না’গঞ্জে রাজনীতির নামে নোংরামী বন্ধ হবে কি?

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তাপ এখন চরমে। এতে করে দল ক্ষমতায় থাকলেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের এমন অবস্থায় কর্মীরা এখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্ব এখন যে কোন সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। উত্তর-দক্ষিণ মেরুর দ্বন্দ্ব সংঘর্ষের রূপান্তিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। আর এই সংঘর্ষ ঘটলে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখনই কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন। জানাগেছে, গত ১৯ মার্চ বিএনপি-জামাতের সাথে সম্পৃক্ততা, সাগর-রুনি দম্পত্তি ও তনু হত্যাকান্ড সম্পর্কে সরকারকে নিয়ে সমালোচনা এবং ওসমান পরিবার সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য রেখে নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছিল সচেতন নাগরিক সমাজ। যার প্রেক্ষিতে গত ২০ মার্চ মেয়র আইভীসহ তার ঘনিষ্টজনরা পৃখক ভাবে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু গত ২১ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি আপত্তিকর ছবি আপলোড করার হয়। পরবর্তিতে একটি অনলাইনে ঐ আপত্তিকর ছবি দিয়ে নিউজ প্রকাশের পর পরই বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। আর ঐ আপত্তিকর ছবি নিয়েই গতকাল শুক্রবার নারায়ণঞ্জের সর্বত্র আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। তবে গত বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডিতে ঐ ছবিগুলো পোষ্ট করা হলেও গতকাল শুক্রবার অনেক আইডি থেকে পোষ্টগুলো ডিলেট করা হয়েছে। তবে কেন বা কি কারণে পোষ্টগুলো ডিলেট করা হয়েছে তা বিস্তারিত জানা যায়নি। সূত্র বলছেন, বিগত ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানের দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে রূপ নেয়। নির্বাচনের পর মেয়র আইভী বিজয়ী হওয়ার পর সাংসদ শামীম ওসমান তাকে সমর্থন জানালেও বিভিন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কিছু সুবিধাবাদি নেতাদের উস্কানীতে সৃষ্টি হওয়া শামীম-আইভীর দ্বন্দ্ব ২০১৮ সালে হকার ইসুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরবর্তিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে না দেখা গেলেও নির্বাচনের একমাস পরই পুনরায় দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। পাল্টাপাল্টি উস্কানীমূলক বক্তব্যের কারণে উভয় বলয়ের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ ছড়াতে থাকে। আর প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্বারকলিপি প্রদানের পর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এদিকে, রাজনীতির সাথে জড়িত নন এমন সব নগরবাসীর মন্তব্য-নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলে রাজনীতির নামে যে নোংরামী শুরু হয়েছে তা বন্ধে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপসহ নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ নেতাদের দলের ইমেজ রক্ষার স্বার্থে নোংরামীর রাজনীতি বন্ধ করা উচিত বলে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *