বিএনপির তালিকা করছেন কাউন্সিলররা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে সরকার দলীয় কাউন্সিলরদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে ওইসব এলাকাতে বিএনপির কোন কোন নেতারা কিংবা সক্রিয় কর্মীরা তাদের তালিকা প্রণয়ন করতে। তাদের প্রথমে বিভিন্ন কৌশলে বুঝানো হবে। যদি সক্রিয়তা থেকে না সরে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মামলা করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাউন্সিলর জানান, আমাকে বলা হয়েছে আমার এলাকার বিএনপির সক্রিয় নেতা কারা আছেন কিংবা এখন মিইয়ে থাকলেও ভোটের দিন কারা কারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে এমন একটি তালিকা দিতে। স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে আমি সেটা দিয়েছি। বাকিটা বলতে পারবো না। প্রশাসন ও সরকার দলের লোকজন পৃথকভাবে এ তালিকা নিয়েছেন।বিএনপির একজন নেতা জানান, তাদের এলাকার কাউন্সিলর তাকে ফোন করে বিএনপির জন্য কোন ধরনের ক্যাম্পেইন না করতে বলেছেন। করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবেও জানানো হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন যাতে বিএনপির লোকজন কোনভাবেই সক্রিয় থাকতে না পারে সেজন্য বিভিন্নভাবে কৌশলগতভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি সমর্থিত একজন কাউন্সিলর জানান, নানা চাপের কারণে আমরাও বাধ্য হচ্ছি সরকার দলের পক্ষে কাজ করতে। আমাদের কাছ থেকেও নিজ দলের সক্রিয় নেতাদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। শুনেছি তাদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশন হতে পারে। বিএনপির নেতারা মাঠে নাই তার পরেও প্রার্থীরা নিশ্চিত হতে পারছেন না বোধহয়।এদিকে নির্বাচনে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে। এই শেষ সময়ে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে তারা চিরুনী অভিযানে নেমেছেন। এতে যোগ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা কেউ তাদের বাসায় থাকতে পারছেন না।অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই সোমবার রাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাসায় হানা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার, তার ছোট ভাই কাউন্সিলর খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেলসহ অনেক নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজা হয়। তবে তারা বাসায় না থাকায় আটক হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন বলে জানান দলটির নেতারা। তবে এই চিরুনী অভিযানে আটকে যান ঐক্যফ্রন্টের জেলার সমন্বয়ক ও গণফোরামের নেতা চুন্নুকে আটক করে পুলিশ।এর বাইরে গত কয়েকদিনের উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে মঙ্গলবার থেকে। সেদিন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ এবং সদর-বন্দর আসনে সরকার দলীয় দুইটি নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোতে মামলা দেয়া হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে। সোনারগাঁয়ে হামলা হয়েছে। একের পর এক ঘটনায় বিএনপি এখন তাদের নিজেদের রক্ষা করতে গা-ঢাকা দিয়েছে।তারা নিজ বাসা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। ছেলে-মেয়ে পরিবার রেখে তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তাদের কেউ কেউ জেলা ছেড়ে আত্মগোপনে চলেগেছে। তাদের পরিবারগুলো তাদেরকে নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান না হলে নির্বাচনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠবে।নারায়গঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলে। গভীর রাত পর্যন্ত আমার বাসা সহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে ওই বিশেষ অভিযান চলে।নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল তাদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে কাউকে হয়রানি করা হয়নি।অপরদিকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে এমন একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিএনপি ও জমিয়তের নেতাদের সমন্বয়ে ২৫ ডিসেম্বর ওই খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে কোন সময়ে ওই তালিকা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক তথা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, নারায়ণগঞ্জে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প, বিজিবির ক্যাম্প, র‌্যাব ও নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টে শেষ সময়ে নির্বাচনে থাকলেই এ তালিকা জমা দেওয়া হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *