Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

অন্ধকারে মহানগর বিএনপি!

০৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ৭:০২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 62 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট দ্বাদশ নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও দলীয় কোন্দলে কুপোকাত মহানগর বিএনপির রাজনীতি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদাজিয়ার মুক্তিসহ নির্দলীয় সরকারের অধীতে নির্বাচনের দাবিতে যেখানে অণ্যান্য জেলার বিএনপির নেতৃবৃন্দ ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠিক এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালন করবে কি দলীয় কোন্দল নিরসনেই হিমশিক খাাচ্ছে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এদিকে আগামি ১০ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির মহা সমাবেশ। অতীতে বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃবৃন্দ বিশাল জনসমাগেমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সমাবেশে যোগদানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অস্তিত্বের জাগান দিতে যোগ্যতার প্রমান দিলেও এবারের সমাবেশে নিজেদের অস্তিত্বের বিষয়টি তুলে ধরা সম্ভব হবে না বলে ধারনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল। সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই বেজে উঠেছে বিদ্রোহের সুর। এছাড়া কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা। ঘোষিত কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রাখা হয়েছিল তাকে। এদিকে দলের ডাকা হরতাল অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় ৭১টি মামলার আসামি হওয়া করোনাযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে এই কমিটিতে স্থান না দেওয়ায় চরম সমালোচনা হয়েছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। এছাড়াও কেন্দ্র থেকে ঘোষিত এ আহবায়ক কমিটিকে আইনজীবীনির্ভর কমিটি আখ্যা দিয়ে কর্মীরা বলছেন, এমন অনেককে এই আহবায়ক কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে- যারা গত ১০ বছরে নারায়ণগঞ্জে আসেননি বা দলের কোনো কর্মসূচিতে দেখা মেলেনি। জানা গেছে, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তিনবারের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে অনেক যোজন-বিয়োজন করে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন। কিন্তু কমিটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় ওই কমিটির হাল ধরে রাখেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। সম্প্রতি, কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া আহবায়ক কমিটির নাম প্রকাশ পাওয়ার পরপরই কমিটিতে বিএনপির দুর্দিনের ত্যাগী নেতা কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকারকে স্থান না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। মহানগর যুবদলের নেতা রানা মুজিব জানান, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে ফিরেই দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার হন। বিএনপির ডাকা হরতাল অবরোধের ৭টি মামলায় প্রায় ৩ মাস কারাগারে থেকে গত ৩ দিন আগে জামিনে বের হয়েছেন কাউন্সিলর খোরশেদ। অথচ দলের জন্য ৭১টি মামলার আসামি হয়েও ঘোষিত মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন তিনি, যা দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এদিকে আহ্বায়ক কমিটি ঘেষনার পর পরই ঐদিনই কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা তার নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন- ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটির ইমানদারদের সঙ্গে আমার মতো একজন নগণ্য লোক না থাকাটাই শ্রেয়। তাই আমি এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করলাম। কর্মীরা বলছেন, কাউন্সিলর আশার দাদা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মরহুম জালাল উদ্দিনও বিএনপির এমপি ছিলেন এবং তার পিতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বিএনপির তিনবারের এমপি। অথচ তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি বলেই আশা এই পদত্যাগ করেছেন। যদিও আবুল কাউসার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে কর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে নাম থাকা মনির হোসেন খান জেলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জাকির খানের চাচা। তাকে গত ১০ বছরে দলের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। অপর যুগ্ম আহবায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রিপন গত বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলেই সন্ত্রাসের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করেছেন। সদস্য হিসেবে স্থান পাওয়া মাহাবুব উল্লাহ তপনের একমাত্র পরিচয় তিনি বিএনপি আমলে ক্রসফায়ারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী মমিন উল্লাহ ডেভিডের ভাই এবং এই শহরের চিহ্নিত পরিবহণ সন্ত্রাসী, যাকে কোনো কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জে দেখা যায়নি। অপরদিকে ঘোষিত কমিটিকে আইনজীবীনির্ভর কমিটি আখ্যা দিয়ে নেতাকর্মীরা বলছেন, ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে আহবায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া আরও ৭ জন আইনজীবী স্থান পেয়েছেন। এদের দিয়ে আইনজীবী সমিতির কমিটি করা হলে সেটি শক্তিশালী হতো। জেলা আদালতেও বিএনপির শক্তি বাড়ত। যারা নগরীর প্রভাবশালী রাজপথের নেতা তাদের বাদ দিয়ে এ ধরনের কমিটি দলকে আরও দুর্বল করবে। তবে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, বিএনপি একটি গণমুখী দল ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দলের নতুন কোনো কমিটি হওয়ার পর মতানৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এটি সবেমাত্র আহবায়ক কমিটি হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অবশ্যই রাজপথে যারা কাজ করেছেন, করছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। কোনো ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা বাদ যাবেন না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *