বিএনপির মাঠে নামার ঘোষনা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একসময় প্রবল প্রভাব ছিল বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলয়ের। সেই সময় দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা থাকতো। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে তৈমূর বলয়ের প্রভাব কমে আসে। ফলে দলীয় কর্মসূচিতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নিস্ক্রীয়তা চলে আসে। তবে এবার আর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বসে থাকছেন না। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ফের নতুন করে নিজেকে জানান দিবেন। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিজের শক্তির জানান দেয়ার জন্য ঢাক ঢোল পিটিয়ে ও নেতাকর্মীদের বিশাল অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করবেন। সে লক্ষ্যে ২২ মার্চ শুক্রবার বেলা ১১টায় মাসদাইর মজলুম মিলনায়তনে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি প্রস্তুতি সভা করেছেন। প্রস্তুতি সভায় সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খানের এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। প্রস্তুতি সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বক্তাদের সবাই তাদের মনের কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তৈমূূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের রাজপথের কাঁপিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা এসব নেতাদের মাইনাস করেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাগারে তখন কমিটির পদ পদবীওয়ালারা ঘরে বসে রয়েছেন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। এভাবে একটি দল চলতে পারে না। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় সিটি কর্পোরেশনের ভবনের সামনে একত্রিত হবো। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের বিশাল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভ্যান পার্টি নিয়ে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করবো। আমরা ওইদিন দেখাতে চাই পদ পদবী না থাকলেও দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রাম করে হামলা মামলা নির্যাতন সয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এখনও টিকে রয়েছে। মামলায় জর্জরিত রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া এসব নেতারা এখনও হতাশ নয়। আমরা এদিন নারায়ণগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চাই। একই সাথে ৩১ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিকেল ৩টায় শহরের কোন হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোনো হলরুমের ব্যবস্থা করা না গেলে মজলুম মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মুক্ত আলোচনা করবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা ওলামাদলের সভাপতি শামসুর রহমান খান বেনু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, শহর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সুরুজ্জামান, হাজী শাহিন ও যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা সাগর, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এম এইচ মামুন, আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম শিপুল, বিএনপি নেতা কাজী রুবায়েত হাসান সায়েম, অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি নাসির উদ্দীন, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি গিয়াসউদ্দীন প্রধান ও মহানগর ছাত্রদলের সহ সভাপতি সাইদুর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন খান বলেন, আমরা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই শোডাউনের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা আবারও উচ্ছাসিত হবে। প্রত্যেকেই উজ্জীবীত হয়ে উঠবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *