না’গঞ্জে বিএনপির নেতারা লাপাত্তা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সকল জল্পনা কল্পনা শেষে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার আগ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাদের গর্জন থাকলেও নির্বাচনের দুই দিন আগেই রাজনীতি থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছেন তারা। এতে করে সম্পূর্ণ ভাবে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। জানাগেছে, দীর্ঘ এক যুগ ধরে ক্ষমতায় না থাকায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন এবং পর্যায়ক্রমে ছাত্রদল, স্বেচ্ছা সেবক দলসহ সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষনার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার তিন মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জের সাত থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অনেকে আত্মগোপনে চলে যায়। আবার অনেকে গ্রেয়তার হয়ে কারাগারে গিয়েছে। তবে তফসিল ঘোষনার পর দলীয় মনোনয়ন পেতে স্থানীয় নেতারা তৎপর হয়ে উঠেন। তবে যারা মনোনয়ন পায়নি তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেনি। তাই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। শুধু নেতাকর্মীই নয়, ধানের শীষ প্রতীকের একাধিক প্রার্থীকেও মাঠে দেখা যায়নি। নির্বাচনের দুইদিন আগেই ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনির সোসাইন কাশেমী ও রূপগঞ্জ আসনের প্রার্থী কাজী মনিরকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যয়নি। আর কাশেমী নিজের ভোটটি দিতেও যায়নি। যেখানে প্রার্থীরাই মাঠে নামেনি সেখানে কর্মীরা মাঠে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রশাসন বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলার অযুহাতে গ্রেফতার করতে থাকে। শুধু নেতাকর্মীই নয়, তাদের পরিবারের সদস্য এমনকি বিএনপির সমর্থকদেরও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তা গ্রেফতার আতংকে নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারেনি বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। কেননা বিএনপির অনেক নেতা এখন আওয়ামীলীগে যোগদান করছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের দিন বিএনপির প্রার্থীদের পুলিং এজেন্টদের হামলা চালিয়ে মহাজোটের পক্ষে কাজ করেছেন অনেক বিএনপি নেতারা। এতে করে বিএনপির রাজনীতির ইমেজও ক্ষুন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন দেখেছে, বিএনপিই বিএনপির প্রতিপক্ষ তখন ভোটের মাঠে মহাজোটকেই ভোট দিবে এটা স্বাভাবিক। আর নির্বাচনে তিন দিন অতিবাহিত হলেও বিএনপির নেতারা এখনো আত্মগোপনে রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তি রাজনীতিতেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতারা লাপাত্তা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *