নির্বাচনে পুরোদমে  মাঠে শামীম ওসমান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই পুরোদমে গণসংযোগে নেমেছিলেন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি ও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম ওসমান। ওই সময় তাকে দুপুর থেকে রাত অবধি গণসংযোগে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। তবে অত্র আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণার পরে পাল্টে গেছে শামীম ওসমানের কর্মসূচী। আগে যেখানে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭টি স্পটে শামীম ওসমানের গণসংযোগ কর্মসূচী ছিল বর্তমানে সেটা দেখা যাচ্ছেনা। বরং নিজের আসন নিয়ে নির্ভার শামীম ওসমানের দৃষ্টি এখন মহাজোট মনোনীত প্রার্থীদের জয়ের দিকে। কারণ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে দু’টি আসনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামীলীগ। আর ওই দু’টি আসনের মধ্যে একটিতে শামীম ওসমানের বড় ভাই ও অপরটিতে তার বন্ধু মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।  জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর জাতীয় একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ব্যপকভাবে গণসংযোগে নেমে পড়েন অত্র আসনের বর্তমান আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি শামীম ওসমান। সকাল থেকে রাত অবধি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করতে থাকে শামীম ওসমান। শুধু তিনিই নন তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি ও ছেলে অয়ন ওসমানও গণসংযোগে নামেন। তবে গত ৯ ডিসেম্বর সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো ধানের শীষ পেয়ে যান বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির সভাপতি মুফতী মনির হোসেন কাসেমী। কাসেমী বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দলের হলেও কোনদিনই জেলা পর্যায়ে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন না। বিএনপির কর্মীরাতো দূরের কথা জেলা ও থানা বিএনপির শীর্ষ নেতারাও তাকে চিনেন না। তার বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে দেরী হয়নি নেতাকর্মীদের। কেন্দ্র থেকে কাসেমীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলেও ক্ষোভের অনলে এখনো পুড়ছেন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা। যে কারণে ধানের শীষের কান্ডারী হলেও বিপাকেই রয়েছেন কাসেমী। কারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ৯ দিন অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে পাননি তিনি। এদিকে শামীম ওসমানের ধারনা ছিল বিএনপি হয়তো সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন অথবা শিল্পপতি শাহআলমের হাতে ধানের শীষ তুলে দিবেন। কারণ তারা দু’জনই ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ। দু’জনই একবার করে ধানের শীষের ঝান্ডা হাতে পেয়েছিলেন। যে কারণে শামীম ওসমান ধানের শীষের প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থাকার লক্ষ্যে আগেভাগেই মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুর্বল, ভোটারদের কাছে অপরিচিত হওয়া এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা পাশে না থাকায় বর্তমানে অনেকটাই নির্ভার শামীম ওসমান। বর্তমানে তাঁর দৃষ্টি তাঁর নির্বাচনী আসন লগোয় অপর দু’টি আসনে মহাজোটের মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ের দিকে। যার মধ্যে সদর-বন্দর আসনে লাঙ্গল প্রতীকে  মহাজোটের প্রার্থী হলেন তাঁর বড় ভাই সেলিম ওসমান এবং সোনারগাঁ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা যিনি তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু। ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সমরক্ষেত্রে সেলিম ওসমানের জনসভায় সদর-বন্দর আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরামকে উদ্দেশ্য করে এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, আকরাম সাহেব আপনাকে বলছি এ জেলাতে শুধু আপনি একা জন্ম নেননি। আরো অনেকে জন্ম নিয়েছেন। বিএনপির ভাইদের বলবো কার পেছনে নামবেন। আমি বিএনপির নেতাকর্মীদের বলবো নির্বাচনের পরদিন সকালে আর আকরাম সাহেবকে খুঁজে পাবেন না। তিনি চলে যাবেন উত্তরা ক্লাবে মদ খাতে। মদুদীর কাজ মদ খাওয়া। তাই খোঁচা দিবেন না। ভিমরুলের চাকে খোঁচা দিলে টিকতে পারবেন না। আমাদের গায়ে টোকা খোটাও দিবেন না। ভিমরুল বেরিয়ে আসলে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না। শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরের কয়েকটি স্থান থেকে জঙ্গীদের আটক করা হয়েছে যাদের একটা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে বানচাল করা নির্বাচনকে নষ্টা করা। তিনি আরো বলেন, সেলিম ওসমান উনি একজন ব্যবসায়ী মানুষ। মানুষের সেবা করেছেন। উনি কোন দলমত দেখেন নাই। উনি সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভাল মানুষকে নিয়ে কাজ করলে ভাল মানুষরা সরে যায়না। কিন্তু যারা ধান্দাবাজ যারা রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করেন। তারা সময় বুঝে দল ত্যাগ করে, সরে দাঁড়ায়। সেলিম ওসমান সম্পর্কে বলেন, সেলিম ওসমান বন্দরের উন্নয়নের কাজে অবদান রেখেছেন। তিনি বন্দরের শিক্ষাখাত সহ বিভিন্ন উন্নয়ন করেছেন।  বাংলাদেশে আমি আরেকটা সেলিম ওসমান খুঁজে পাই নাই যে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে উন্নয়নের কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন, কিন্তু আজকে নারায়ণগঞ্জে ও বন্দরে জঙ্গীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এই কথা বলবোনা এখানে সবাই ভাল মানুষ। আওয়ামীলীগের সবাই ভালো, বিএনপিতে সবাই খারাপ। আমি এই কথা বিশ্বাস করিনা। ঠিক তেমনি বিএনপিতে ভাল লোকও আছে। কিন্তু বিএনপি দলটি থেকে যোগ্য ও ভাল লোককে ছুড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আমার দুঃখ লাগে আজকে আবুল কালামের মত লোককে রাজনীতি থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তৈমূর আলম খন্দকারকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। শাহআলামকে মনোনয়ন থেকে ছুড়ে ফেলে একজন জঙ্গীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে যাকে জনগণ কিভাবে চিনবে আমিই নিজেই চিনিনা।  অপরদিকে ১৬ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত বিজয় র‌্যালী উপলক্ষে জনসভায় সোনারগাঁ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। শামীম ওসমান বলেন, আপনাকে সাবধান করে দিলাম, একদম সাবধান! যদি অন্য কোন পথ চিন্তা করে থাকেন, যদি আগের মতো জ্বালাও  পোড়াও করার চিন্তা করেন তাহলে কোন ছাড় হবে না। নারায়ণগঞ্জে কোন খেলা খেলবেন না। ওই টাকা কাজে লাগবে না। খো খেললে, “মা” বলার পর আর “গো” বলার সুযোগ দিব না। কারন এই লড়াই হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের-বিপক্ষের লড়াই। কাউকে কোন ছাড় নাই। তিনি সোনারগাঁ আসনের বিএনপির প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতীয় সংসদ হলো আইন পাশ করার জায়গা। জাতীয় সংসদ সদস্য হতে হলে যোগ্যতার প্রয়োজন। ভালো করে বাংলা ইংরেজি জানতে হয়। এ আসনের বিএনপি প্রার্থীর সেই যোগ্যতা নেই। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, সাবধান, একদম সাবধান। নির্বাচন নিয়ে জ্বালাও পোড়াও করলে ছাড় দেওয়া হবে না। এ লড়াই স্বাধীনতার পক্ষের লড়াই। এ লড়াই করে আমাদের বহুদূর যেতে হবে। আপনারা দেখে শুনে ভোট দেবেন। ঐক্যবদ্ধ থাকেন জয় আমাদের হবেই। একাদশ সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় যাওয়ার নির্বাচন নয়, এ নির্বাচন দেশ বাঁচানোর নির্বাচন। বিএনপির নেতা ড. খন্দকার মোশারফ পাকিস্তানের আইএসের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্রে পাকিস্তান জড়িত। কিছুদিন আগে এ অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। দেশে জামায়াত বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশ বাঁচানো সম্ভব হবে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়সারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দল মহাজোটকে এ আসন ছাড় দিয়েছেন। আমি আশা করি কায়সার ১৮ তারিখের পর এক মঞ্চে লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চাইবেন। দলের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করবেন না। যারা দলের স্বার্থ পরিপন্থি কাজ করবেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *