Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ছে

১১ জানুয়ারি, ২০২২ | ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 102 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছে। এ ব্যপারে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, নির্বাচন বিঘিœত করতে পারে এমন যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে। সন্দেহভাজন সবাইকে তল্লাশীর জন্য ইতিমধ্যে শহরে চৌকি বসিয়ে সকল সন্দেহভাজন যানবাহন পরিক্ষা করা হচ্ছে। কোন প্রকার বৈধ-অবৈধ অস্ত্র সাথে থাকলে তাকেই গ্রেফতার করা হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও জেলা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী আধিপত্য ধরে রাখতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত অস্ত্রের মহড়া দেখা যায়। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্রের মহড়া চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনের দিন ও নির্বাচন পরবর্তিতে অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায় সন্ত্রাসীদের। এদিকে, সর্বশেষ ফতুল্লায় প্রকাশ্যে পিস্তল উচিয়ে হামলার এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সিসি টিভি ফুটেজ থেকে সংগ্রহিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, এক দল যুবক লাঠিসোটা নিয়ে আশপাশের মানুষের ওপর হামলা করে। ওই সময় তারা রাস্তায় নির্বিচারে যাকে পেয়েছে তাকেই মারধর করেছে। এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে পিস্তল উচিয়ে ওই যুবক আতংক সৃষ্টি করে। জানাগেছে, নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। বিভিন্ন সেক্টর দখল দিয়ে সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করছে। বিশেষ করে গার্মেন্টেসের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে অবৈধ অস্ত্র। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর অবৈধ অস্ত্রর ব্যবহার কিছুটা কমলেও সম্প্রতি তা বেড়েছে বহুগুন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। যারা নিজেদের সাথে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। এদিকে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিগত সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার বেড়েছে। এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত বিশেষ অভিযান বন্ধ রয়েছে। তবে শহরে যে কয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব কিছুটা কমলেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এদিকে, বিগত দিনে র‌্যাব-১১ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধানে অভিযান িেপরচালনা করলেও তারাও নিশ্চুপ রয়েছে। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে আসছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও রাজনৈতিক ক্যাডারদের কাছেও রয়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র। যার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারী হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের দুই সংঘর্ষতে। ঐ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপ থেকে গুলি ছোড়া হলেও তা ছিল না কোন বৈধ অস্ত্র। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ঝুট, তেল, জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ কোন অভিযান দেখা যায় না। সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে দেশী অস্ত্র উদ্ধারে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালিত হলেও বিদেশী পিস্তল উদ্ধারে তেমন কোন তৎপরতা নেই। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত ও জেলে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ সাত খুনের প্রধান আসামী মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত নূর হোসেন ছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র গত দেড় যুগেও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। এদিকে পাগলায় বন্দুক যুদ্ধে নিহত কিলার মুক্তার ও কিলার মানিক এবং সিদ্ধিরগঞ্জে বন্দুক যুদ্ধে নিহত মাস্টার দেলুর অবৈধ অস্ত্র গুলি কোথায় এপ্রশ্ন নগরবাসীর। গত দেড় যুগে ক্রসফায়ারে অন্তত নারায়ণগঞ্জের ৪০শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া নূর হোসেনের কাছে একাধিক অবৈধ অস্ত্র ছিল। যা পুলিশ এখনো খুজে পায়নি। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা বিসিক শিল্পনগরীসহ নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র অস্ত্র নিয়ে দাবরিয়ে বেড়ালেও এদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বাস্তব সম্মত কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। ২০০১ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারংবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানের কথা বলা হলেও বিগত দেড় যুগে নারায়ণগঞ্জে দৃশ্যমান অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কোন অভিযান দেখা যায়নি। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একাধিকবার গ্রেফতার হলেও তাদের অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান রয়ে গেছে তিমিরে। রাজধানী ঢাকার পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম শুনলেই অন্যান্য জেলার মানুষ সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে আখ্যায়িত করে ধিক্কার ধিত। ললাটে এটে গিয়েছিল কলঙ্কে ছাপ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের পাচঁ বছরের শাসনামলের তান্ডব আর বর্বরতাকে হার মানিয়েছিল ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ক্ষমতায় আসা চারদলীয় জোট সরকারের প্রথম তিন বছরের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে মানুষ ছিল সন্ত্রাসীদের ভয়ে তটস্থ। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও পরবর্তিতে নারায়ণগঞ্জে অপরাধীদের জনপদ হিসিবে পরিচিতি পায়। যার ফলে সাত খুনের মত ঘটনা ঘটেছে। সাত খুনের পর শহর কিছুটা শান্ত হলেও বর্তমানে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরী হয়েছে। তবে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্রের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে।

 

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *