Home » প্রথম পাতা » প্রতিমন্ত্রী মুরাদের বহিষ্কার চাইলেন বাহাদুর শাহ

আ’লীগের অনৈক্যের কারিগড় কে?

০২ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 302453 Views

হাবিবুর রহমান বাদল
আওয়ামীলীগ টানা একযুগ ধরে ক্ষমতায় থাকলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও তাদের সহযোগি সংগঠনগুলির মধ্যে স্পষ্টত বিভাজন বিরাজ করছে। শহরের এপার-ওপার দুই মেরুতে আওয়ামীলীগসহ সহযোগি সংগঠনগুলি অবস্থান করছে এটা দিবালোকের মত সত্য হলেও নারায়ণগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকরা এই বিভাজন দুর করতে দিনের পর দিন প্রতিবেদন প্রকাশ করার পরও দুই মেরুর মধ্যে কোন সমঝোতা হয়নি। এই বিভাজন দুর করতে সমঝোতার পক্ষে পেশাদার সাংবাদিকরা তাদের লিখনির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের বুঝানোর চেষ্টা করেছে এখানকার রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তবে নারায়ণগঞ্জের দৃশ্যমান উন্নয়নসহ নারায়ণগঞ্জ হবে দেশের অন্যতম সুন্দর শহর। বাংলাদেশের অন্যতম ধনী শহর নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শত ইচ্ছা থাকা সত্বেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের মধ্যে ঐক্যগড়ে উঠেনি। গণভবনে দুই মেরুর নেতৃত্বদানকারীদের ডেকে নিয়ে সমঝোতা করে রাজনীতি করার জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দেশবাসী জানে এই কোন্দলের কারিগড় কারা। ক্ষমতাসীন দলের একে অন্যজনের পরচর্চায় যে সময় ব্যয় করে তার অর্ধেকও যদি নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতো তবে নারায়ণগঞ্জবাসীর ভাগ্য অনেকটাই পাল্টে যেত। নিজেদের কোন্দলের সকল দায় সাংবাদিকদের উপর চাপিয়ে দিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন শুধু সাধারণ মানুষ নয় বরং নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও সমালোচনার মুখে পরেছেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠান সমাপ্তির পূর্ব মুহুর্তে অনেকটা আকস্মিক ভাবে আনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের কোন্দলের জন্য সাংবাদিকরা দায়ি। সাংবাদিকদের কারণে রাজনীতিবিদ- জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। আনোয়ার হোসেন যখন বক্তব্য রাখেন তখন মূলত প্রেসক্লাবের সেই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। অথচ তিনি রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজির মত বললেন, রাজনীতিবিদদের অনৈক্য নাকি সাংবাদিকদের কারণে হয়েছে। এর উত্তর দিতে গেলে অনেক উপমাই দেয়া যাবে। প্রকাশ্য মঞ্চে হাতাহাতি কিংবা কোন নেত্রীর শরীরে হাত তোলা বা নিজ দলের প্রতিপক্ষকে ঘয়েল করতে তারই সাধারণ সম্পাদকের ভাষায় কাউয়া কিংবা অনুপ্রবেশকারীদের কাছে টানা কিংবা ক্ষমতায় বলয় বড় করতে রাতের আধারে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা এ সবই কি সাংবাদিকদের কারণে হচ্ছে? আনোয়ার হোসেন একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ। তারমত একজন প্রবীন নেতার মুখে এ ধরণের বক্তব্য শোভা পায়নি। একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে বলতে পারি, নারায়ণগঞ্জের পেশাদার সাংবাদিকরা আওয়ামীলীগের ঐক্যের জন্য সব সময় তাদের কলম ইতিবাচক ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। রাজনীতিতে শামীম-আইভীর বিভাজনের পিছনে কার ইন্ধন কাজ করেছে এ বিষয়টি বের করতে গবেষনার প্রয়োজন নেই। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ আওয়ামীলীগের কোন্দলের কারিগড়দের ঠিকমত চিহিৃত করতে না পারলেও আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কারা কোন্দল লাগিয়ে ফায়দা লুটছে তা ভাল করেই জানে। এ বিষয়ে বিস্তারিত না বলে শুধু বলবো জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামীলীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল বলে আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। যদিও জাহাঙ্গীর আলম পরবর্তিতে ক্ষমা চাইলেও এখনো তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। পেশাদার সাংবাদিকরা আনোয়ার হোসেনের মত প্রবীন ও দায়িত্বশীল একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন বক্তব্য আশা করেনি বলেই গতকাল তা ছিল টক অব দ্যা টাউন। আমি নিজেও অস্বীকার করছি না সামান্য কম্পোজ করতে পারলেই এখন অনেকেই সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক বনে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা পেশাদার সাংবাদিকরা বিভিন্ন দফতরে অভিযোগসহ প্রশাসনের কাছে এনিয়ে দেন দরবার করলেও আপনাদের মত কিছু নেতার কারণেই কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারীরা শহরময় দাবরিয়ে রেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের দায়িত্ব থাকার কথা থাকলেও কতটুকু দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিজে একবার ভেবে দেখুন। রাজনীতিবিদদের অনৈক্যের জন্য সাংবাদিকরা যে দায়ি নয় তা পেশাগত ভাবেই আশির দশকের শুরু থেকেই এখনোবদি দেখে চলেছি। আওয়ামীলীগের অনেক অঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বললেও নিজেকে ভুল বলা হবে না। রাজনীতিবিদরা যে নিজেদের অনৈক্য নিজেরাই প্রকাশ করে তার সর্বশেষ প্রমাণ গত সোমবার জেলা আওয়ামীলীগের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বরাবর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও অডিও রেকর্ডসহ কয়েকপাতার অভিযোগপত্র দায়ের করেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের অনৈক্যের পিছনে সাংবাদিকদের কোন স্বার্থ নেই। আপনারা নিজেদের স্বার্থের কারণেই কখনো এদিকে আবার কখনো ওদিকে ঘুরে নতুন নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করে দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করে রেখেছেন বছরের পর বছর। সুতরাং ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের উপর নিজেদের দোষ চাপিয়ে বাহবা নেয়ার চেষ্টা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। পরিশেষে শুধু বলবো সত্য কথা লিখলে অনেক কথাই লিখা যায়। তবে প্রকাশ যোগ্য নয় এমন কিছু ঘটনাও থাকে। যা আমরা নিজ দায়িত্বে প্রকাশ করি না। পেশাদার সাংবাদিকদের এই অনৈক্যের জন্য দায়ি না করে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মনভাব গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। তবেই কোন্দলের কারিগড়রা প্রকাশ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মদের কাছে চিহিৃত হবে। আমরা একটি সুন্দর ও আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে সকল রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ঐক্য চাই। আশা করি আনোয়ার হোসেন সাহেব এই ঐক্য বাস্তবে রূপ দিতে কিছুটা হলেও সময় ব্যয় করবেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *