না’গঞ্জে ক্ষমতাসীনদের প্রতিপক্ষ আ’লীগ!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েই চলছে। বিগত ২০১১ সালে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শামীম-আইভী দুই
মেরুতে অবস্থানের পর উভয়ের কর্মী সমর্থকরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তিতে ত্বকী হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে শামীম-আইভীর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
রূপ নেয়। এনিয়ে উভয় পক্ষকে সংযত আচরনসহ ঐক্যবদ্ধ ভাবে
নারায়নগঞ্জে রাজনীতি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে
ডেকে নিয়ে সমঝোতার পথ সৃষ্টি করলেও এক পক্ষ অপর পক্ষকে
আকাঁরে ইঙ্গিতে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখা অব্যাহত রাখে। গত নাসিক
মেয়র নির্বাচনে শামীম ওসমান মেয়র আইভীর পক্ষে কাজ করার
ঘোষনা দিলেও পরিস্থিতি তেমন উন্নতি ঘটেনি। শুধু তাই নয়, প্রয়াত
সাংসদ নাসিম ওসমানের আসন থেকে ২০১৪ সালে উপ নির্বাচনে সেলিম
ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিক বার শামীম ওসমান ও
সেলিনা হায়াত আইভীকে এক টেবিলে বসার চেষ্টা চালিয়েছেন। এমনকি
নাসিকের গত বছরের বাজেট অধিবেশনে সেলিম ওসমান উপস্থিত হয়ে
মেয়র আইভীকে সকল প্রকার সহায়তার ঘোষনা দেন। এরপরও গত
বছর জানুয়ারিতে হকার ইস্যুতে আইভীর সমর্থকদের সাথে শামীম
ওসমানের সমর্থকদের সংঘর্ষে মেয়র আইভী আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি
আরো ঘোলাটে হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি শামীম আইভীর
বিরোধ নিরসনে চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। সর্বশেষ গত ২ মার্চ শামীম
ওসমান জনসভায় আকাঁরে ইঙ্গিতে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার
পর মেয়র আইভী ত্বকি মঞ্চের সমাবেশে প্রকাশ্যে ওসমান পরিবারকে
খুনি পরিবার হিসাবে আখ্যায়িত করার পর অবস্থার অবনতি ঘটে।
অবশেষে গত মঙ্গলবার আইভীর বিরুদ্ধে জামাত-বিএনপির সাথে সখ্যাতা
ও সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার অভিযোগ এনে নাগরিক সমাজের
ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর জেলা প্রশাসকের নিকট স্বারকলিপি প্রদান
করে। এই ঘটনার পর অনেকটা প্রকাশ্য বিভক্তি হয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ
জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ। এরই মধ্যে গতকাল একটি অনলাইন

পোর্টাল আইভীর বিরুদ্ধে ফেসবুকের আপত্তিকর ছবি সম্বলিত সংবাদ
আপলোড করে মূলত: এ দ্বন্দ্বকে আরো উস্কে দেয়। অবস্থা এখন এমন
পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শত্রু এখন খোদ
আওয়ামীলীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যে অবস্থা শুরু হয়েছে
তাতে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির বিরোধী করার জন্য
বিরোধী দলের প্রয়োজন নেই। রাজপথে এখন আর বিএনপির
নেতাকর্মীদের তেমন একটা দেখা যায় না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর
নারায়ণগঞ্জের রাজপথ এখন ক্ষমতাসীন দলের দখলে। আওয়ামীলীগ
নেতাদের দাপটে রাজপথে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে না পেরে
বিএনপির অনেক নেতা রাজনীতি থেকে ইউটার্ন দিয়েছেন। তবে
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতারা রাজপথে না থাকলেও বর্তমানে
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামীলীগই। উপজেলা
নির্বাচন, বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার লড়াইসহ নানা করণে
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে গ্রুপিং এখন আরো বাড়ছে।
আওয়ামীলীগের নেতারাই এখন আওয়ামীলীগ নেতাদের ঘায়েল করতে
মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে দলের মধ্যে বিভাজন যেমন বাড়ছে
তেমনই ক্ষমতাসীন দলের বিবধমান নেতাদের মধ্যে দুরত্ব দিন দিন
বেড়েই চলেছে। জানাগেছে, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয়
প্রতীক ইস্যুতেও দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হওয়ায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের
আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের
মধ্যে হাতাহাতি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আড়াইহাজারে
এমপির সমর্থকদের দাপটে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী এখন এলাকা ছাড়া
বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক নেতা-কর্মী অভিযোগ করেছেন,
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে যে অপরাজনীতি শুরু হয়েছে তার শেষ হবে
হয়তো বিয়োগান্তক কোন ঘটনার মধ্যদিয়ে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে
আওয়ামীলীগের সাংসদ শামীম ওসমান ও তার পরিবারকে নিয়ে
বিষোদগার করে চলেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পেরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। শামীম-
আইভীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের
পর এই প্রথম প্রকাশ্যে আইভী বিষোদগার শুরু করেছেন ওসমান
পরিবারকে নিয়ে। তবে আওয়ামীলীগ বিরোধীদের সাথে নিয়ে মেয়র

আইভী আওয়ামীলীগের একজন সাংসদের বিরুদ্ধে করা এমন মন্তব্য ভাল
চোখে দেখছেন না মাঠ পর্যায়ের আওয়ামীলীগের সাধারণ নেতা-কর্মীরা।
এছাড়াও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের
মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এরই মধ্যে গত দুই মাসে আওয়ামীলীগ নেতাদের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের
রাজনীতিতে চেইন অব ভেঙ্গে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,
বর্তমানে আওয়ামীলীগের সুসময় চলছে। আর এই সুসময়ে অতিথি
পাখিদের আনাগোনা বেড়েছে। এসকল অতিথি পাখিরা বিভিন্ন সেক্টর
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জে
আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়তে পারে। আর এমন
অবস্থা চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জে ত্যাগী নেতারা আওয়ামীলীগের
রাজনীতি থেকে নিস্ক্রীয় হয়ে পড়তে পারে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
আর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে দুর্বল করতে যারা পিছন থেকে ইন্ধন
যোগাচ্ছে তারা এখন ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে ক্ষমতাবান বলে মাঠ
পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মনে করেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *