আজ: বুধবার | ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১২:৪০

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

আজ বেদনাবিধুর বক্তাবলী দিবস

২৯ নভেম্বর, ২০২০ | ৭:৪০ পূর্বাহ্ন | ডান্ডিবার্তা | 81 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লার বক্তাবলীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনাবিধুর। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দুর্গম চরাঞ্চল বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত বক্তাবলীতে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতা যুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একসাথে এত প্রাণের বিয়োগান্ত ঘটনা দ্বিতীয়টি ঘটেনি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে একাত্তরের ২৯ নভেম্বর দিনটি ছিল নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনাবিধুর। এই দিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দুর্গম চরাঞ্চল বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত বক্তাবলীতে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। স্বজন হারানোর ব্যাথা ও কষ্ট নিয়েও শ্রদ্ধার সাথে প্রতিবছরই পালিত হয় এই দিবসটি। আজ ২৯ নভেম্বর রবিবার বক্তাবলি দিবস। এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত অর্থবহ একটি দিন। ১৯৭১ সালে ২৯ নভেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের উপুর্যপরি আক্রমনের মুখে পাক হানাদাররা পিছু হঠতে শুরু করে। এসময় রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর পরামর্শে তারা ১৩৯ জন নিরস্ত্র গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে লাইন ধরিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এতে নিহত হয় শাহিদ, ফারুক, অহিদ, মনির, শাহ আলম, রহমতউল¬াহ, শামসুল, আলম, সালামত, খন্দকার, সুফিয়া, আম্বিয়া, খোদেজা সহ ১৩৯ জন মুক্তিকামী মানুষ। পিছু হটার সময় হানাদার বাহিনী পেট্রোল ও গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী পার সংলগ্ন বক্তাবলী পরগনার রাজাপুর ডিগ্রীর চর, মুক্তাকান্দি, গঙ্গানগর, রাম নগর, গোপাল নগর, রাধানগরসহ ২২ টি গ্রাম। এদিকে স্বাধীনতার পরবর্তি ৪৯ বছর ধরে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জবাসী বক্তাবলী দিবস পালন করে আসছে। একাত্তরের পর থেকে ১৩৯ জন নিহত হওয়া ও ওইদিন পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধের খবর জেনে আসছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। জেলার সকল স্তরের মুক্তিযোদ্ধারাও বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য আর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে বক্তাবলীর কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শহীদদের স্মরণে শোকসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে জাতির জনকের কন্যা ঘোষণা দিয়েছিলেন তার দল ক্ষমতায় এলে শহীদদের যথাযথ মর্যাদা ও তাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে একই মাঠে শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানও শহীদদের স্মরণে শ্বেতপাথরে স্মৃতিস্তম্ভ করার ঘোষণা দেন। তারপর আওয়ামীলীগের প্রয়াত, জীবিত প্রথম সাঁরির এমন কোন নেতা নেই যারা বক্তাবলীতে আসেননি। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান লক্ষ্মীনগর স্কুল মাঠে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ২০০১ সালে নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা মো গিয়াসউদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কানাইনগরে স্থাপন করেন স্মৃতিস্তম্ভ। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি চ্যানেলগুলো ফলাও করে ২৯ নভেম্বরের ঘটনা প্রচার করতে থাকলে সাংস্কৃতিক সংগঠন বধ্যভূমি ’৭১ সামাজিক সংগঠন ও বক্তাবলী ফাউন্ডেশন ফতুল্লা আসনের সাবেক সাংসদ সারাহ্ বেগম কবরীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করলে তারা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে বলে। তারই ফলশ্রুতিতে ২০১২ সালের ২৯নভেম্বর গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং সারাহ্ বেগম কবরীকে নিয়ে লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লক্ষ্মীনগরে অবস্থিত ’৭১ বধ্যভূমি সরেজমিনে গিয়ে কবর জিয়ারত করে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত অফিসের প্রধান প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বাজেট তৈরি করে তার থেকে ৭৫ লক্ষ টাকায় বধ্যভূমিটি সংরক্ষণ-রক্ষণাবেক্ষনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত অফিসে যোগাযোগ করলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ডিও. লেটার আসলেই কাজ শুরু হবে। কিন্তু আদৌ কাজ শুরু হয়নি। সবশেষ ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ১৯৭১ সালে নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে পাক হানাদার বাহিনী নির্মতায় হত্যার শিকার ১৩৯ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকিৃতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেদিন অনুষ্ঠানে তিনি পরিবারগুলোর সদস্যদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন, ‘‘স্বাধীনতার ৪৫ বছরে পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এটা পরিতাপের বিষয়। তাই পরিবারগুলোর তালিকা করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: আলীর কাছে জমা দেওয়ার আহবান করেছিলেন। পরে সেই তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শহীদের পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হবে। ’’তিনি শোক সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আরো বলেন, নদী বেষ্টিত এ বক্তাবলীকে ৯৫ সালে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় উপ-শহর ঘোষণা করেছিলাম। এবার শহরে রূপান্তিত করব। এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, যথাযোগ্য মর্যাদায় বক্তাবলি দিবস পালনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে শহীদদের স্মরণে কাজ হয়েছে। আমরা গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে একটি প্রকল্প জমা দিয়েছি। সেখান থেকে অর্থ ছাড় পাওয়া গেলেই ১৩৯ জন স্মরণে বধ্যভ’মি সংরক্ষণের বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।



Comment Heare

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Top