Home » প্রথম পাতা » ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার মত আমি নই: আইভী

২১ নভেম্বর, ২০২১ | ৩:১৮ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 75 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমি অনেক বাধা অতিক্রম করে অনেক কাজ করেছি যা এ শহরের মানুষ জানে। এবং এটা আমাকে এইভাবেই করতে হবে কারণ আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। আমি কোনো চাপের মুখে কারও কাছে মাথা নত করবো না। আমি ন্যায়ের পক্ষে থাকার চেষ্টা করি সবসময়।’ গত শুক্রবার রাতে একটি ইউটিউব চ্যানেলের টকশোতে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মেয়র হিসেবে শতভাগ দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। তবে যেখানে বসে কাজ করছি সেখানে কাজের কোনো শেষ নাই, লাগাতার চলতে থাকে। একটা শেষ করতে করতে আরেকটা শুরু হয়ে যায়। আল্লাহর রহমতে বিগত ১৮ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য যতটুকু দায়িত্ব তা পালন করার চেষ্টা করেছি।’ আইভী বলেন, ‘মানুষের চাহিদা মোতাবেক শহর গড়ার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জবাসী এ শহরকে যেভাবে দেখতে চায় সেই মোতাবেক অনেক কাজ করেছি। এ শহরের জনগণই বলতে পারে তারা কতটুকু চেয়েছিল এবং তারা কতটুকু পেয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আমি একটুখানি বলবো যে, শহরের একটু পরিবর্তন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একটি আদি শহর। এখানে অনেক মানুষের বসবাস। এখানে কাজ করা অনেক কঠিন। তারপরেও অনেক রাস্তার কাজ করেছি, মাঠগুলোকে উন্নত করেছি। পুকুর সংরক্ষণ, মৃতপ্রায় খাল খনন করে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে এনেছি। শহরের মধ্যে কোনো বিনোদন পার্ক ছিল না। প্রায় ১৭ একর জায়গা নিয়ে বড় পরিসরে পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে খেলার মাঠও করেছি। মানুষের এত আহামরি কোনো দাবি না। মানুষ চায় তারা ভালো রাস্তা দিয়ে হাঁটবে, খেলার মাঠ থাকবে, প্রচুর খোলা জায়গা থাকবে এবং শহরের পরিবেশটা সুন্দর থাকবে। যেহেতু শীতলক্ষ্যার পারে আমাদের নারায়ণগঞ্জ অবিস্থত তাই আমরা চাই শীতলক্ষ্যার পানি পরিষ্কার থাকুক। এটা সাধারণ মানুষের সাথে আমারও দাবি। নদীর পাড়ে রাস্তা করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছি। এটা আরও ভালোভাবে করার চিন্তা রয়েছে। নগরভবন নতুনভাবে তৈরি করছি। এই নগরভবন ঐতিহ্যবাহী নগরভবন, প্রায় ১০০ বছর পুরোনো। আমরা পুরাতন ভবনটাকে রেখে নতুন দশ তলা একটি ভবন দাঁড় করিয়েছি। যার কাজ চলমান। আমরা সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বড় খাল খনন করে দিচ্ছি। শহরের মধ্যে বাবুরাইল খাল করছি। যার ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন। এ রকম বড় অনেকগুলো কাজ হয়েছে এবং নতুন ভবন হয়েছে কিছু। বিগত ৫ বছর পরিবেশর উপর প্রাধান্য দিয়ে আমি বেশি কাজ করেছি।’ সিটি মেয়র বলেন, ‘বিরোধীরা সব কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে না। ভালো কাজে স্বীকৃতি আর খারাপ কাজে গঠনমূলক সমালোচনা করার সংস্কৃতি আমাদের দেশে নেই। বরং সারক্ষাণই ভালো কাজকে অবমূল্যায়ন করে। সেসব সমস্যাকে উপক্ষো করে কাজ করে যেতে হয়। অনেক কাজে বাধা ছিল এবং থাকবে তা জেনে শুনে কাজ করছি। চেষ্টা করছি মানুষের জন্যে কাজ করতে। সমালোচনা থাকবেই। এই ধরনের চেয়ারে থাকলে সমালোচনা থাকবে এবং প্রতিপক্ষ যেহেতু শক্তিশালী সেহেতু সবধরনের সমালোচনাই থাকবে।’ জিউস পুকুর ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘তারা যেটা বলেছে এবং দেখিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই মন্দিরের ৮ একর জায়গা ছিল। তাদের কাছে এখন ১ একরের কিছু বেশি জায়গা রয়েছে। বাকি ৭ একর জায়গা বিক্রি করেছে তারা। যা ৩০-৩৫ লোক ক্রয় করে ওইখানে ভবন করে বসবাস করতেছে। যে জমির কথা বা পুকুরের কথা বলা হচ্ছে সেটা ১৯৭৯ সালে আমার নানা এবং চাচা তা কিনেছে। বাকি যে ৩০-৩৫ জন কিনেছে তাদের মতো তিনিও একজন ক্রেতা। এছাড়াও ওই মন্দিরের আরেকটা পুকুর ছিল যা ক্রয় করে ইসকন মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। এটা দেবোত্তর সম্পত্তি কিন্তু এটা তো প্রাইভেট দেবোত্তর সম্পত্তি। প্রাইভেট সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে বলেই তো তারা বিক্রি করেছে। না হলে এই ৩০-৩৫ জন কিনলো কীভাবে? ৪০ বছর পর ইর্ষান্বিত হয়েই হোক, রাজনৈতিক কারণ হোক অথবা শামীম ওসমানের নির্দেশেই হোক এটা খোকন সাহা করেছে এবং করছে। ভোট আসলেই একাজগুলো তারা করে থাকে। নারায়ণগঞ্জবাসী জানে এটা। তারা যখন মিথ্যা কথাগুলো বলেছে, তাই আমি বাধ্য হয়েছি তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করতে।’ সকল ধর্মের প্রতিই সমান সহানুভূতিশীল জানিয়ে মেয়র আইভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এই পর্যন্ত ৫টি মসজিদ করেছে এবং আরও দুইটি মসজিদের টেন্ডার হয়েছে। আমরা মসজিদ করেছি, স্কুলও করেছি। আমরা সব ধর্মের প্রতি সহনশীল। হিন্দু-মুসলমানসহ সব ধর্মের প্রতি আমরা সহনশীল। ঈদের সময় আমরা ঈদগাহ মাঠ সাজিয়ে দেই, পূজার সময় বিভিন্ন ধরনের অনুদান দিয়ে থাকি এবং বিসর্জনের জন্যে সেখানেও একটি আয়োজন করি। বড়দিনের সময় চার্চে আলোকসজ্জা করি এবং অনুদান দেই। এছাড়াও আমাদের যে শেষ ঠিকানা মৃত্যুর পরে সেই কবরস্থান, শ্মশান, খ্রিস্টান কবরস্থান এবং মেনন একই জায়গায়। যা যা দরকার এইখানে আমরা সব করে দিচ্ছি।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *