না’গঞ্জে গণপরিবহনের নৈরাজ্যে যাত্রীরা অসহায়

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ ফিটনেস বিহীন ও অদক্ষ চালক দিয়ে নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহন গুলো চলছে। আর অদক্ষ চালক হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহনে হয়রানি বেড়েই চলেছে। কমার কোনো লক্ষণ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই নৈরাজ্য এখন আর কমার অবস্থায়
নেই। জানাগেছে, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে নেই নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টর! এখন রাজনৈতিক নেতাদের কব্জায় পরিবহন খাত। অর্থাৎ পরিবহনে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। এ খাতে চলমান নৈরাজ্যের নেপথ্যে অনেকাংশেই রাজনৈতিক প্রভাবকেই দায়ী করা হয়। স্থানীয় এমপিসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতা, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানায় বেশিরভাগ পরিবহন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৬০ ভাগ পরিবহন এখন ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণে। এই প্রেক্ষাপটে বাস সড়ক দূর্ঘটনা বা ট্রাফিক আইন না মানার ক্ষেত্রে দন্ড দেয়া হলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের শেল্টার থাকায় পরিবহন শ্রমিকরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সড়ক দখল করাসহ নিজ ইচ্ছে মত বাস চালাচ্ছেন চালকরা। এর ফলে নারায়ণগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যানজটের নগরীতে পরিনিত হচ্ছে। প্রকৃত পরিবহন এক ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ কালে নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ টু ঢাকা যে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তা তুলনামূল অনেক বেশি। কিন্তু বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদা দেয়সহ ক্ষমতাসীনদের দখলে পরিবহন সেক্টর থাকায় তারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে। আর এব্যাপারে যাত্রী লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করছে না। অনুসন্ধানে জানাগেছে, বন্ধন, উৎসব ও বন্ধু পরিবহনে প্রায় ৫০ শতাংশ যথাযথ কাগজ-পত্র ছাড়াই সড়কে চলাচল করছে। আর অদক্ষ চালকে চলছে আনন্দ পরিবহন। এর ফলে নারায়ণগঞ্জে আনন্দ পরিবহনে সবচেয়ে বেশি দূর্ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও ফতুল্লার পাগলায় আনন্দ পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্টো -১১-৪০৬২) একটি অটো রিকশাকে চাপা দিলে
ঘটনাস্থলেই অটো রিকশার চালক কামাল (৩৫) নিহত হন। দূর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা গাড়িটি ভাংচুর করে এর চালক রবিউল আউয়ালকে গণধোলই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। এর আগেই আনন্দ পরিবহনের চাপায় অসংখ্য প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, ফিটনেস ছাড়াই চলছে বাধন, দূরন্ত ও শীতলক্ষা পরিবহন। ফিটনেস না থাকলেও দাপটের সাথে চলছে এই পরিবহনগুলো। আর এসি বাস সার্ভিস শীতল পরিবহনের শ্রমিকারাও আইনকে তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মত সড়কে চলাচল করছে। অন্যান্য পরিবহনের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে শীতল পরিবহন। যেখানে বিআরটিসর এসি বাসের তুলনা ভাড়া অনেক বেশি আদায় করা হচ্ছে। আর হিমাচল পরিচনেও যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে সড়কে চাষাড়া
টু মুক্তরপুর, চিটাগাং রোড ও সাইনবোর্ডে চালু হয়েছে লেগুনা হিসেবে পরিচিত পরিবহনগুলো। আর এই পরিবহনগুলো অবৈধ স্ট্যান্ড ও পাকিংয়ের কারণে শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অদক্ষ চালক ও শিশুরা চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জানাগেছে, এসকল লেগুনা থেকে প্রতিদিন জিপির নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর এই চাঁদার অংশ পাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাসহ ট্রাফিক বিভাগের
পুলিশ সদস্যরা। যার ফলে চাষাড়ার মোড়ে লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেন কোন প্রকার উদ্যোগ নিচ্ছেন না ট্রাফিক পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহনের সংখ্যাকত তা না গুনে বলা সম্ভব নয়। ফলে রাত হলেই সমগ্র শহর পরিবহণ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ ব্যপারে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রুট পারমিট আমাদের কাছ থেকে নেয়া হয় না। ঢাকা থেকে রুট পারমিট দেয়ার ফলে যেখানে
সেখানে পরিবহন স্ট্যান্ড করে বাসগুলি চলছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *