেই দাবি সত্ত্বেও কেন্দ্র থেকে জাতীয় পার্টিকে ২টি আসনে ছাড় দেয়া হয়। এতে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বেশ মনক্ষুন্ন হয়েছে। তবে কেন্দ্রের নির্দেশনা পালন করলেও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। এদিকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ দলটির পদ পদবীতে থাকা নেতাদের সাথে তৃণমূলের বেশ দূরত্ব রয়েছে। নির্বাচন ছাড়া এসব নেতারা তৃণমূলের কোন খোঁজখবর নেয়না। যেকারণে তৃণমূলের অনেক ত্যাগী কর্মীরা ব্যাকফুটে চলে গেছে। আবার অনেকে নৌকাকে বুকে লালন করে নিরবে অশ্রু ঝরাচ্ছে। যেকারণে দলটির নেতাকর্মী ও তৃণমূলের কর্মীদের সাথে বিশাল বাধার দেয়াল তৈরি হয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দর আসনে আওয়ামীলীগ দলটির শরীক দল জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান ও সোনারগাঁ আসনে জাপা সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়ে জিতেছেন। এতে করে এই দুটো আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সহ দলের নেতাকর্তীরা বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। আর এসব সাংসদদের মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচিত করার ফলে আওয়ামীলীগ দলটির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত হচ্ছে বলে অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বিএনপি দলটির নেতাদের একটি অংশকে জাতীয় পার্টির এই সাংসদের প্রকাশ্যে সমর্থন করতে দেখা গেছে। আর সেই সমর্থনের কারণেও আওয়ামীলীগ দলীয় নেতাকর্মীরা বেশ রোশানলে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে কোন দল ধসে পড়ার পেছনে তৃণমূলের ক্ষোভ দায়ী হয়ে থাকে। আর তৃণমূলের ক্ষোভ কারণ হিসেবে দলের পদ পদবী ধারী নেতাকর্মীরা মূলত দায়ী। এসব কারণে দলটি ক্ষমতায় থেকেও সাংগঠনিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে এসব কারণে আওামীলীগ দল থেকে তৃণমূল ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এটা অনেকটা স্পষ্ট।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *