নারায়ণগঞ্জে থানায় ঢুকে পুলিশকে গুলি করায় জাতীয় পার্টি নেতা গ্রেফতার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত জাতীয় পার্টি নেতা জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানার একজন এএসআইকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় জয়নালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় সদর মডেল থানায় ওই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত জয়নালের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় পৃষ্ঠপোশক হিসেবে মামলা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় জয়নাল সদর থানায় এসে ডিউটি অফিসার এএসআই আনোয়ারকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ভাগ্যক্রমে কর্তব্যরত এএসআই প্রাণে বেঁেচে যান। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত যে থানার ডিউটি অফিসারকে হত্যা করতেই এ কাজটি করেছেন। জয়নালকে এএসআই আনোয়ারকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। জয়নাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ মে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন আল জয়নাল। প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় কাতার প্রবাসীর স্ত্রীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আল জয়নালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখলকৃত জমি থেকে কাতার প্রবাসীর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে উচ্ছেদ করতে নানা ধরনের হুমকি দেয়ার কারণে থানায় সাধারন ডায়েরী দায়ের করেছে। ১০ অক্টোবর দুপুরে ফতুল্লার হরিহরপাড়া গুলশান রোড এলাকার আব্দুল ওহাবের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে আল জয়নালের বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরী দায়ের করে। ফতুল্লায় জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে আম মোক্তার নামা দলিল করে জমি দখলের অভিযোগসহ জামাত শিবিরের পৃষ্ঠপোশকতাকারী জয়নালসহ তার অনুগামী ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতারনা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি রয়েছে। উপেন্দ্র চন্ত্র সাহা বাদী হয়ে মামলা করলে গত ৪ এপ্রিল জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিবাদী আল জয়নাল সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগেও জয়নালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে জামাত শিবিরের পৃষ্টপোষকতাকারী হিসাবে সদর থানায় মামলা হলে ২০১৪ সালের নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওই সময়কার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এ মঞ্জুর কাদেরকে টেলিফোনে পীর জাকির শাহ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে প্রথমবারের মত মামলা হয়। মামলায় ১১ জনকে আসামী করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২০০৯ এর ৬(২)/১০/১৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংগঠন, গোপন ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংঘঠেন পরস্পর সহযোগিতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামীরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে অস্থিতিশীল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিরুদ্ধে গোপন সন্ত্রাসের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। আসামীদের বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোশকতা ও আর্থিক সহায়তাকরী হিসেবে খবিরউদ্দিন, জয়নাল, আলমাস ও ইব্রাহিম সহ অনেকেই সক্রিয়ভাবে সম্পৃকত রয়েছে বলে জানা গেছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *