Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আইভী নীরব ভোটেই জয় ছিনিয়ে আনবে

০৫ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 96 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে সাত মেয়র প্রার্থী অংশ নিলেও মূল আলোচনা আইভী ও তৈমুরকে ঘিরে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা তত বাড়ছে। নির্বাচনী উত্তাপের পাশাপাশি চলছে নির্বাচনের চুলচেরা বিশ্লেষণ। কে হবে আগামীর মেয়র। প্রচার প্রচারণায় দুই প্রার্থীই এগিয়ে থাকলেও নীরব ভোটাররাই জয়ের বড় ব্যবধান গড়ে দিবে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন মানুষরা। বিগত নির্বাচন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এই নীরব ভোটাররাই বরাবর আইভীর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এখন প্রশ্ন আইভীর এই নীরব ভোটার কারা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন আইভী। এই কারণে তার রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এই ভোট ব্যাংকে রয়েছে নারী, কর্মজীবী, দল নিরপেক্ষ সচেতন ভোটাররা। বরাবরেই এই ভোটাররাই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আইভীর জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়। এছাড়া নিজ দলের বাহিরে বিএনপির ‘মৌলিক ভোট ব্যাংকে’ ও ভাগ বসান আইভী। আইভীর সততা, ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরে আস্থা রাখে এই ভোট ব্যাংক। ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির নুরুল ইসলাম সরদারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের কর্মদক্ষতা। যে কারণে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে প্রায় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন একেএম শামীম ওসমানকে। আইভীর জনপ্রিয়তার কাছে টিকতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা। পুনরায় ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আইভী। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষরা দাবি করেন, আধুনিক নারায়ণগঞ্জ সিটির উন্নয়নের রূপকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পৌরসভা ও পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনে ১৮ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন আইভী। এই ১৮ বছরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চিরচেনা রূপ পাল্টে দিয়েছেন তিনি। ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নগরবাসীর জীবনযাত্রায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছেন তিনি। বাসযোগ্য একটি নগর গড়তে রাস্তা, ড্রেন নির্মাণের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন করেছেন, একই সাথে মাঠ, খাল, উদ্ধার করে পার্ক, লেক নির্মাণ করে নগরবাসীর জন্য বিনোদনের স্থান করে দিয়েছেন তিনি। সবুজায়ন করে বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও চারদিকে দৃশ্যমান। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের অলিগলির সড়কগুলোও মেয়র আইভীর উন্নয়নের ছোঁয়ায় আজ পাকা। যেসব এলাকা অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়তো সেসব এলাকায় একের পর এক ড্রেন নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে দিয়েছেন স্বস্তি। শেখ রাসেল পার্ক নির্মাণ, বাবুরাইল খাল, সিদ্ধিরগঞ্জ খালসহ বিভিন্ন মাঠ, জলাশয় উদ্ধার ও আধুনিক সড়ক বাতি স্থাপন ও সৌন্দর্যবর্ধন করে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যমে রূপান্তরিত করেছেন। শুধু উন্নয়ন নয় পাশাপাশি তিনি লড়েছেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিসন্ত্রাসীদের মতো দৃশ্যমান গণশত্রুদের বিরুদ্ধে। মেধাবী ছাত্র ত্বকীসহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন। যেখানে অন্যায় সেখানেই প্রতিবাদী আইভী। প্রতিকূলতার মুখেও প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। যে নারায়ণগঞ্জ একসময় ছিল সন্ত্রাসের জনপদ, আতঙ্ক ছিল শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী সেখানে এখন মানুষ প্রতিবাদ করে। অনেকের মতে, রক্তচক্ষুকে ভয় না করার সাহস নগরবাসী পেয়েছেন মেয়র আইভীর কাছে। আইভী আজ এই শহরের মানুষের সাহসের বাতিঘর। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি সচেতন মানুষের দাবি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও কখনো দলবাজি করেন না আইভী। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেন। তাই বিএনপির উদারপন্থী ভোটাররা স্থানীয় নির্বাচনে বরাবরই আইভীকে ভোট দেন। তার প্রমাণ গত ২০১৬ নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও বন্দর—এই তিনটি থানার ২৭টি ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া বাকি ২৫ টিতেই হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী। এমনকি ১২টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হলেও ২ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি ১১টিতেই হেরেছেন বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেন, আইভী মানে ম্যাজিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আইভী এখন আইকন। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতার দাপট দেখানো দলবাজি রাজনীতির বিরুদ্ধে আইভী প্রতিবাদের প্রতীক। বলা হয়ে থাকে, একজন রাজনৈতিক নেতার স্বপ্নের সাথে যখন অগণিত মানুষের স্বপ্ন মিশে যায়, তার চিন্তা কর্মের মাঝে যখন মানুষ আশার আলো দেখতে পায়, তখনই তিনি গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেন। আইভী নারায়ণগঞ্জের সেই গণমানুষের নেতা। রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে আইভীর নীরব ভোটাররাই হবে বড় ফ্যাক্টর। তারা এবারও বড় ব্যবধানে আইভীর জয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ভাবছেন তারা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *