উপজেলা নির্বাচনেও চলছে নাটকীয়তা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি দলটি নির্বাচন বয়কট ও জাতীয় পার্টি দলটির নির্বাচনে অনীহা প্রকাশে একেবারে একমুখি নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। যেকারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য নির্বাচনে বিজয়ের পথে একমত্র দলীয় মনোনয়নের গন্ডি পার করতে পারলেই চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। এদিকে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নির্ধারণ করা হলে মনোনয়ন বঞ্চিতরা দ্বন্দ্ব কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। তবে নৌকার মনোনয়ন প্রাপ্তরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহীতা করলে বর্তমান সংসদ সদস্যদের সাথে তাদের টানাপোড়নের সম্পর্ক তৈরি হয়। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান এমপিদের সমর্থন দিয়ে মাঠে ছিলেন। যেকারণে এই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দিকে এমপিদের সমর্থন রয়েছে। এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হতে বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে আতাঁত করছে। এতে করে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে এই নির্বাচনে। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে এ জেলার সোনারগাঁও, আড়াইহাজার ও রুপগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। নারায়ণগঞ্জের তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী শাহজাহান ভূইয়া, আড়াইহাজারে পেয়েছেন মুজাহিদুর রহমান হেলু সরকার, সোনারগাঁয়ে পেয়েছেন মোশারফ হোসেন। অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিতরা নৌকার প্রার্থীদের ছাড় দিতে নারাজ। যেকারণে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন। আর তাতে করে দ্বন্দ্ব কোন্দল সহ সংঘর্ষের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থকে এস আলম আম প্রতিক, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে মো: শাহজাহান ভূইয়া নৌকা প্রতিক এবং বিদ্রোহী প্রার্থী মো: তাবিবুল কাদির তমাল আনারস প্রতিক পেয়েছেন। আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামীলীগ থেকে মুজাহিদর রহমান হেলো সরকার নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইকবাল হোসেন মোল্লা আনারস প্রতিক পেয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন নৌকা প্রতিক পেয়েছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম ঘোড়া মার্ক পেয়েছেন। এদিকে প্রতীক বরাদ্ধের সময় গণমাধ্যম কর্মীদের দেয়া এক প্রতিক্রিয়ার আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইকবাল হোসেন মোল্লা বলেছেন, ‘‘পৃথিবীর এমন কোন শক্তি জন্ম নেয় নাই আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে। যদি কেউ হস্তক্ষেপ করে তাহলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। অন্যান্য উপজেলায় যাই হোক না কেন আড়াইহাজার উপজেলায় কিছু করতে পারবে না। এমন কোন মায়ের ছেলের জন্ম নেয় নাই। যদি কেউ কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে আমি মেরে ফেলবো সব।’’ অন্যদিক সোনারগাঁওয়ের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দিয়ে জনপ্রতিনিধি ফোরাম গঠন করা হয়েছে। আর এই ফোরামের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহিরুল হক। এছাড়া ইউনিয়র পরিষদের অসংখ্য নেতাকর্মীরা এই ফোরামে রয়েছেন। তারা সকলে মিলে জনপ্রতিনিধি ফোরামের ব্যানারে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামকে সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তারা সকলেই আওয়ামীলীগের দলীয় সমর্থনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে গত ৪ মার্চ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম প্রথমে মনক্ষুন্ন হয়ে তার ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেয়। এবং পরে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৪ মার্চ মনোনয়ন পত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে এই নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ষোলয়ানা পূর্ণ করে। তবে মনোনয়ন পত্র জমাদান কালে কালাম সমর্থকদের সাথে নৌকার প্রার্থী মোশারফ হোসেন সমর্থকদের সংঘর্ষ দেখা দেয়। এরপর গত ১৫ মার্চ ফের এই দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ। আড়াইহাজার উপজেলায় মনোনয়ন পাওয়া হেলো সরকার মূলত ইকবাল পারভেজের ঘনিষ্ঠজন যিনি জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান এমপি বাবুর প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অন্যদিকে এমপি বাবুর পক্ষে তার ভাগ্নে ইকবাল নির্বাচনী কাজ করায় এবার উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্য তাকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে। এদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সোনারগাঁ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে জাপা প্রার্থী এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে নির্বাচনে মাঠে নামেন। যেকারণে উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান মেয়াদে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার পছন্দ ছিল উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে। রূপগঞ্জের বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর পছন্দ ছিল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লাকে। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়াকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তিনি মূলত গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর ফলে মন্ত্রী গাজীর সাথে তার টানাপোড়নের সম্পর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে বেশ নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একদিকে বিএনপি দলটি নির্বাচনে বয়কট; অন্যদিকে জাতীয় পার্টি দলটির অনীহা। এর ফলে ফাঁকা মাঠে আওয়ামীলীগ দলটির প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের মধ্যে উত্তপ্তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এমপি থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষণে ক্ষণে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বেশ নাটকীয়তা দেখা দিচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *