অপ্রতিরুদ্ধ কাশিপুরের শ্যামল!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কারো কাছে তিনি হাজী শ্যামল হিসেবে পরিচিত আবার কারো কাছে দর্জি শ্যামল। তার পুরো নাম আনিসুর রহমান শ্যামল। কাশিপুর এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবেও তাকে অনেকে চেনে এবং জানে। নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগি সংগঠন যুবলীগের একজন নেতা হিসেবেই তিনি এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। আর তাকে পরোক্ষ ভাবে শেল্টার দিচ্ছেন স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি। বিভিন্ন সময়েই নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগ উঠে আসছিলো এই বিতকির্ত ভূমিদস্যু শ্যামলের বিরুদ্ধে। তবে, প্রশাসনের সাথে সুসম্পর্ক থাকার কারণে তার একটি ক্যাশও স্পর্শ করতে পারেনি পুলিশ। হাজী শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামলের রয়েছে নিজস্ব একটি বাহিনীও। এই বাহিনী দ্বারা মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতাসহ সকল প্রকার অপকর্মই করিয়ে থাকে। এই বাহিনীর অন্যতম হচ্ছে কাশিপুরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বসায়ী টুকু ও কোপা ইকবাল। শ্যামল যে শুধু ভূমিদস্যুতাই করেন তা নয়, তিনি অটো রিকশা থেকে চাঁদাবাজিও করেন। আর এমন অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় এই শ্যামলসহ চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কতক অটো রিকশাচালক ও মালিক। তাদের পক্ষে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন  ফতুল্লার পঞ্চবটির চাঁদনী হাউজিংয়ের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন।

অভিযোগে শ্যামলের পাশাপাশি আরও অভিযুক্ত করা হয়েছে, কাশিপুরের খোক, শাহীন এবং পঞ্চবটির গুলশান রোড এলাকার হুমায়ূন সিপাহীকে। অভিযোগকারীর দাবি, শ্যামল ও তার এই লোকজন কাশিপুর দিয়ে চলাচলরত অটো রিকশা থেকে প্রতিদিন ১‘শ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করেন। এছাড়াও ‘ফতুল্লা থানা রিক্সা মালিক ও চালক কল্যাণ সমবায় সমিতি’ নামে প্লেট বাণিজ্য করছে এই চক্রটি। এদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি আমাজ হোসেন লিখিত ওই অভিযোগটি দায়ের করলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপ-পরিদর্শক প্রবীরকে দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু তিনি নির্যাতিতদের পক্ষে না গিয়ে অবস্থান নেন অভিযুক্ত চাঁদাবাজ হাজী শ্যামলের। সূত্র বলছে, এসআই প্রবীর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো তাদের পক্ষ নেন এবং অভিযোগ দায়েরকারীদের থানায় ডেকে নিয়ে আসেন ব্যাপারটি শ্যামলদের সাথে মিটমাট করার জন্য। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক হইচই। জানা গেছে, ওসি মঞ্জুর কাদেরের নির্দেশনাকে অমান্য করে অপরাধীদের নিয়ে থানার ভেতরই সমঝোতা করার মধ্যস্থতা করেন প্রবীর। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। একই সাথে এসআই প্রবীরের কা-ে হতাশ হয়েছেন অভিযোগকারীরাও। যদিও এসআই প্রবীর সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সমঝোতা নয়। সমস্যা জানতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। ওসি স্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের কিন্তু তখন তাদের পাইনি। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের জানান, আমি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছি। কোনো সন্ত্রাসীর সঙ্গে আপোষের কথা এসআই প্রবীরকে বলিনি। আমার কথা অমান্য করলে আমি ঊর্ধ্বতন অফিসারদের জানিয়ে এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করবো। এদিকে অভিযুক্ত হাজী শ্যামলের বক্তব্য গ্রহণের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও তা সচল পাওয়া যায়নি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, কোপা ইকবাল জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মাদকের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। তাছাড়া তিনি যুবদল করেন আর শ্যামল যুবলীগ করেন। তাদের বাড়ি পাশাপাশি হলেও দুজনের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে, এক সময় তারা দুজনই একটি গার্মেন্টে কাজ করতেন বলে স্বীকার করেন তিনি। এর বাইরে শ্যামলের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রসঙ্গত, হোসিয়ারীতে দর্জি শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া সেই শ্যামল এখন অঢেল ধন সম্পদের মালিক। যদিও তার নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা বা কাজ নেই। তারপরও তিনি এখন কোটি কোটি টাকা মালিক। কিন্তু এত অর্থবিত্ত তার কোথা থেকে আসলো? এ নিয়ে এলাকাজুড়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। যদিও স্থানীয়রা বলছে, প্রথমমত ভূমিদস্যুতা, দ্বিতীয়ত মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত সে। স্থানীয় একজন এমপির লোক হিসেবেই এই শ্যামল নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এমনকি কাশিপুর ইউনিয়ণের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরিই শ্যামলকে শেল্টার দিয়ে থাকেন বলে তারা জানান। আর এ কারণেই শ্যামল অপ্রতিরুদ্ধ কাশিপুর অঞ্চলে। অনেকের কাছে সে একজন মুর্তমান আতঙ্কও। স্থানীয়দের মতে, কাশিপুরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইকবাল, কুটু ও সুইমকে সরাসরি শেল্টার দিয়ে থাকে হাজী শ্যামল। বলা হয়ে থাকে তারা যে মাদকের ব্যবসা করে তা শ্যামলই নেপথ্য গডফাদার। আর এসব কারনেই রাতারাতি দর্জি শ্রমিক থেকে অঢেল ধনসম্পদের মালিক হতে পেরেছেন আনিসুর রহমান শ্যামল ওরফে হজী শ্যামল ওরফে দর্জি শ্যামল।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *