News

আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল না’গঞ্জ

ডান্ডিবার্তা | 26 March, 2020 | 10:29 am

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রাজধানী ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেক আন্দোলনে সে সময়ে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। স্বাধীকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম এ নারায়ণগঞ্জ জেলাতেই। এ কারণে স্বাধীনতার বর্ষ পূর্তিতে স্বাধীকার আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের সেই অনবদ্য ও গৌরবোজ্জল ভূমিকাকে স্মরণ করে তুষ্ট এখানকার মানুষ। আর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা উচ্ছ্বসিত স্বাধীনতার বর্ষপূতির সময়ে তাদের দল ক্ষমতায় থাকায়। স্বাধীনতার বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। শহরের চাষাঢ়ায় বিজয় স্তম্ভের চারদিকে নানা রংয়ের আলোকসজ্জা দিয়ে বর্ণিল করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ বিভিন্ন স্থানেও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে একটা আতংক কাজ করছে। আর এ মহাসষ্কাটে আমরা জেলাবাসীর সাথে রয়েছে। করোনা ভাইরাস বিষয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ করোনা প্রতিরোধসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এবারের স্বাধীনতা দিবসটি আমরা অণ্যভাবে পালন করবো। এবারের স্বাধীনতা দিবেসের অঙ্গীকার হউক করোনা ভাইরাস আতংকিত মানুষের পাশে থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কারন, স্বাধীনতা তো আর আমরা সহজে অর্জন করতে পারিনি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের পতাকা এবং স্বাধীন ভৌখন্ড পেয়েছি। তাই নারায়ণগঞ্জে করোনা মোকাবেলায় আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমরা আজকের দিনটাকে ত্যাগের বিনিময়ে সাধারন জনগনের পাশে থেকে করোনা জিরো টলারেন্সে রাখার জন্য সবকিছুর ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। সুতরা, করোনাকে জিরো টলারেন্সে আনার মাধ্যমে আমাদের ত্যাগের মহীমার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এজন্য আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জবাসীকে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশ মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মফিজুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধু তাকে চিনতেন। তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের প্রয়াত বাবা একেএম সামসুজ্জোহার ঘনিষ্ঠ জন। এককালের এ তুখোড় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাধীনতার কথা বলতে গেলে নারায়ণগঞ্জ ও আওয়ামী লীগের নাম আসবেই। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এ দু’টি নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ, এ নারায়ণগঞ্জেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে। শহরের চাষাঢ়ায় শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব ওসমান আলীর মালিকানাধীন ‘বায়তুল আমান’ নামের বাড়িতে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষানী বিভিন্ন সময়ে এসে থেকেছেন। এ বায়তুল আমানেই হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রথম বৈঠক। এবার স্বাধীতার বর্ষ পূতিতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় বেশ তুষ্ট এ প্রবীণ নেতা। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেন, “৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জবাসী ও জেলা আওয়ামীলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকায় স্বাধীনতা দিবস সঠিক মর্যাদায় পালন করা হয়ে থাকে। তবে এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হউক করোনা মুক্ত নারায়ণগঞ্জ উপহার দেয়। করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের সকল নিয়ম মেনে চলার জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ‘আমি প্রথম নারী হিসেবে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বহু আন্দোলন ও জীবনের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। আর আমার গায়ে আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিন প্রাণ আমার প্রয়াত পিতা আলী আহাম্মদ চুনকার রক্ত বইছে। এছাড়াও এবারের স্বাধীনতা দিবসটি পালিত হচ্ছে বিগত সময়ের চেয়ে অনেকটা আলাদা। এবারের দিবসটিতে নারায়ণগঞ্জবাসীকে অনেকটা ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আর এ ত্যাগটা হচ্ছে করোনা মোকাবিলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ৭১’এর মহান মুক্তিযোদ্ধে যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছি। ঠিক এসময়টাও যুদ্ধের সময়। করোনা নামক ভাইরাসের সাথে আমাদের যুদ্ধ করার সময় এসেছে। আমরা জেলা প্রশাসনের প্রদত্ত সকল নিয়ম কানুন মেনে চলার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করার মাধ্যমে সুস্থ জীবন এবং আশে পাশের মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হউক এ দিবসের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের অবদান ছিল অনেক বেশি। শহরের চাষাঢ়ায় যে স্থানে এখন শহীদ জিয়া হল মিলনায়তন রয়েছে সে স্থানেই ৬৯ এর ৬ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন থেকেই নারায়ণগঞ্জ ভূমিকা রাখতে শুরু করে। ৫২ সালে বায়তুল আমান থেকেই ভাষা সৈনিক শফি হোসেন খান, মাহবুব জামিল, মোস্তফা সারোয়ার সহ অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছিলেন। তখন থেকেই এ জেলায় আন্দোলন দানা বাধতে শুরু করে। আর স্বাধীনতা অর্জনে নারায়ণগঞ্জের মানুষের ত্যাগ রয়েছে।

[social_share_button themes='theme1']

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *