Home » প্রথম পাতা » না’গঞ্জে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু

অনেকে কথা দিয়ে কথা রাখেনা: আইভী

০২ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 81 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

রাজনীতির মঞ্চে নেতারা প্রতিশ্রুতির অনেক কথা বলেন। কাজের বেলায় অনেকেই সেই প্রতিশ্রুতি আর রাখেন না। বঞ্চিত হন সাধারণ জনগণ। তবে ব্যতিক্রম থাকেন কিছু রাজনীতিক। যারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যান না। রাজনীতির মঞ্চ কাপানোর চেয়ে উন্নয়নের কাজে বেশি পাগল থাকেন। তেমনই একজন রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতির পদেও রয়েছেন। নগরবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করা মেয়র আইভী ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। কাজপাগল এই মেয়রকে মূল্যায়ন করতেও ভুল করেননি নগরবাসী। প্রথমবার ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন ডা. আইভী। এরপর টানা দুইবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ নগরবাসীর পাশে থেকেছেন। যার কারণে নগরবাসীর কাছে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রথম পছন্দ কাজপাগল মেয়র আইভীই। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বাবা আলী আহম্মদ চুনকা ছিলেন জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা। সহজ সরল জীবন যাপন ও কর্মীবান্ধব রাজনীতি তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। তার প্রমাণ ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনে। মাত্র ২৬ বছর বয়সে বিডি মেম্বার হওয়া চুনকা দলের একাংশের বিরোধীতায় মনোনয়ন না পেলেও নারায়ণগঞ্জবাসীর সমর্থন ছিল তাঁর প্রতি। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন গণমানুষের নেতা আলী আহাম্মদ চুনকা। জয়লাভের পর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করলে বঙ্গবন্ধু তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আমি জানতাম চুনকা তুই জয়ী হবি’। প্রয়াত পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগেরও নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার পথ ধরে তাঁর মেয়ে ডা. আইভী রাজনীতিতে এসেছেন। ১৯৯৩ সালে তিনি শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিয়ের পর স্বামীর সাথে নিউজিল্যান্ড চলে যান। কিন্তু মাতৃভূমি ছেড়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জের মানুষকে ভোলেননি। বাবার কাছ থেকে শেখা রাজনীতি মানে যে জনগণের সেবা দেশসেবা সেই টানে দেশে ফিরে এলেন ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনের কিছু দিন আগে। ক্ষমতায় তখন বিএনপি। বিএনপি থেকে প্রার্থী হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তারু সরদারের ছেলে নুর ইসলাম সরদার। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা তখন বিদেশে পালিয়ে আর কর্মীরা ঘর ছাড়া। আইভীর সম্বল তখন আওয়ামী লীগের সমর্থন ও চুনকার মেয়ে হিসেবে পরিচিতি। নারায়ণগঞ্জবাসী আরেকবার চুনকার প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রমাণ দেন। বিপুল ভোটে ক্ষমতাসীন প্রার্থীকে হারিয়ে পৌরসভার ১২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডা. আইভী। এরপর টানা ১৮ বছর ধরে তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। পরের দুইবারে সরাসরি জনগণের ভোটে হারিয়েছেন দুই হাই প্রোফাইল রাজনীতিবিদকে। ২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার প্রথম নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটে হারিয়েছেন প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্য শামীম ওসমানকে। ২০১৬ সালে হারিয়েছেন বিএনপি নেতা অ্যাড. সাখায়াত হোসেন খানকে। কেন আইভী এতোটা জনপ্রিয়? রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, আইভী জনপ্রিয় তার কাজ দিয়ে। ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান ও ২০১১ সাল থেকে সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে বদলে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ নগরীর চিরচেনা রূপ। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাসহ সারা দেশে আজ উন্নয়নের নতুন মডেল নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ সিটির উন্নয়ন আজ সারা বাংলাদেশে স্বীকৃত। পরিকল্পিত নগর গড়তে ব্যাপক রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও উন্নয়ন, সমন্বিত ড্রেনেজ সিস্টেম, পয়োনিষ্কাশন, জলধার সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাতৃসদন এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু; পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, শহর থেকে ট্রাক টার্মিনাল সরানো, এনসিসির আয় বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব ভূমিতে মার্কেট ও ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং কাঁচাবাজারসমূহের উন্নয়ন, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন, বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুপারিশ, নাগরিকের সুবিধার্থে হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় মাত্রায় রাখাসহ নানান উন্নয়ন কর্মকা-ের কারণে মেয়র আইভীকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক নারায়ণগঞ্জের রূপকার। তার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ, রাস্তায় রাতে বাতি জ্বালানো, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খেলার মাঠগুলো রক্ষা, প্রতিটি এলাকায় সমপরিমাণ উন্নয়ন তাকে নিয়ে গেছে সফলতার অন্য উচ্চতায়। সুপরিকল্পিত নগরায়নের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে শহরের বুকে নির্মাণ করেছেন শেখ রাসেল নগর পার্ক, বাবুরাইল খাল এবং সিদ্ধিরগঞ্জ খাল। নগরবাসী বলছেন, ভয় আর সম্মান দুইটা বিপরীত শব্দ। আইভীকে নারায়ণগঞ্জবাসী বিশ্বাস করে সম্মান করে। এই সম্মান তিনি অর্জন করেছেন সততা ও কর্মনিষ্ঠা দিয়ে। অপরদিকে যারা ভয়ের রাজনীতি টিকিয়ে রেখে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত আইভীকে নির্বাচিত করার মধ্যে সেই বাকপটু নেতাদের বিরুদ্ধে জবাব দেন নগরবাসী। তারা বলছেন, আইভী বাকপটু নন কাজ পাগল মানুষ। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বেশিক্ষণ বক্তৃতা করেন না। রাষ্ট্রীয় ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছাড়া কম অনুষ্ঠানেই থাকেন তিনি। উন্নয়নকাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন সবসময়। তবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যতটুকু বলেন তাতেই তার বিরোধীতা করা মহলটির ভিত কাঁপিয়ে দেন। অল্প কথাতেই প্রতিপক্ষের মুখ বন্ধ করতে পারদর্শী ডা. আইভী।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *