Home » প্রথম পাতা » ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

আতঙ্কে আ’লীগের বির্তকিতরা

২১ নভেম্বর, ২০২১ | ৩:১৩ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 64 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের বহিষ্কার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমের এই বহিস্কারের পর আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনে কত কঠোর হতে পারেন তা হারে হারে অনুভব করছে নারায়ণগঞ্জের অনেকে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ করে অথচ বাম ঘরানার লোকদের নিয়ে যারা সভা সমাবেশ করে কিংবা আওয়ামীলীগের মনোনিত মেয়রের সামনে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এমনকি সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন তারা এখন অনেকটাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাছাড়া এবারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে অনেক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। যে সকল ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র পর্যায়ের নেতারাও জড়িত রয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, গত সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘কটূক্তি’র একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন মেয়র জাহাঙ্গীর। এরপর গাজীপুরে দলের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। তার বহিষ্কার দাবি করে সড়ক অবরোধ করে মিছিল-সমাবেশও করেন নেতাকর্মীরা। দলের নেতাকর্মীরা এই ধরনের কাজকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখেন। এরপর গত ৩ অক্টোবর ‘দলের স্বার্থপরিপন্থী কর্মকান্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে’ তাকে শোকজ চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। গত শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমান অপরাধে অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জেও অনেকে রয়েছেন। জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই জমা দেয়ার ক্ষেত্রে যাদের নাম রাখা হয়েছিল তাদের নিয়ে অনেক বিতর্ক ছিল। তাদের নামের সাথে যুক্ত রয়েছে কাউয়া হাইব্রীড বিশ্লেষণ। ফলে এসব নাম জমা দেয়ার ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করেনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার স্বাক্ষর ছাড়াই এসকল নাম জমা দিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল। আলীরটেক ইউপি নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেলে ছিলেন মতিউর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও সায়েম আহমেদ। কিন্তু এদের কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেই। চেয়ারম্যান হওয়ার আশায় তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। আর এ বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আব্দুল হাই মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি স্বাক্ষরও করেননি। কিন্তু তার স্বাক্ষর ছাড়াই এসকল নাম কেন্দ্রে জমা পড়েছে। একই সাথে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জসিমউদ্দিন। কিন্তু তার নামটি না পাঠিয়ে নব্য আওয়ামী লীগার ব্যবসায়ী ফজর আলীর নাম পাঠানো হয়েছিল। যা মেনে নিতে পারেননি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তিনি আলাদাভাবে জসিম উদ্দিনের পক্ষে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। আব্দুল হাইয়ের ক্ষমতাবলেই জসিমউদ্দিন নির্বাচনী মাঠে নামেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের জয় নিতে পারেননি। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি কলঙ্কিত ঘটনা ঘটে কুতুবপুরে। কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীকে পিছনে ফেলে বিএনপি নেতা মনিরু আলম সেন্টুকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রে নাম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি কবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন তা কেউ না জানে না। অথচ এই মনিরুল আলম সেন্টুর হাতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা অপমান অপদস্থ ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। আর তাকেই এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া নাম কেন্দ্রের নাম ছাড়া কেন্দ্রে নাম পাঠানো শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ কিনা জানতে চাইলে আব্দুল হাই বলেছিলেন, এটা অবশ্যই শৃঙ্খলা ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এদিকে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী কাজিম উদ্দিন প্রধানের বিরোধীতা করে অনেকেই জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করেছেন। আর তাদের মধ্যে অন্যতম হলো মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান ও যুবলীগ নেতা খান মাসুদ। তারা শুরু জাতীয় পার্টির পক্ষে মাঠে নামেননি বরং জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জয় করানোর জন্য রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছিলেন। দিনরাত সবসময় তারা নিজ দলের প্রার্থী রেখে বিরোধী দলের জন্য কাজ করেছেন। সেই সাথে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টায় দলীয় প্রার্থীরই পরাজয় ঘটে। ফলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। অন্যদিকে সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। যে সকল ঘটনায় তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে অভিযুক্ত। জেলা আওয়ামী লীগের অনেকেই তার পদত্যাগও চেয়েছেন।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *