Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

অগ্নিকা-ের ঘটনায় গাফলতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ

১২ জুলাই, ২০২১ | ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 205 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় আগুনে ৫২ জনের নিহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা হত্যা মামলায় আটক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, তার চার ছেলেসহ ৮ জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এরআগে গত শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, আদালত থেকে রিমান্ড পাওয়ার পর শনিবার রাত থেকেই গ্রেফতার কৃতদের দফায় দফায় একাধিক টিম জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কখনো কারখানার মালিক আবুল হাশেমকে একা আবার কখনো বা আলাদা আলাদা ভাবে পুলিশের কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে এই ভয়াবহ অগ্নিকা- ও ৫২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পিছনে মালিক পক্ষের কি কি গাফলতি রয়েছে কিংবা কি ধরণের অব্যবস্থাপনার কারণে এই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। পাশপাশি কোন কোন সংস্থা দায়িত্ব ছিল নিয়তিম তদন্ত করা তাও খোঁজার চেষ্টা করছে জেলা পুলিশের একাধিক টিম। এছাড়া অগ্নিকা-ের পর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিসহ একাধিক তদন্ত কমিটি অগ্নিকা-ের কারণ নির্ণয় ও কারখানার পরিবেশ নিয়ে তদন্ত করছেন। সেজান জুস কারখানায় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতিসহ উঠা-নামার মাত্র দুটি সিড়ি নিয়েও তদন্ত কমিটি কাজ করছে। পুলিশ অগ্নিকা-ের পরে অথবা আগে চতুর্থ তলায় যেখান থেকে ৪৯টি শ্রমিকের পুরে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেখানে প্রবেশে কে বা কারা তালা লাগিয়েছিল তাও নিবির ভাবে খতিয়ে দেখছে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে অগ্নিকা-ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উপর। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেজান জুসের মালিক আবুল হাশেম কিংবা গ্রেফতার কৃত অন্য সাতজন এখনো তাদের গাফলতি কিংবা দায়িত্বহীনতার কথা স্বীকার করেনি। এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের সাথে যোাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রেফতার কৃতদের আমরা বিভিন্ন ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ঘটনার সাথে যারাই জরিত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরদিকে, তদন্ত কমিটি সূত্রে জানাগেছে, অগ্নিকা-ের পিছনে কাদের কাদের গাফলতি ছিল কিংবা মালিক পক্ষ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কি ধরণের পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল। কোন কোন সংস্থার এইসব মিল কারখানা নিয়মিত পরিদর্শনসহ ভবন নির্মাণের অনুমতি ছিল কিনা তা বিভিন্ন ভাবে তদন্ত করছে বলে জানাগেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ২৯ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় চতুর্থ তলায় আটকা পড়া ৪৯ জন শ্রমিক পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। এবং জীবন বাঁচাতে উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *