মহানগর বিএনপির বৈঠকে হট্টগোল

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সারাদেশেই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন জেলার কমিটি পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করার আলোচনা চলছে। গত ১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাদের নিয়ে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেই সভা শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি। সভায় উপস্থিত থাকা নেতারা একে অপরের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, শওকত হাসেম শকু ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সভায় উপস্থিত থাকা এক নেতার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সভাপতি আবুল কালামের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির সাথে সম্পৃক্ততা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিস্ক্রীয়তা ও দলীয় কর্মসূচিতে নিস্ক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলেন। এসকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবুল কালাম বলেন, আমার সাথে যারা থাকে তারা কেউ জাতীয় পার্টি করে না। তবে জাতীয় পার্টির এমপির সাথে তাদের উঠাবসা হয়ে থাকে। কারণ তারা জনপ্রতিনিধি। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন স্বার্থে তারা জাতীয় পার্টির এমপির সাথে চলাফেরা করে থাকেন। এছাড়া তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ায় দায়িত্ব হচ্ছে কেন্দ্রের। সেক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই। আমি তো আর তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করছি না। তিনি আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমি ও আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিলাম, তাই বন্দরে অনুষ্ঠিত হওয়া মহাসচিবের সভাতে উপস্থিত থাকতে পারি নাই। তবে আমার পক্ষ থেকে সেক্রেটারী এটিএম কামাল ঠিকই উপস্থিত ছিলেন। আমি প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকি। এজন্য আমাকে বিভিন্ন সময় দেশের বাইরে থাকতে হয়। এটা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জানতেন। সেই জন্য মাঝে মাঝে কোন কোন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারি না। আবুল কালাম আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি হওয়ার পর ৫ মাস আমাদের মধ্যে কোন বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়নি। যখনই সাখাওয়াত হোসেন আলাদা হয়ে যান তখনই মহানগর বিএনপিতে বিশৃংখলা দেখা দেয়। দলের মনোনয়ন যে কেউ চাইতেই পারে। তবে এজন্য আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে হবে, সেটা তো কোন নিয়ম হতে পারে না। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, আপনি মহানগর বিএনপির অন্য ব্যানারে গিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। এটা তো গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ। একটি কমিটি থেকে দুই তিনজন মনোনয়ন চাইতেই পারে। কিন্তু এজন্য কমিটির বাইরে গিয়ে কর্মসূচি পালন করতে হবে সেটা তো ঠিক না। এটিএম কামালের এই অভিযোগে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর শওকত হাসেম বলেন, দলের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ আমি করি নাই। আমি একজন জনপ্রতিনিধি। তাই এলাকার স্বার্থে আমাকে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সাথে কাজ করতে হয়। আপনারা সকলেই জানেন, দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ রয়েছে। আমি দলের জন্য গুলি খাইছি। ১৬ জুনের বোমা হামলায় সকলকে অব্যাহতি দিলেও আমাকে এখন পর্যন্ত অব্যাহতি দেয়া হয়নি। সুতরাং আমাকে অনেক ভেবে চিন্তে কাজ করতে হয়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *