প্রধানমন্ত্রী উড়াল সড়ক ও শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধন করলেন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের ভুলতার উড়াল সেতু ও কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। ফলে শুরু হলো এ দুটি সেতুর যানবাহন চলাচল। গতকাল শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ দুটি সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নাম শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে মিলিয়ে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নামকরণ করার আহবান জানান। এদিকে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সদর-বন্দর আসনের এমপি সেলিম ওসমান, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান, সোনারগাঁ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সহ আওয়ামীলীগ নেতা, ব্যবসায়ী নেতা সহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ভুলতার উড়াল সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছেলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ও রূপগঞ্জ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী সহ মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবো আমি কথাও দিয়ে ছিলাম। কিন্তু মন্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় সেটা হয়নি। তার চিকিৎসা চলছে। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আরোগ্য লাভের জন্য। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুক। সেতুটি দেখতে যাবো। তিনি আরো বলেন, আরো দুটি সেতু হচ্ছে। মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে। ব্যবসা বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহ ভালো হবে। যানজট কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেঘনা ও গোমতী নদীর ওপর হওয়ায় নদীর নামে সেতু হয়েছে। তাহলে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপরে যখন তখন শীতলক্ষ্যা সেতু বলবো না কেন?। এটার নাম শীতলক্ষ্যা সেতু হতে পারে। কাঁচপুর সেতু যেখানে আছে সেটা থাকবে। তবে নতুনটার নাম শীতলক্ষ্যা সেতু হলে নারায়ণগঞ্জবাসী মন খারাপ করবে না তো। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সহ এমপিরা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নামের পরিবর্তে শীতলক্ষ্যা দ্বিতীয় সেতু নামে সমর্থন করেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। রূপগঞ্জের ভুলতা উড়ার সেতুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উড়াল সেতু হওয়ায় ঢাকার আরো কাছে হয়ে গেছে রূপগঞ্জ। যেখানে মন্ত্রী দিয়েছি সেখানে আরো উন্নয়ন হবে। এসময় রূপগঞ্জ থেকে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ৩৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪ লেন বিশিষ্ট তৃতীয় তলা ভুলতা ফ্লাইওভার একটি মেগা প্রকল্প। এতে করে এখানকার যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। কমবে সাধারন মানুষের ভোগান্তিও। স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলার ভুলতা এলাকায় রয়েছে দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তহম পাইকারি কাপড়ের বাজার ‘গাউছিয়া মার্কেট’। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ভুলতা ফ্লাইওভারটির একপাশ উদ্বোধন শেষে খুলে দেওয়া হলে যানজট নিরসন হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে সারাদেশের এ উপজেলার সাথে সারাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়বে। ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সড়ক নির্মাণ হওয়ার কারণে এ এলাকায় জমির দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুন। পরিবহন শ্রমিকেরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা এলাকায় যানজট তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এক ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। ভুলতা ফ্লাইওভারের কাঞ্চন-মদনপুর লেনের উদ্বোধন হলে যানজট অনেকাংশে যাবে বলে তিনি মনে করেন। এতে করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।এ ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন হলে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম সহ দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ সহ উত্তর পশ্চিমাঞ্চল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা জনগণের যাতায়াত ও পন্য পরিবহন দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ হবে। জানা গেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে ২৪০কোটি টাকা ব্যায়ে ৪ লেন বিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সেতুটি নির্মাণে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করেছিল সরকার। কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুণর্বাসন প্রকল্পের পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দুটি প্রধান নগর রাজধানী ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এতে অতিক্রম করতে হয়েছে শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদী। ফলে ১৯৭৭, ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদীর উপর দিয়ে নির্মাণ কারা হয় ৪ লেন বিশিষ্ট কাঁচপুর সেতু এবং ২ লেন বিশিষ্ট মেঘনা ও গোমতী সেতু। দেশের অর্থনৈতিক লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত এ মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ফলে যানবাহনকে ধারণ কার জন্য মহাসড়কে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু সেতু তিনটি অসমর্থ্য হওয়ায় সারা বছরই যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। তাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু, মেঘনা দ্বিতীয় সেতু ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। এর মধ্যে মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাফিউল ইসলাম বলেন, চার লেনের কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটির ভিত্তি কংক্রিটের ঢালাইয়ের হলেও পাঁচটি পিলারের ওপর নির্মিত নতুন এ সেতুটি স্টিল গার্ডারের। ১০০ বছরের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে নির্মাণ করা সেতুটির প্রধান ঠিকাদার ছিল যৌথভাবে জাপানি চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান-ওবায়শি, শিমিজু, জেএফআই ও আইএইচআই। আর সেতুর উপ ঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় ১ হজার ২১৫ কোটি টাকা। মোট ব্যায়ের ৭৫ ভাগের জোগান দেয় জাইকা। আর ২৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয় বাংলাদেশ সরকারের। নতুন এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৭ দশমিক ৩০ মিটার। প্রস্থ ১৮ দশমিক ১ মিটার।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *