Home » প্রথম পাতা » ফারদিন হত্যা মামলায় তথ্যগত ভুল: ডিবি

আবর্জনার ভাগাড়ে নগরীর জিমখানা লেক

০৩ নভেম্বর, ২০২২ | ৯:০২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 46 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নগরীর জিমখানা লেক, ইট-পাথরের কোলাহলে শহরের মাঝে এক টুকরো বিনোদন স্পট। সবুজে ঘেরা লেকে দিনভর থাকে দর্শনাথীদের বিচরণ। লেকটির সৌন্দর্য বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া এবং খাবারের দোকানের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে লেকের পানি। ময়লা ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় তা ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র, এমনকি পানিতেও। শহরের সৌন্দর্য বর্ধনে লেকের উন্নয়ন করা হলেও  দিনে দিনে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে জিমখানা লেক। দীর্ঘদিন লেকের চারপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় লেকপাড়ে ময়লার স্তর জমে আছে। এসব ময়লা আবর্জনায় একদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ অন্যদিকে বাড়ছে মশার উপদ্রব। লেকের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের হলেও তাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা নেই বলে অভিযোগ করেন দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা যায়, শেখ রাসেল পার্কের বাহিরে প্রধান ফটক থেকে লেকের চারপাশে প্রায় অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমান খাবারের দোকান। এসব দোকানের উচ্ছিষ্ট বর্জ্যসহ স্থানীয়দের গৃহস্থালি বর্জ্যে লেকপাড়ের চারপাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ তৈরী হয়েছে। দূগর্ন্ধ ও ভোগান্তিতে দর্শনার্থীরা। লেকের পাশে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। লেকে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা জমে থাকা পানিতে ফেলছে টিস্যু,পলিথিন প্লাষ্টিকসহ অন্যান্য ময়লা আবর্জনা। এই পানিতে সৃষ্টি  হচ্ছে মশা-মাছির উৎপাদন। এদিকে লেকের চারপাশে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন রাখা হলেও সেই ডাস্টবিনের মুখ কাপড়ে বেঁধে বন্ধ করা রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ করলেও লেক পাড়ে ডাস্টবিনে থাকা বর্জ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে না। যার ফলে ডাস্টবিনের বর্জ্য পলিথিন, চানাচুর-বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবার সামগ্রীর প্যাকেট, ডাবের খোসাসহ হরেক রকম আবর্জনা উঁপচে পড়ে লেকের পানিতে। লেক পাড়ের স্থানীয় ভ্রাম্যমান দোকানের একজন বিক্রেতা বলেন, আমি নিজেই একটা ডাস্টবিন বন্ধ করে রাখছি। লেকের আশেপাশের মানুষ তাদের বাড়ির ময়লা এনে ডাস্টবিনে ফালায় রাখে। ময়লা প্রত্যেকদিন সড়ায় নেয় না পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ময়লার গন্ধে এখানে বসা যায় না। দুই একটা ডাস্টবিন ছাড়া সবগুলো ডাস্টবিন বন্ধ করে রাখছে আশেপাশের মানুষ। স্থানীয় এলাকাবাসী শফিক বলেন, লেকের পাশের খাবারের দোকানগুলো থেকে বেশি ময়লা লেকে পড়ে। এসব দোকানের ক্রেতারাও প্লাস্টিকের বোতল, অন্যান্য আবর্জনা লেকে ফেলে। ডাস্টবিনগুলোর পাশে যাদের দোকান, তারাই ডাস্টবিনগুলো বন্ধ করে রাখে। কারণ, ডাস্টবিনের জমে থাকা ময়লার দুগর্ন্ধে তাদের দোকানে ক্রেতা কম আসে। কাশিপুরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মোশারফ বলেন, লেকে মানুষ আসে একটু প্রশান্তির টানে, স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলতে। কিন্তু প্লাস্টিক পলিথিন ফেলে লেকের পানি নষ্ট করে ফেলছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা নাই। ডাস্টবিন ব্যবহার না করে লেকে ময়লা ফেলে। আশেপাশের দোকানদারদের ফেলা ময়লা-আবর্জনার কারণেই লেক বেশি দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের লোকজনের কোন ধরনের মনিটরিং বা তদারকি নেই। নলুয়া রোডের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, নিয়মিত ডাস্টবিনগুলোও পরিস্কারও করা হয় না। ফলে ময়লা ডাস্টবিন থেকে উপচে পড়ে। প্রয়োজনের তুলনায় ডাসন্টবিনও কম। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল এ বিষয়ে বলেন, জিম খানা লেকে প্রতিদিন ঘুরতে প্রচুর মানুষ আসে। তারা এসে অসেচতন ভাবে বর্জ্য ডাস্টবিনে না ফেলে, লেকের আশেপাশে ফেলে। কিন্তু লেকপাড়ের বর্জ্য সংগ্রহ করা হয় নিয়মিত। তবে লেক পাড়ের ডাস্টবিন বন্ধ করে রাখার বিষয়টি অবগত ছিলাম নাহ। লেকের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *