আজ: মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২০ ইং | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | দুপুর ২:২০

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

অনেকে আসলেও আসেনি আইভী পন্থিরা!

ডান্ডিবার্তা | ২২ আগস্ট, ২০১৯ | ৯:৪৭

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে গতকাল বুধবার চাষাড়া শহীদ মিনারে স্মরণ সভা করেছে জেলা আওয়ামীলীগ। সভাতে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা ছাড়াও মহানগর আওয়ামীলীগ, থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামীলীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। তবে জেলা আওয়ামীলীগের এই সভাতে উপস্থিত ছিলেন না সহ-সভাপতি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীসহ তার বলয়ের নেতারা। ময়র সেলিনা হায়াত আইভীসহ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ অনেকেই স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। তবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানিয়েছেন, স্মরণ সভায় উপস্থিত থাকতে সকল নেতাদের দাওয়াত দিতে বলেছি। যদিও সকল কর্মসূচীতেই নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেন সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিষয়টি ভাল করে বলতে পারবেন। এব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে অনুষ্ঠানে সাংসদ শামীম ওসমান উপস্থিত থাকবেন এমন গুঞ্জন থাকলেও তিনি স্মরণ সভায় উপস্থিত হননি। তবে তার অনুসারি সকলেই উপস্থিত থেকে স্মরণ সভাকে জনসভাতে পরিনত করেছেন। এদিকে, আর আগে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা আওয়ামীলীগের র‌্যালীতেও আইভী পন্থি অনেক নেতাই অনুপস্থিত ছিলেন। ঐ র‌্যালীতেও সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারিরা উপস্থিত থাকায় কমিটি ঘোষনার পর থেকে প্রথমবার রাজপথে তাক্ লাগানো কর্মসূচী পালন করতে সফল হয়েছিল জেলা আওয়ামীলীগ। অপর দিকে, জেলা আওয়ামীলীগের স্মরণ সভায় আইভী পন্থিরা উপস্থিত না থাকলেও সভা নিয়ে সমালোচনা করছেন বলে জানাগেছে। প্রত্যক্ষদর্শি জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর বোস কেবিনে চায়ের আড্ডায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির আরজু রহমান ভূইয়াসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। চায়ের আড্ডায় আরজু রহমান ভূইয়া বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠান কিন্তু পরিচালনা করছে সাজনু, হেলাল। ওরা নিজেরা নিজেরা এই অনুষ্ঠান করছে। এদিকে, স্মরণ সভায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লা অব্যাবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। এক পর্যায়ে ইশারায় সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব প্রাপ্ত কাউকে উড়ে এসে জুড়ে বসা ব্যক্তি বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘‘এই নারায়ণগঞ্জের মাটি আওয়ামীলীগের মাটি। উড়ে এসে জুড়ে বসবেন আর নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের ময়লায় নেতাকর্মীরা দুর্গন্ধে পচে মরবে তা হবে না। এভাবে চলতে পারে না। স্টপ ইট। দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা খন্দকার মোশতাকেরা হুঁশিয়ার সাবধান।’’এর আগে ভিপি বাদল জেলা আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে বিভেদ তৈরিকারীদের হুঁশিয়ার করে দেন। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামীলীগ শেখ হাসিনার জন্য সর্বদা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ১ লাখ নেতাকর্মী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। জানাগেছে, জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনার পর থেকে সকল নেতাদের এক টেবিলে দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন সময় একে অপরকে ঘায়েল করতে প্রকাশ্যে বিষোদগার মন্তব্য করেছিলেন। যার ফলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *