Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

১১ আগস্ট, ২০২২ | ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 37 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় হলো শিমরাইল মোড়। এ মোড় চিটাগাংরোড হিসেবে পরিচিত। এ মোড়ে হাত বাড়ালেই চাঁদা পায় প্রভাবশালীরা। ক্ষমতার দাপটে এ মোড় থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে বছরে কোটি টাকার মতো চাঁদা আদায় করা হয় এমন অভিযোগ উঠেছে সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামী নূর হোসেনের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন দেলার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও চাঁদাবাজি করে এখন তিনি অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছেন। দেলা নিজে চলেন বিলাশ বহুল গাড়ীতে। তার এই চাঁদাবাজ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী পালেন তিনি।  ট্রাক মালিক সুত্রে জানা যায়, শিমরাইল মোড়ের ট্রাক টার্মিনালে আনুমানিক ৫০০টি ট্রাক ও পিকআপ রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ট্রাক ও পিক-আপ থেকে মাঠ-সংস্করণ ফি নামে ৩০ টাকা করে বছরে ৫৪ লাখ  টাকা, বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান (পিক-আপ) মালিক সমিতির নামে দৈনিক সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫০ টাকা করে বছরে ৯০ লাখ টাকা, নাইট গার্ড ফি বাবদ ৩০ টাকা করে ৫৪ লাখ টাকা,আন্তঃজেলার নামে ৩০ টাকা করে বছরে আরো ৫৪ লাখ টাকা। শুধু টার্মিনালের ভিতর থেকে চাঁদা আদায় হয় মোট ২ কোটি  ৫২ লাখ টাকা। তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টার্মিনালের বাহিরে আরো তিনটি জায়গা থেকে চাঁদা উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে এই দেলোয়ার হোসেনের দেলার বিরুদ্ধে। শিমরাইল ড্যানিশ রোডে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ টি গাড়ী প্রবেশ করে এসব গাড়ী থেকে প্রতিদিন ১১০ টাকা, রিনালয় সিএনজি পাম্পের পূর্ব পাশে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ গাড়ী প্রবেশ করে এসকল গাড়ী থেকে প্রতিদিন ১১০ টাকা ও কাঁচপুর সেতুর নিচ দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে গাড়ী আসা যাওয়ার জন্য চাঁদা দিতে হয় প্রতিটি ট্রাক ও পিকআপ চালকদের। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ট্রাক চালক জানান, প্রতিদিন স্ট্যান্ড থেকে গাড়ী বাহির করতে গেলেই আগে ৩০ টাকা রেখে দেয়। টাকা দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, দারোয়ান বিলের জন্য এই টাকা নেওয়া হয়।  আব্দুস ছালাম নামে এক ট্রাক চালক জানান, একদিন রাতের বেলা গাড়ী লক করে চা খেয়ে এসে দেখি আমার মোবাইল চুরি হয়ে গেছে। তাহলে দারোয়ানের টাকা দিয়ে লাভ কি। আলাউদ্দিন নামে এক পিক-আপ চালক জানান, স্টান্ডে গাড়ী রাখার লেইজ্ঞা সংস্করণ ফি/ উন্নয়ন ফি এর কথা কইয়া ৫০ টেকা কইরা নিয়া যায়, কিন্তু কোনো উন্নয় আর করে না। একটু বৃষ্টি আইলেই গাড়ীর চাক্কা ডাইব্বা জায়গা পানি উঠ্যা জায়গা মাঝে মাঝে বেশি বৃষ্টি হইলে মেইন রাস্তায় নিয়া গাড়ী রাখতে হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভারভ্যান (পিকআপ) মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে একাধিক বার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভারভ্যান (পিকআপ) মালিক সমিতির শিমরাইল শাখার যুগ্ন সম্পাদক মামুন হাওলাদার বলেন, আর আমাদের এই ট্রাক টার্মিনালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ গাড়ী যাতায়েত, যার জন্য ট্রাক টার্মিনালে এই গাড়ী গুলোর সংস্কার বাবদ আমরা ৩০ টাকা করে নেই যা আমাদের হয় না। স্থানীয় কাউন্সিলর সরকারি ভাবে যদি সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের উন্নয়ন ফি বাবদ কিছু দিতেন তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়। এছাড়া টার্মিনালের এই জায়গাটা এক সময় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ইজারা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সড়ক ও জন পথ বিভাগ দাবি করেন এই জায়গাটি তাদের এনিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সওজের মধ্যে একটি মামলা চলমান। যার কারনে এখন কেউ ইজারা দিতে পারে না। মামুন হাওলাদার আরো বলেন, বর্তমানে টার্মিনালের বেহাল অবস্থা। গাড়ী গুলো ঠিক মত রাখতে পারছি না। আর এই পরিবহন গুলো যদি ট্রার্মিনালে না থাকতে পাড়ে তাহলে মহাসড়ক দখল করে রাখবে। এ বিষয়ে নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিয়া নুরউদ্দিন জানান, ট্রাক টার্মিনাল সিটি কর্পোরেশনের জায়গানা এটি সওজের জায়গা এই বিষয়ে তারা দেখবেন আমাদের কিছু দেখার নাই। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাখাওয়াত হোসেন শামীম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এ জায়গা দখল করে ট্রাক-স্টান্ড আছে। এ জায়গা আমরা কোনো ইজারা দেই নেই। একটি প্রভাবশালী চক্র এই জায়গাটি দখল করে রেখেছে। তবে এটি আর বেশি-দিন এভাবে থাকবে না। সামনে আমাদের একটি মেঘা প্রজেক্ট আছে তখন এখানে রাস্তা আরো বড় হবে এবং দুপাশে ডিভাইডার হবে তখন এখন দিয়ে কোনো গাড়ী ঢুকতে পারবে না আর এখানে কোনো ট্রাক স্টান্ড থাকবে না। র‌্যাব-১১’র উপ- পরিচালক এ কে এম মনিরুল আলম বলেন, সু-নির্দিষ্ট তদন্ত করে এদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *