অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশ সুপারকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান না’গঞ্জবাসীর

রাশেদুল ইসলাম

শহরের অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড ও ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ, জুয়ার আসরে অভিযান, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান, ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানসহ নারায়ণগঞ্জে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের প্রশংসনীয় ভূমিকায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। তবে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে আরো কঠোর হতে পুলিশ সুপারের প্রতি আহবান জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। গত ১০ জানুয়ারি দুপুরে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলনে যানজট, হকার, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়া ঘোষনা দেন। যা ইতিমধ্যে বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। জানাগেছে, কুতুবপুরে আতংক সন্ত্রাসী মীরু ও টেনুর মত সন্ত্রাসী গ্রেফতার হওয়ার পরই অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে কুতুবপুরবাসীর মধ্যে। শহরে ফুটপাতে হকার ও অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ডের কারণে যানজট ছিল নগরবাসীর নৃত্যদিনের সঙ্গী। তবে সম্প্রতি পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বিশেষ উদ্যোগে হকার ও অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড উচ্ছেদে উদ্যোগ নিলে বর্তমানে শহরের যানজট অনেকটা নিয়ন্ত্রনে চলে এসেছে। তবে চাষাড়া মহিলা কলেজের সামনে ও নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের উল্টো দিকে এখনো বহাল রয়েছে অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড। কথিত রয়েছে, এই সকল অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করছে প্রভাবশালীরা। আর এই চাঁদার একাংশ পাচ্ছেন কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য। যার ফলে এখনো বহাল রয়েছে এসকল অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড। গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নির্দেশে শহরের দু’টি এরাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪০জন জুয়ারীকে গ্রেফতারসহ ৩ লক্ষাধীক টাকা জুয়ার বোর্ড থেকে উদ্ধার করে। এদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কঠোর অবস্থানের কারণে কৌশল পাল্টিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। জেলার সাতটি থানায় প্রতিদিনই মাদকসহ ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও মাদকের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতার সরাসরি শেল্টারে থাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে সমাজে মাদক ব্যবসার কৌশল পাল্টে ফেলেছে ব্যবসায়ীরা। গাড়ীতে পুলিশ অথবা সাংবাদিক স্টিকার লাগিয়ে খুব সহজেই মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাদক পরিবহনে সাংবাদিক স্টিকার ব্যবহার করছে অহরহ। জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা অখ্যাত কিছু পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নিজেদের গাড়ীতে সাংবাদিক স্টিকার লাগিয়ে দাপটের সাথে মাদক ব্যবসা করে চলছে। এতে করে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সংবাদকর্মীরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটানিং অফিসার বরাবর শুধু সদরেই প্রায় সাড়ে ৭শটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্ডের আবেদন জমা পড়েছিল। এছাড়াও সম্প্রতি আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে প্রেস, সাংবাদিক আর সংবাদপত্র স্টিকার সম্বলিত গাড়ির সংখ্যা। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সাংবাদিক পরিচয়ে এরা কারা! এব্যপারে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। সূত্র মতে, বিভিন্ন সময়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার পাশাপাশি প্রশসানের নীবর ভূমিকায় অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয় নারায়ণগঞ্জ। যার ফলে সাত খুনের মত চ্যাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। তবে হারুন অর রশিদকে আরো কঠোর হতে হবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *