রবিবার | ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ | ৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ | বিকাল ৪:২৯

একক সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে তাবলীগ নিয়ে দ্বন্দ্বের নেপথ্যে

Habib Badal | নভেম্বর ০৭, ২০১৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বেশ কয়েকদিন যাবত নগরীর আমলাপাড়া-ডিআইটি এলাকা বেশ উত্তপ্ত তাবলীগ জামায়াতের দুইটি পক্ষকে ঘিরে। দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি বিবৃতি ও অবস্থান পরিস্থিতিতে সংঘাতময় করে তুলেছে। দুই দফা সংঘাতের পর বতর্মানে উত্তেজনা বিরাজ করছে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে। অন্যদিকে উভয়ে এমন কর্মকান্ডের কারণে সাধারণ মুসুল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত গত বৃহস্পতিবার আমলাপাড়ায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। ওইদিন মসজিদের ভেতর সাপ্তাহিক বয়ান করা নিয়ে তাবলীগ জামায়াতের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলবী অনুসারী ও বিরোধী মুসুল্ল¬ীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে লাঞ্চিত করেছে উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় জিডিও করা হয়। ঘটনার পরদিন গত শুক্রবার নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে মাওলানা আউয়ালের অনুসারী হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ। এদিন মাওলানা আব্দুল আউয়াল হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাদপন্থীরা তাঁর কাছে এসে মাফ না চাওয়া পর্যন্ত অথবা বৃহস্পতিবারের ঘটনার কোন প্রকার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমলাপাড়া মারকাজ মসজিদে তাবলীগ জামাতের সব রকমের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তিনি আরো বলেন, আগামী ২২ তারিখ আড়াইহাজারে সাদপন্থীরা যে ইজতেমার আয়োজন করেছে তা যেন বন্ধ করা হয়, নইলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। এ ঘটনার পর গত সোমবার পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার বাদ মাগরিব অন্যান্য সময়ের মতো বৃহস্পতিবারের বয়ানের কার্যক্রম নিয়ে আলেচনায় বসেন আমলাপাড়া মারকাজ কমিটির লোকেরা। এমন সময় মাওলানা আউয়াল অনুসারী কিছু লোক এসে আলোচনা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় এবং এক পর্যায়ে আলোচনা বন্ধ না করলে হুমকি দিতে থাকে। কিছুক্ষনের মধ্যেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের ফের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম তাঁর ফোর্সসহ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। দুই পক্ষকে বুঝিয়ে নিভৃত করেন। ওসি কামরুল ইসলাম আগামী শুক্রবার দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলে দুই পক্ষকে শান্ত করেন। অন্যদিকে মাওলানা আউয়াল অনুসারীদের এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, আগামী শুক্রবারের আগে মারকাজ মসজিদে তাবলীগের কোন প্রকারের কার্যক্রম করা হবে না। অন্যদিকে মারকাজ মসজিদের সাদপন্থীদের অনুরোধ করেন, শান্তি বজায় রাখার জন্য হলেও অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত যেন তাবলীগের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। সাদপন্থী মুসুল্ল¬ীরা কিছুটা দ্বিমত করলেও শান্তি বজায় রাখতে ওসির কথায় রাজি হন।

দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের নেপথ্যের কাহিনী

নারায়ণগঞ্জের তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম প্রায় ৫৫ বছর যাবত আমলাপাড়া সবগুজারী মারকাজ মসজিদে হয়ে আসছে। মসজিদটি তাবলীগের সদর অঞ্চল বলে পরিচিত। মসজিদ ছোট আর তাবলীগের অনুসারী বেড়ে যাওয়াতে আনুমানিক ১৫/১৬ পছর পূর্বে ফতুল¬ায় দ্বিতীয় মারকাজ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেখানে তাবলীগের জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম চলে। দুইটি মসজিদ হলেও বিগত ৫০ বছর যাবত তাবলীগ জামাতের কার্যক্রমে কোন ব্যাঘাত ঘটে না। এরই মধ্যে হঠাৎ তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি বলে পরিচিত মাওলানা সাদ কান্ধলবীর কিছু বক্তব্য নিয়ে ভারতে বিতর্ক তৈরি হয়। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাবলীগ জামাত দুটি ভাগ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে নারায়ণগঞ্জেও। নারায়ণগঞ্জেও দুটি পক্ষ তৈরি হয়, একটি সাদপন্থী অন্যটি সাদ বিরোধী। ফতুল¬া মারকাজ মসজিদটি সাদ বিরোধীদের তথা আউয়াল অনুসারীদের দখলে চলে যায়। যেখানে কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউসার আহমেদ পলাশেরও প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়। তবে ফতুল¬া মারকাজটি সাদ বিরোধীদের অধীনে চলে গেলেও তেমন কোন ঝামেলা দেখা যায় না। দুই পক্ষে দুই মসজিদে তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম করে যাচ্ছিল। কিন্তু ঝামেলাটা বাঁধে গত ৩১ মে। গত ৩১ মে বহুল বিতর্কিত তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি হিসেবে পরিচিত মাওলানা সাদ সমর্থিত তাবলীগের মুসুলি¬রা ঢাকা থেকে আমলাপাড়া মারকাজ মসজিদে আসবেন বলে গুঞ্জন শোনা যায়। এখানে মুসুলি¬রা যাতে কোন প্রকার বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করতে না পারেন সেজন্য জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল অনুসারীরা কালিরবাজারে অবস্থান নিবেন বলেও শোনা যায়। এ খবর জেলা পুলিশ সুপার পর্যন্ত গেলে পুলিশ সুপার জেলা হেফাজতের আমির মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জরুরি তলব করেন। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে সদর থানার উপ পরিদর্শক শামীম পুলিশের গাড়িতে করে মাওলানা আউয়ালকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এসময় পুলিশের গাড়ির পেছনে মাওলানা আউয়াল সমর্থিত মোটর সাইকেলের বহর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পর্যন্ত যায়। মাওলানা আউয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। এ খবর শুনে আউয়াল সমর্থিতরা ডিআইটি মসজিদের সামনে বিভিন্ন ¯ে¬াগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক (বদলী হয়ে যশোর আছেন) কোন রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেন মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে। এরপর বেশ কয়েকমাস কোন প্রকার ঝামেলা সৃষ্টি হয় না। হঠাৎ করে কয়েকদিন যাবত নতুন করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপিরাইট © দৈনিক ডান্ডিবার্তা, ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসিরউদ্দিন-০১৭১২৫৭৪৯৯০

top