আজ: রবিবার | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৮:০৫

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

আওয়ামীলীগ জাপার বিরোধ চরমে

ডান্ডিবার্তা | ২১ নভেম্বর, ২০২০ | ৭:৪৯

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রবীন আওয়ামীলীগের রাজনীতিবিদ আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙ্গে ফেলে সমালোচনার জন্ম দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে এনেছেন সোনারগাঁয়ের জাপা দলীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। তার এহেন কর্মকান্ডে উঠে এসেছে এতদিন ধরে চাপা থাকা তার বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ ও ক্ষোভ। আওয়ামীলীগের জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা ও সোনারগাঁয়ের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে তুলছেন এসব অভিযোগ। দল ক্ষমতায় থাকতেও নাজেহাল অবস্থায় থাকা সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা এবার এ ঘটনায় তাই বিচার চান খোকার। এর আগেও একাধিকবার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ, তাদের ধমক দেয়া, তাদের বিভিন্ন কাজে ও স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠে খোকার বিরুদ্ধে। সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন কাজ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যেন না পায় সেজন্য বরাবরই শক্ত অবস্থানে ছিলেন খোকা। এ ছাড়াও স্থানীয় রাজনীতিতেও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে মাঝে বাধা দেন খোকা, যার কারণে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এ উপজেলায় দলীয় কাজ প্রভাবমুক্ত থেকে করতে পারতেন না। দল ক্ষমতায় থাকলেও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা কোন রাজনৈতিক সুবিধা পাননা এখানে। এদিকে তার এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন। সোনারগাঁ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে তাঁরই আসনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রতিহতের দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার ভবিষ্যতে খোকার এসব কর্মকান্ডের সমুচিত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ মানববন্ধন থেকে এসব ঘোষণা আসে। সোনারগাঁ পৌর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসুচী পালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনারগাঁ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার। বিএনপি ও জামায়াতের লোকদের জোর করে জাতীয়পার্টিকে নিয়ে মনে করছেন সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হয়ে গেছে এটা আপনার ভুল ধারণা। আপনাকে এমপি বানাতে সোনারগাঁ উপজেলা আমওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে কাজ করেছে আপনি তা ভুলে গেছেন। আপনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছেন। এখন থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর কোন প্রকার নির্যাতন ও শেখ হাসিনার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবেন না। তা হলে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আর বসে থাকবেনা, তারা আপনাকে দাঁতভাঙা জবাব দিবে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী নিয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জকে অচল করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। একই সাথে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগ। লিয়াকত হোসেন খোকা ক্ষমতা লোভে বিভিন্ন কর্মকান্ড করে যাচ্ছে, সেগুলো ইতিমধ্যে সমলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবার তিনি অপরাধ করে পাড় পেয়ে যাওয়া, তার অপরাধ দীর্ঘ হচ্ছে। এমপি খোকা কিভাবে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাম ভেঙ্গে ফেলে, এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। প্রসঙ্গত এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের দাবী এমপি খোকা উপস্থিত থেকেই ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এ লঙ্কাকান্ড ঘটে। স্থানীয় সূত্র বলছে, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশের পরে স্কুলের মূল ফটকের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম দেখে বেশ রাগান্বিত হন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের উপর চটে যান। আর আনোয়ার হোসেনের নাম কেন লেখা হয়েছে সেটা জানতে চান। আশেপাশের অনেক লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে তিনি চলে গেলে তার ছাবিক নামে এক অনুগামী সেই ফলক ভেঙে ফেলে। সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান বলেন, এমপি সাহেব স্কুলে এসে করোনাকালীন সময়ে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে কম টাকা রাখা হয় এটা গভর্নিংবডির কাছে জানানো কথা বলেন। পরে স্কুলের গেটের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামের ফলক দেখে তিনি বেশ রাগান্বিত হয়ে উঠেন। এসময় তিনি আমাকে অনেক ধমকা ধমকি করেছে। এক পর্যায়ে তিনি ধমক দিয়ে বলেছেন, নাম ফলক (জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন) এখন ভাঙেন। রাজস্বখাতের টাকায় নাকি স্কুলের গেইট নির্মিত হয়েছে। তাই তিনি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। পরে তিনি চলে গেলে তার লোকজন এসে এই ফলক ভেঙে দেয়। স্কুলের গভর্নিংবডির সভাপতি ফারুক ভূইয়া বলেন, আমার এক আত্মীয় মারা গিয়েছে। একারণে আমি ব্যস্ত ছিলাম। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামের ফলক ভেঙে দেয়ার কথা আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমি বিস্তারিত জানিনা। তবে এই কাজটা খুব খারাপ হয়েছে। যে বা যারা করেছে কাজটা ভুল করেছে। এটা করা ঠিক হয়নি। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলা পরিষদের ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গেইট ও দেয়াল নির্মাণের জন্য। উদ্বোধনে জেলা পরিষদের নাম ফলক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সব উপজেলায় সেটি হচ্ছে। সে জাতীয় পার্টির এমপি হয়ে যে ঔদ্ধত্ব আচরণ করেছে তার নিন্দা করছি। এই বিষয়টা আমি সর্বমহলে জানাচ্ছি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীসহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা দলটির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনারগাঁ এর এমপি লিয়াকত হােসেন খােকার নির্দেশে সােনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হােসেন এর নামফলক ভেঙ্গে দেওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবন্দ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমপি’র এহেন আচরনে সকল আওয়ামী পরিবার এর ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার এক প্রেস বিজ্ঞতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান- নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূইয়া, আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ.কে,এম আবু সুফিয়ান, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক খালিদ হাসান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মােঃ ইসহাক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ নিজাম উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকারসহ অন্যান্য নেতৃবন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *