Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

আইভী ঠেকাতে ব্যর্থ প্রতিপক্ষ

০৪ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 91 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কী করা হয়নি? হিন্দু নেতাদের দিয়ে টানা প্রতিবাদ কর্মসূচি, মানববন্ধন, পূজামন্ডপের সামনে অপপ্রচারের ব্যানার সাঁটানো, মসজিদ-মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ তুলে সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, কবরে শ্মশানের মাটি, দুদকে কল্পিত অভিযোগ ইত্যাদি। কোনো কিছুই বাদ যায়নি। তবে কাজ হয়নি কিছুতেই। এক নিমিষেই সকল ষড়যন্ত্র ভেসে গেছে। এমনটাই বলছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও নগরবাসী। কেননা সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সিটি নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমান সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড এক সভা শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে। সূত্র বলছে, দলীয় মনোনয়ন পেতে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। আইভী যাতে মনোনয়ন না পায় সেজন্য একাট্টা ছিল আওয়ামী লীগের একটি অংশ। আইভী ছাড়া বাকি যে তিনজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা সকলেই শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আইভীর মনোনয়ন ঠেকাতেই তাদের দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করানো হয়েছে বলেই অভিমত স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের দাবি। তবে আইভীই পেয়েছেন মনোনয়ন। অথচ এই মনোনয়ন ঠেকাতে অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্র বলছে, গত এক বছর আগে থেকে সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডা. আইভীকে জব্দ করতে নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার সূত্রপাত ঘটেছিল, দেওভোগের জিউস পুকুর ইস্যুতে। জিউস পুকুর ইস্যুতে মাঠে নামানো হয়েছিল ওসমান পরিবার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন হিন্দু নেতাকে। তারা লাগাতার মানববন্ধন, সমাবেশ, প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। ওইসব কর্মসূচি দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে আইভীবিরোধী নানা বক্তব্য রাখা হয়েছে। তাকে যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার মনোনয়ন না দেন সেই আওয়াজ তুলেছেন তারা। এতেও থামেননি। সম্প্রীতির শহর নারায়ণগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় কয়েকটি পূজামন্ডপে আইভীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ব্যানার সাঁটানো হয়েছিল। মসজিদ-মন্দির দখলের অভিযোগ তুলে হেফাজতের একটি অংশকেও মাঠে নামানো হয়েছিল। তাতেও না পেরে দুদকে কল্পিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। তা দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদও করিয়েছিল আইভীবিরোধী ওই মহলটি। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কান ভারী করারও চেষ্টা করেছে এই পক্ষটি। তবে তাতে সফল হতে পারেননি তারা। শেষ পর্যন্ত আইভীকেই নৌকা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার রাতে জানা গেল, আইভীই পেয়েছেন নৌকা, এরপরই উল্লাসে ফেঁটে পড়েন নেতা-কর্মীরা। নেমে পড়েন আনন্দ মিছিলে। ‘নৌকা’ ও ‘আইভী আপা’ স্লোগানে কম্পিত করেন বঙ্গবন্ধু সড়ক। মিছিল শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হন তারা। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। এতে যোগ দেন সাধারণ নগরবাসীও। পরে শুরু হয় মিষ্টিমুখ পর্ব। নগরীর আরও কয়েকটি স্থানে মিষ্টিমুখ করানো হয়। দলীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষনিকভাবে শোকরানা দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতারা আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা মানুষ চিনতে ভুল করেননি। নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের নেতা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই তিনি মনোনয়ন দিয়েছেন। এজন্য দলীয় সভানেত্রীর প্রতিও তারা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তাৎক্ষনিক এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘নৌকা প্রতীক পাওয়ায় মাননীয় প্রধনামন্ত্রীকে ধন্যবাদ এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জনগণই আমার শক্তি, তারাই আমাকে আবার নির্বাচিত করবে। এরই মাধ্যমে আগামী ১৬ জানুয়ারি তাঁকে আরেকটি বিজয় উপহার দেবো। মানুষের কল্যাণে নৌকার মাঝি হয়ে আজীবন মানুষের সেবা করে যাবো।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *