কৌশলী হচ্ছে মাদক পাচারকারীরা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চলতি বছরের শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযানে গ্রেফতার হয় অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ী। সাড়াশি অভিযানের পর থেকে নানান কৌশলে চলছে ইয়াবা পাচার। তবে ইয়াবা পাচারকারীদের গ্রেফতারে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরাও রয়েছেন তৎপর। গত এক মাসে ৫টি সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী চক্রকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ যারা দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচারে জড়িত ছিল। নারায়ণগঞ্জের বসার চেয়ারের পায়ার ভেতরে ভরে অভিনব কায়দায় লুকানো ৮ হাজার বড়ি ইয়াবা পাচারের সময়ে দুইজনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। গত ২ মার্চ ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁও উপজেলা বাড়ীচিনিস এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে আসবাবপত্র বোঝাই একটি পিকআপ তল্লাশী করে চেয়ারের পায়ার ভেতর থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়ীচিনিস এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে আসবাবপত্র বোঝাই একটি পিকআপ তল্লাসী করে ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা পাচারের দায়ে পিকআপটি সহ চালক মো. আব্দুর রহিম (২৪) ও মো. মিজানকে (২৩) আটক করা হয়।  তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পিকআপে আসবাবপত্র বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাচ্ছিল। তারা চেয়ারের পায়ার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ইয়াবা নিয়ে এসে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করতো। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাঁচপুরের এক ইয়াবা ডিলারের ইয়াবা পরিবহন করে আসছে। তারা পিকআপে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের আড়ালে মূলত ইয়াবা পরিবহন করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।  গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে চাষাঢ়ায় মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে স্কুল ব্যাগে থাকা ল্যাপটপের ডিসপ্লের মধ্যে অভিনব কায়দায় রক্ষিত অবস্থায় ৭৮৫ পিস ইয়াবা ও অপর জনের পকেটে থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম। ওই সময়ে মাদক পাচারে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল, ২টি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোস্তাকিম ইসলাম ওরফে মোঃ টিটু (৩৫) ও মোঃ আমজাদ (৩০)। গ্রেফতারকৃত মোস্তাকিম ইসলাম ওরফে মোঃ টিটু ফতুল্লা মডেল থানাধীন জামতলা এলাকায় চিনিপতা নামক মিষ্টির দোকানের মালিক এবং মোঃ আমজাদ পেশায় একজন ড্রাইভার বলে জানা যায়। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানা এলাকা হতে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা নিয়া আসে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পুরাতন ল্যাপটপ এর ভিতরে করে অভিনব কায়দায় নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসমূহ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করত।  সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকা থেকে সোমবার ২৫ ফেব্রুয়ারী সকালে দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম। পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক একটি টিফিন ক্যারিয়ার এর মধ্যে বিশেষ কায়দায় সংযুক্ত অবস্থায় ১৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলো, গোগনগর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা মোঃ মজিবর রহমান(৪২) ও তার স্ত্রী সুলতানা বেগম(৩৭) এবং কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা মোসাম্মৎ হামিদা বেগম(৩৫)। র‌্যাব-১১ এর এএসপি নাজমুল হাসান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, মোঃ মজিবর রহমান একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। ব্যবসার সুবাদে টেকনাফের হামিদা বেগমের স্বামীর সাথে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে হামিদা বেগমের স¦ামী দূর্ঘটনায় মারা গেলে হামিদা বেগম ইয়াবা চোরা চালানের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে হামিদা বেগম মজিবর রহমানের কাছে টেকনাফ থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচার করে আসছিল। মজিবর রহমান এর স্ত্রী সুলতানা বেগম এই ইয়াবা নারায়ণগঞ্জের গোগনগর এলাকায় বিক্রি করতো। গত ২২ ফেব্রুয়ারী গভীর রাত আড়াইটায় সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লবণ বোঝাই ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৬ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব-১১। পাচারকারী ৩ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া ইয়াবা বহনকারী ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো ফজলু(৪৫), শ্যামল হাওলাদার(৪২) ও সাদ্দাম(৩৫)। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানা এলাকা হতে ট্রাকে লবণ বোঝাই করে ঢাকার মিরপুরে যাচ্ছিল। তারা লবণের বস্তা ও ট্রাকের ভিতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে ইয়াবা নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করত। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ জানা যায়, ফজলু জব্দকৃত ট্রাকের চালক। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঢাকার কেরানীগঞ্জের এক ইয়াবা ডিলারের ইয়াবা পরিবহন করে আসছে। ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের আড়ালে মূলত ইয়াবা পরিবহন করে থাকে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারী সকালে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হিরাঝিল এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পায়ুপথে ২২শ পিস ইয়াবা বহনকারীসহ একই পরিবারের তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে র‌্যাব ১১’র একটি আভিযানিক দল। আটককৃতরা হলেন বিল্লাল, তার স্ত্রী লিপি ও তাদের ছেলে অয়ন। আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবত টেকনাফ এবং কক্সবাজার থেকে পাযুপথে বিশেষ পদ্ধতিতে ইয়াবা বহন করে এনে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। আটককৃত বিল্লালকে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে তার পেটের ভেতরে ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরে সে পায়ুপথ দিয়ে পেটের ভেতরে রাখা ২২শ’ পিস ইয়াবা বিশেষ কৌশলে বের করে দেয়। এ সময় তার বাসায় তল্লাশি করে আরো ২শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদক পাচারের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বিল্লালের স্ত্রী লিপি ও ছেলে অয়নকে আটক করা হয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *