Home » শেষের পাতা » নৌকা ডুবানোর মিশনে যারা!

আইভীর জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে স্থান নেই সাধারণ জনতার!

০১ নভেম্বর, ২০২১ | ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 58 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

২০১৮ সালে ‘জনতার মুখোমুখি  সিটি করপোরেশন’ অনুষ্ঠানে মেয়রকে ২১নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়ার প্রজা রাণী প্রশ্ন রেখেছিলেন, কদমরসূল এলাকার ১০০ ফিট রাস্তা চলমান ব্রিজ গুলো শেষ হতে কত দিন লাগবে? ২০১৯ সালে একই অনুষ্ঠানে সেই প্রজা রাণী আবার মেয়রকে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পাঠাগার নির্মাণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে এনসিসি কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করবে কি না? জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে প্রতিবছরই জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানটিতে প্রজা রাণীর মতো প্রশ্ন রাখেন নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি। নাগরীক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পছন্দের  কিছু লোকই জনতার মুখমুখি সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পান।  এরপর তাদের মধ্যে থেকে পছন্দের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রশ্ন রাখতে পারেন। এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে আমাদের অনুসন্ধানেও। ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই  পর্যন্ত মোট ৬টি অনুষ্ঠান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের সেই অনুষ্ঠানে প্রজা রাণীর মতো নির্দিষ্ট কিছু লোকই ঘুরে ফিরে প্রশ্ন রাখছেন। তাদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক। তাকে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ বা মানববন্ধনে মেয়রের পাশেই দেখা যায়।  তিনি ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই ও ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারী সভায় প্রশ্ন রাখেন।  একই অবস্থা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, খেলা ঘরের জহিরুল ইসলাম জহির, বিষের বাঁশি পত্রিকার সুভাষ সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, মেয়র আইভীর বোন জামাতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদিরসহ এমন অনেকে চেনা মুখ বার বার ঘুরে ফিরে তারাই অনুষ্ঠানে আসেন, প্রশ্ন করেন বা একাধিকবার বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ভবানী শংকর রায়ের নামে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মাধবী পৌর প্লাজার ২য় তলায় ১০নং দোকান বরাদ্দ দিয়েছে, জহিরুল ইসলামকে থানা পুকুরপাড় পদ্ম পৌর প্লাজার ২য় তলায় ২১৫নং দোকান, সুভাষ সাহাকে একই মার্কেটের ২২২নং দোকান, মিজানুর রহমান বাচ্চুকে দ্বিগুবাবুর বাজারের ২য় তলায় ৪০নং দোকান বরাদ্দ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এছাড়াও কিছু বিশেষ পেশার ব্যক্তিও সেই তালিকায় রয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের ২৫ বছরের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘আমি ২৫ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন দিন সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠান বা জনতার মুখমুখি অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাইনি। এখানে তার সততা ও সৎ সাহসের অভাব রয়েছে। তার ব্যর্থতা ঢাকতে জনগনকে প্রশ্ন করা থেকে বঞ্চিত রাখেন।’ প্রকৃত জনতার প্রতিনিধি, জনতার সমস্যা গুলো তুলে ধরার মতো কোন ব্যক্তিকে দাওয়াত দেওয়া হয় না দাবি করে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি মন্ডলীর  সদস্য মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, যারা মেয়রের আত্মতুষ্টি প্রচার ও বন্ধনা করতে পারবে, তাদেরকেই দাওয়াত দেওয়া হয়। নামেই জনতার মুখমুখি অনুষ্ঠান, এখানে জনগণের মতামত প্রকাশের পরিবেশ নেই, প্রকাশ করানোর উদ্দেশ্যও নেই। ফলে নারায়ণগঞ্জে আজকে একটি মেডিকেল কলেজ নাই, বিশ্ববিদ্যালয় নাই, হৃদরোগ হাসপাতাল নাই, খেলার মাঠ নাই, খেলাধুলার পরিবেশ নাই, শিল্প এলাকা হওয়ার পরেও শ্রমজীবী নারীদের জন্য হোস্টেল নাই, শীতলক্ষ্যা দূষণ হয়ে গেছে, রাস্তায় নদর্মা, ডাস্টবিনের মতো সমস্যা গুলো থাকারও পরেও জনতার মুখমুখি অনুষ্ঠানে কথা গুলো উঠে আসে না। এ ব্যাপারে জানতে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। সূত্র: লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *