Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

আইভী-শামীমের বিরোধে ফায়দা কাদের

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 74 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে বিভিন্ন ইস্যূ নিয়ে এখন উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। মেয়র বিরোধীতার উত্তাপ এসে লাগছে দলীয় কর্মীদের গাঁয়ে। আর এ বিরোধ চাঙ্গা রাখতে একটি পক্ষ গোপনে ঘী ঢেলে যাচ্ছে বলে একাধিক নেতার অভিযোগ।  প্রমাদ গুণছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেন তামাশা দেখছেন! জেলা আওয়ামীলীগের মুরুব্বীরা সেফ সাইডে থাকতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। তাঁরা কিছুই বলছেন না। বিশেষ করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রাজনীতিবিদ মোঃ আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর সহ কেউ এগিয়ে আসছেন না। বরং আড়ালে আবডালে জেলার দায়িত্বশীল নেতারা এবং তাদের অনুসারিরা দুই পক্ষকেই উস্কে দিচ্ছে। ফলে দিন দিন বিরোধ বাড়েই চলেছে। আগে শামীম ওসমানের একদল অনুসারী মাঠে নেমে মেয়র বিরোধীতা করতো। নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমান দু’জনেই যার যার অবস্থানে একে অপরকে ঘায়েল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে জেলার সিনিয়র নেতারা চুপচাপ রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ দুই পক্ষের বিরোধের সুযোগে কেউ কেউ রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই গ্রুপের অনুসারিাই ছড়াচ্ছে বিরোধীতার বিষবাষ্প। দলের রন্ধ্রে রন্দ্রে বিভক্তির জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। শহরের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে।  মেয়র আইভীর বিরোধীতায় দু’ভাই একত্রে কাজ করছে বলে আইভীর অনুসারিদের অভিযোগ। জিউস পুকুর ইস্যুতে সবশেষ ৬ ফেব্রুয়ারী পুকুরের সামনে ও এর আগে ২ ডিসেম্বর চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করা হয়। এতে উপস্থিতি বেশীরভাগ ছিলেন এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী। তাঁরা মেয়র আইভীকে প্রয়োজনে চেয়ার থেকে টেনে হিচড়ে নামানোর হুমকি দেন। অপরদিকে মাদ্রাসা ও মসজিদ ইস্যুতে ১২ ফেব্রুয়ারী শহরের চাষাঢ়ায় বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে সমাবেশ করে হেফাজত ও ওলামা পরিষদের নেতারা। সেখানেও তাঁদের পক্ষ থেকে মেয়রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। যদিও মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, আমরা কারো ইঙ্গিতে নয়, বরং মসজিদ রক্ষায় প্রতিবাদ করাকে ঈমানী দায়িত্ব মনে করি। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, হিন্দু মুসলমান ক্ষেপিয়ে মনে করেছেন ওই শামীম ওসমান গুন্ডা, যিনি প্রকৃত অর্থে একজন ছিচকে গুন্ডা, যার কোন সাহস নাই। সাহস থাকলে আমার সাথে লড়–ক। কখনো হকার, কখনো হিন্দু, কখনো অমুকদের এতো ছোট মন মানসিকতা যে তার কোথা থেকে হয়। সৎ সাহস থাকে তো আসুক আমার সাথে । আমি তাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি শামীম ওসমানের সৎ সাহস থাকলে নারায়ণগঞ্জে আসুক। ওই আলেমদের নিয়ে, হিন্দুদের নিয়ে জিউস পুকুরের ধোয়া তুলে, ফতোয়া দিয়ে, সিধুর পড়েছি হিন্দু হয়ে গিয়েছি এ সমস্ত কথা এখন এই যুগের মানুষ খায় না। আইভী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের যদি এতো সমস্যা শামীম ওসমান সিটি কর্পোরেশনে আসুন খায়েশ থাকলে লড়–ক। একবার তো লড়েছেন আরেকবার লড়–ক সমস্যা নাই। আমি অনেক কথাই বললাম। কারণ নারায়ণগঞ্জবাসীর জানার অধিকার আছে এক তরফা কোন কিছুই চলে না। আমি এই শহরের মানুষের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছি। সব কিছু বিসর্জন দিয়ে এই শহরের মানুষের জন্য আমার আওয়াজ তুলেছি, একের পর এক হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমি আওয়াজ তুলেছি। এই শহরের মানুষ কথা বলতে পারতো না। স্তব্দ করে দেওয়া হয়েছিল দীর্ঘ ৫০ বছর। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষ কথা বলতে শিখেছে। আমাকে ভয় দেখায় লাভ নাই। আমার বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলবেন আসুন দেওভোগ ঢুকুন। আমি তো বললাম দেওভোগ নারায়ণগঞ্জের রাজধানী। দুই যুগ ধরে এই দেওভোগ নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন সাহস থাকে তো আসুন। প্রশসানের উপর ভর করে মামলা দিয়ে দেওভোগ, পাইকপাড়ার মানুষকে নাস্তানাবুদ করে রাখেন। প্রশাসনকে ছেড়ে আসুন। দেখবো আপনি কেমন পুরুষ। আরো ঘটনা ঘটে গেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে প্রত্যাশা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছ থেকে। আইভী বলেন, দুই ভাই ঘোষণা করে দেন নেত্রীকে ছাড়াই। নারায়ণগঞ্জের মেয়র ঘোষণা করে দেন। জাতীয় পার্টি নিয়া আছেন ওইটা নিয়াই থাকেন। লাঙল নিয়া আছেন লাঙল নিয়াই থাকেন। নৌকায় আপনার প্রার্থী দেওয়ার মত যোগ্যতাও নাই সামর্থ্যও নাই। অন্যের টাকা দান করে দানবীর হয়ে যান। ব্যবসায়ীদের টাকা দান করে দানবীর হয়ে যান। দানবীর আছেন দানবীর অবস্থায়-ই থাকেন। মুন্নাকে নিয়ে শফিদের নিয়ে এতো বেশি বাড়াবাড়ি কইরেন না। এতো বেশি বাড়াবাড়ি করলে কারোই ছাড় না। কেউ ভাল না আমিও ভাল না। আল্লাহ আপনাদের তৌফিক দেক নাটক মঞ্চস্থ করার। আর আমাকেও তৌফিক দেক জনগনকে নিয়ে সেই নাটক দেখার। সবমিলিয়ে নারায়নগঞ্জের আওয়ামীলীগের রাজনীতি এখন অনেকটাই উত্তপ্ত।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *