না’গঞ্জ আওয়ামীলীগে অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান জরুরী!

হাবিবুর রহমান বাদল

সাতচল্লিশ বছর আগে পরাধিন জাতি থেকে বাঙ্গালী জাতিকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তদানিন্তন রেসকোর্স ময়দানে কোটি মানুষের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। একাত্তুর সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে এক করে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা দেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু একত্রিত করে বর্তমান সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানে ঘোণষা করেন এবারের সংগ্রম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষনে উজ্জীবিত হয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতার পর ৭৫’এর কালো রাত্রিতে একদল বিপদগামী সেনা সদস্য আওয়ামীলীগের মির্জাফরদের সহায়তায় বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। সেদিন থেকে প্রমানিত হয়, আওয়ামীলীগে মীর জাফরা দেশকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যা করে। ইতিহাসের জঘন্যতম এ হত্যাকান্ডের পর আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মোস্তাকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়। ভাগ্যক্রমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে গেলেও মীর জাফরের প্রেতাত্মারা তাকে দীর্ঘদিন দেশে আসতে দেয়নি। এমনকি শেখ হাসিনা দেশে আসলেও তার পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুমতি পর্যন্ত দেয়নি। একুশ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আবারো ক্ষমতায় আসে। ততদিনে মোস্তাকের প্রেতাত্মারা অনেকটাই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরে জায়গা করে নিয়েছে। দেশ ও জাতির স্বার্থে শেখ হাসিনা অনেকটাই নিরবে দল গুছাতে থাকেন। শত নির্যাতন নিপিড়নের মধ্যেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আগলে রাখেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে দেশের কোটি কোটি নেতা-কর্মী জীবন বাজি রেখে কাজ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেকটাই মোস্তাকের প্রেতাত্মারা পদ পদবী দখল করে আওয়ামীলীগের তথা শেখ হাসিনার অর্জনকে বিনষ্ট করতে কাজ করতে থাকে গোপনে গোপনে। ১/১১ এর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেকেই আবারো স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নবম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাঘরিষ্ট আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেন। এ সময় শেখ হাসিনা অনেটাই কঠোর হওয়ার চেষ্টা করেন। দলীয় বিভাজন ভুলে দলকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখতে দলের তৃনমূল নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে থানা উপজেলা, জেলা এমনকি কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের প্রতি বার বার তাগিদ দেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব যেন কপালের লিখন। প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জে এ অবস্থা এতটাই প্রকট স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে জেলা ও শহর আওয়ামীলীগের দুইটি ধারা বহমান থাকলেও সাধারণ নেতা-কর্মীরা তা সহজে বুঝতে পারত না। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দুই নেতার মধ্যে থাকলেও সেই দ্বন্দ্ব সাধারণ কর্মীরা টের পেতনা। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলে বিভাজন এখন এতটাই প্রকট যে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ক’ভাগে বিভক্ত তা খুঁজে বের করতে হলে গবেষণার প্রয়োজন হবে। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নারায়ণগঞ্জের নেতাদের গণভবনে নিয়ে বৈঠক করে সকল প্রকার মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের প্রতি আমার আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। আমি নারায়ণগঞ্জকে রাজধানী ঢাকার পরই একটি আধুনিক শহর হিসাবে গড়তে চাই। কিন্তু নারায়নগঞ্জের রাজনীতিবিদদের বিভাজন ও কোন্দলের কারণে প্রধানমন্ত্রীর শত ইচ্ছা সত্বেও নারায়ণগঞ্জ তার কৌলন্য হারিয়েছে। ইতিহাসের পাতায় নারায়ণগঞ্জ একটি অবহেলিত শহর হিসাবে পরিচিত। নারায়ণগঞ্জবাসী এখন আর নতুন কিছু চায়না। তারা চায় নারায়ণগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জ তার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে না। নারায়নগঞ্জবাসীর উন্নয়নের চাইতে নিজেদের মধ্যে বিভাজন ও কোন্দল নিয়ে ব্যস্ত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তার প্রমাণ আবারো মিললো গতকাল বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এক সাথে পালন করতে পারলো না। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ ও মহানগর আওয়ামীলীগ আলাদা আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করতেই পারে। কিন্তু কর্মসূচি পালনকালে দেখা গেছে, দুই মেরুর দুই গ্রুপ কেউ একত্রিত হয়নি। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেই আবার প্রকাশ্যে বলে ফেলেছে তবে কি সর্ষের মধ্যে ভুত রয়ে গেছে এখনো?

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *