নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে আর বিভাজন নয়

মন্তব্য প্রতিবেদন
হাবিবুর রহমান বাদল
নতুন বছর আসার একদিন আগেই নারায়ণগঞ্জবাসী বিশে^ লৌহ মানবী হিসাবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়তে যেমন রায় প্রদান করেছে তেমনই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মহাজোট প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার এক মহান দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা। নারায়ণগঞ্জের সকল আসনে মহাজোট প্রার্থীরা যেমন বিজয়ী হয়েছে তেমনই নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের মেয়র জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জের ৫টি পৌরসভার মেয়রসহ প্রায় সকল জনপ্রতিনিধিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ^াসী। আর এ কারণে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সকল বিভেদ ভুলে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবে নতুন বছরে এটাই নারায়ণগঞ্জ বাসীর একমাত্র প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের বিভেদ ভুলে যাবে নতুন বছরে এমনটাই প্রত্যাশা করছে সবাই। সামনে বিভিন্ন ধরণের অস্বস্থিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতে পারে। পরাজিত শক্তি নিশ্চুপ বসে থাকবে এমনটা ধারণা করা ঠিক হবে না। তাই গতবছরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে যে লবিং গ্রুপিং ছিল তার দৃশ্যমান অবসান ঘটবে ২০১৯ সালের নতুন বছরে এমনটাই সকলের কাম্য। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বড় দুইটি দলের মধ্যে কোন্দল দীর্ঘদিনের। আর এই কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জ তার ঐতিহ্য হারিয়েছে এটা সকলেরই জানা। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীনদের কোন্দল নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারপরও আদর্শগত মিল থাকলেও ব্যাক্তিগত বিভাজন, গোষ্ঠিগত কোন্দল ও বলয়গত দ্বন্দ্বের কারণে নারায়ণগঞ্জের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। ব্যক্তিগত বিভাজন ও গোষ্ঠিগত কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। নারায়ণগঞ্জবাসী এই বিভাজনের অবসান চায়। কারণ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন যেমন বাড়বে তেমনই নাটকীয় ভাবে নিজেদের মধ্যে নতুন ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যার আলামত গত রবিবার নির্বাচনের পর একজন ক্ষমতাসীন দলের নেত্রীর বক্তব্য থেকে সাধারণ মানুষ স্পষ্ট ধারণা করতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে নতুন মেরুকরণ ঘটতে পারে এমনটাই আভাস দিয়েছেন দলের একাধিক ঘনিষ্ট সূত্র। এছাড়া বিএনপিতে নেতায় নেতায় কোন্দলের কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির চরম ভরাডুবি ঘটেছে। এ অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে পারে নতুন বছরে। আর এর ফলে নারায়ণগঞ্জে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে তা অনেকটাই ব্যাহত হবে। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণে জনপ্রতিনিধিদের এক টেবিলে বসার সম্ভবনা আর নেই বললেই চলে। তবে নগরীকে যানজট মুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন যে অভিযান শুরু করেছিল তা এখন অনেকটাই বন্ধ বলা চলে। তাছাড়া নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জ দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, নারায়নগঞ্জের প্রতি আমার আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। প্রাচ্যেরডান্ডি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক এ জন্য করনীয় সব কিছুই করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ঐক্য থাকলে নারায়ণগঞ্জ তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে জামাত-শিবিরের নিশ্চুপতা বড় কোন অঘটনের চিন্তাভাবনা চলছে কিনা এটাও গোয়েন্দা নজরদারীতে থাকতে হবে। তবে আশার কথা জনপ্রতিনিধিরা এক টেবিলে না বসতে পারলেও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যে যে সমঝোতা দেখা যাচ্ছে তাতে আমি অনেকটা আশাবাদি কারণ ডিসি ও এসপি’র মধ্যে সম্বন্বয়সহ সুসম্পর্ক বজায় থাকলে একটি শহর তথা সেই জেলার আইন-শৃঙ্খলা তথা জেলাবাসী অনেকটা নিশ্চিত থাকতে পারে। গত বছরের মত চলতি বছরেও জেলার সর্বোচ্চ দুই সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে নারায়ণগঞ্জে বড় ধরণের অঘটন ঘটার সম্ভাবনা থাকবে না। আমার বিশ্বাস জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নারায়ণগঞ্জে আইনের শাসন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করলে নারায়ণগঞ্জের অনেক সমস্যারই সমাধান হবে। শহরের যানজটের পাশাপাশি ফুটপাত দখল আর সেই সাথে অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন শহরবাসীকে অতিষ্ট করে তুলেছে। তার পরও বলবো আমি আশাবাদি মানুষ তাই আমার বিশ্বাস জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ভিতরে ভিতরে যে বিভাজন চলছে তা নতুন বছর তার অবসান হবে। নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ হবে। পাশাপাশি প্রশাসন যদি দ্রুত নারায়ণগঞ্জের সমস্যা সমাধান করতে চায় তবে জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করে বিভিন্ন পেশাজীবিদের নিয়ে একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করতে পারে। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা যেমন প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত হবে তেমনি বিভিন্ন পেশাজীবিদের কাছ থেকে সমস্যা ও তার সমাধানের পথ খুঁজে পেতে সহজ হবে। জেলা প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে কঠোর ভাবে নারায়ণগঞ্জে অন্তত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন নতুন বছরে এটাই আমার প্রত্যাশা। নারায়ণগঞ্জের মানুষ সকল জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে সকল সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাই নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করে জনপ্রতিনিধিরাও নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে অতীতের সকল মতবেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করবে নতুন বছরে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *