নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বির্তকিরা পেলেন ‘দল গুছানোর’ দায়িত্ব!

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সবাইকে নিয়ে দল গুছানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (?) জেলা বিএনপির পাঁচ নেতার ছড়ানো তথ্যে এমনই জানা গেছে। তবে, প্রশ্ন উঠেছে যারা দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বেঁধে দেওয়া সময় পার করার পরও দল গুছাতে পারেনি একই সাথে আংশিক কমিটিকেও পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি তারা কীভাবে দল গুছাবে? এছাড়াও তারেক রহমানের বরাত দিয়ে তারা যে বক্তব্য ছড়িয়েছে তাতে নতুন কোনো মেসেজ তৃণমূলের জন্য ছিলো না বলেই দাবি করেছেন অনেকে। একই সাথে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আদতে কী তারেক রহমান কাজী মনির, মামুন মাহমুদ, জাহিদ হাসান রোজেল, রুহুল আমিন সিকদার ও লূৎফর রহমান খোকার সাথে দেড়ঘণ্টা ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছিলেন কিনা। সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও তিন সাংগঠনিক সম্পাদককে ডাকা হয়েছিলো। কিন্তু ওই ডাকে বলা হয়নি, কেন ডাকা হচ্ছে। কেন্দ্র ডেকেছে মেসেজ এটুকুই ছিলো। তবে, কেন্দ্রের ডাকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, এক সাংগঠনিক সম্পাদক যেতে পারলেও অপর দুই সাংগঠনিক সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে একটি গণমাধ্যম সূত্রে অনেকেই জানতে পেরেছে তারেক রহমান পাঁচজনের সাথে কথা বলেছেন দেড়ঘণ্টা (?) এবং এই দেড়ঘণ্টার মেসেজের মধ্যে একটাই ছিলো ‘সবাইকে নিয়ে দল গুছানোর নির্দেশ।’ এদিকে যখন জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে চরমভাবে ক্ষুব্ধ দলটির তৃণমূল তখন এ দলের পঞ্চপা-ব দাবি করেছিলেন পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ওই ভিডিও কনফারেন্স বৈঠক হয়েছে। তবে, কেন্দ্রীয় সূত্রগুলো বলছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পাঁচ নেতার সাথে দেড়ঘণ্টা বৈঠকের প্রশ্নই আসে না। তবে বৈঠক হয়েছে অথবা হলেও কতক্ষণ হয়েছে সেটি মূখ্য না হলেও বৈঠকের সূত্র ধরে এখন বির্তক উঠেছে, দলের এই দুঃসময়ে তারেক রহমান নতুন কোনো মেসেজ না দিয়ে বিতর্কিতদেরকেই দল গুছানোর কথা বলেছেন, এ নিয়ে হতাশ হয়েছেন অনেকেই। সূত্র বলছে, যারা দুই বছর পূর্বে আংশিক কমিটি পেয়েছিলেন টাকা ব্যয় করে। এরপর তারাই কমিটি হাতে পেয়ে সর্বত্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদেরও বাদ দিয়েছেন। এমনকি কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ২৬ সদস্য থেকে উন্নতি করতে পারেননি। এরমধ্যে দুই বছর মেয়াদী কমিটির মেয়াদও শেষ। তাহলে সেই তাদের মতো ব্যর্থদের কীভাবে দল গুছানোর নির্দেশ দিতে পারেন তারেক রহমান? তৃণমূল প্রশ্ন করছেন, দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক হচ্ছে তারেক রহমান। তার কাছে যদি তৃণমূলের আশ আকাক্সক্ষার কথা না পৌঁছায়। এবং যারা বিতর্কিত তাদেরকেই তিনি নেতৃত্বে রাখেন তাহলে এই দলটি বর্তমানে যেই খাদের কিনারে রয়েছে সেখান থেকে উঠে আসবে কী করে? সূত্র বলছে, কাজী মনির ও মামুন মাহমুদের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরেই হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলছে। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাদের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। এই কমিটি থেকে ইতোমধ্যে সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম পদত্যাগ করেছেন। বাকী রয়েছে ২৫ জন। আর এই ২৫ জনের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এমনকি তৃণমূল বিমুখ এই কমিটি একটি মাত্র সাংগঠনিক সভা ছাড়া আর কোনো সভা করতে পারেন। শুধু তাই নয়, আংশিক কমিটি গঠনের দুই বছর পার হলেও তারা এখনও পর্যন্ত নিজেদেরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি। একই সাথে বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ণ কমিটিগুলোও তারা গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও দুই বছরের মাথায় তড়িঘড়ি করে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে কিন্তু এখানেও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে কাজী মনির ও মামুন। অভিযোগ রয়েছে, শিল্পপতি শাহ আলমকে খুশি করতে তার অনুসারিদের মাধ্যমে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। মূলত এই কমিটি গঠন হয়েছে শাহ আলমের প্রেসক্রিপশনে। যার ফলে কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাও। আর স্থান পেয়েছেন শাহ আলমের আত্মীয় স্বজনসহ কর্মচারীরা। তৃণমূল বলছে, দলের এই দুঃসময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের চাওয়া থাকবে যারা তৃনমূলের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলে এমন কাউকেই জেলা বিএনপির দায়িত্ব দেয়া হউক। শুধু তাই নয় সেখানে বিএনপি ছাড়া কোনো ভাইয়ের রাজনীতি চলবে না। আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আর অনেক নেতা পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করে, অনেকে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান জাহির করে, আবার অনেকে ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করে চলে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের বকাঝকা দেয়। তারা বলছেন, বর্তমানের জেলা বিএনপি চরমভাবেই ব্যর্থ হয়েছে দল গুছাতে। ফলে এই কমিটি দিয়ে আর কিছু আশা করা যায় না। তাই এই কমিটি বিলুপ্ত করে যোগ্য ব্যক্তির হাতে দলটির নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হোক।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *