Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

আ’লীগের অনৈক্যে সমর্থকরা চিন্তিত

০৩ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 76 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নগরবাসী শীতের দাপটে যখন বিছানায় তখন প্রার্থীদের প্রচারনায় কিংবা মাইকের আওয়াজ আর ম্লোগানে এখন ঘুম ভাঙ্গে। এই ভাবেই চলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার প্রচারনা। গতকাল রবিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন প্রার্থীরা। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী সকালে ৪নং ওয়ার্ডে ও বিকালে ৫নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকার সকালে ২৭নং ওয়ার্ডে ও বিকালে ১৬নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। নির্বাচনী প্রচারনাকালে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, আমি জয় বাংলা স্লোগান দেই বলে অনেকেই আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাকে কাফের বলে অভিহিত করছে। আমি নাকি মসজিদ ভেঙেছি, মন্দিরের জায়গা দখল করেছি। আজ পর্যন্ত এমন কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আমি নারায়ণগঞ্জে এই পর্যন্ত আরও নতুন ৭ টি মসজিদ করে দিয়েছি। হেফাজতের সেক্রেটারী ফেরদৌস সাহেব আমার নামে নিয়মিত মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারনাকালে হাতী প্রাতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নারায়ণগঞ্জের হকাররাও এ দেশের মানুষ। তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং নারায়ণগঞ্জের নাগরিক যারা তাদেরকেও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে হবে। এটা এমন কোন সমস্যা না যে এটা সমাধান করা যাবে না। হকাররাও তো বিপদে আছে। তাদের এখানে বসতে হয় পুলিশকে টাকা দিয়ে। যতক্ষণ টাকা দেয় ততক্ষণ বসতে পারে এরপর বসতে পারে না। এদিকে রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামীলীগে বিভাজন থাকলেও এক তৈমূরের প্রার্থীতায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি একাট্টা হয়েছে। বিএনপি নেতারা তৈমূরকে বিজয়ী করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচন যেন বিএনপি নেতাকমীদের জন্য জাতীয় নির্বাচনে রূপ নিয়েছে। কিন্তু আওয়ামীলীগ দলীয় প্রতীক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে একাট্টা করতে পারেনি এখনো। যদিও আওয়ামীলীগ দাবি করছে তারা এক জোট হয়ে মাঠে কাজ করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে তা পড়ছে না। যেখানেই তৈমূর আলম গণসংযোগে যাচ্ছেন সেখানেই জেলা ও মহানগর বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এক জোট হয়ে মাঠে নেমে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যুগ যুগ ধরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে বিভাজন চলে আসছে। বিগত নির্বাচন গুলিতে বিভাজন কাজ করলেও তা এতটা স্পষ্ট ছিল না এবার তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। দলীয় প্রতীকও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিভাজন ভাঙ্গতে পারেনি। আর এ কারণে নৌকা মার্কার প্রার্থী আইভী অনেকটাই বিপাকে বলে মনে করছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপিতে বিভাজন থাকলেও দলীয় স্বার্থে তারা এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এতে করে চরম শঙ্কায় রয়েছে আওয়ামীলীগ। প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে আসছে কেন্দ্রীয় কোন না কোন আওয়ামীলীগ নেতা। তারা দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভাবে দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নামার জন্য কঠিন কঠিন ভাষা ব্যবহারসহ দল থেকে বহিস্কারের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে অনেক আওয়ামীলীগ নেতা ক্ষুদ্ধ বলেও জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা যার যেভাবে সুযোগ পাচ্ছেন ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার দাবিতে সকল প্রার্থীই কঠির হুশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন। গত শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিম নারায়ণগঞ্জে এসে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বা ইবিএম নিয়ে কোন ছলচাতুরি করলে নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেয়ার হুশিয়ারি দেন। এদিকে বিএনপির অঘোষিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম যিনি বিএনপির একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা তিনিও হুশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচনে কোন প্রকার ইঞ্জিনিয়ারিং করা হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। আর এনিয়ে কঠিন সমিকরনে রয়েছে আওয়ামীলীগ। মনোনয়ন দাখিলের সময় আওয়ামীলীগ যে ফুরফুরে মেজাজে ছিল এখন আর তা নেই। প্রতিদিনই তাদেরকে নির্বাচন নিয়ে নতুন হিসাব কষতে হচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ঢাক ডোল বাজছে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে নিয়ে। প্রতিদিন শত শত কর্মী নিয়ে তৈমূর ও আইভী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল রবিবার এড. তৈমূর আলম খন্দকার নাসিক ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া, হরীপুর, ফুলহর, বঙ্গশাসন, চাপাতলী ও মুরাদপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। এদিকে গতকাল রোববার দুপুরে প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন এক মত বিনিময় সভা করেন। সেই সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটি ও ভোট চাই, আমি দু’টি প্রশ্নের সম্মূখীন হই। একটি প্রশ্নের জবাব, আমার কাছে আছে। আরেকটি প্রশ্নের জবাব কর্তৃপক্ষ দিবে। প্রথম প্রশ্নটি হলো ভোটাররা জিজ্ঞাসা করে আপনি কী এবার বসে যাবেন? উত্তরে আমি বলি, আমি তো এবার কোন দলের প্রার্থী না, দলের কাছে আমার কোন চাওয়াও নাই, আমি নিজের পায়ে হাঁটছি, আমার বসার কোন সুযোগ নাই। আরেকটি প্রশ্ন করে, নির্বাচন কি সুষ্ঠু হবে কি না? জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফেলন ঘটবে কি না? এটার জবাব আমার কাছে নাই। এটার জবাব দিবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী ইভিএমের বিষয়ে বলেন, আমার বিরোধী প্রার্থীরা এটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও আমি শঙ্কা প্রকাশ করছি না। কারণ ২০১১ সালের নাসিক নির্বাচনে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল, তখন সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছিল। আশা করি এইবারের নির্বাচনও সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আমি নিজে নির্বাচন মনিটরিং করব। এই এলাকার ভোটারদের মাঝে যেন ক্ষোভের সৃষ্টি না হয়। আপনাদের সহযোগিতা আমার দরকার। আমার জীবনে আমি বহু লাশ দেখেছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমি আর লাশ দেখতে চাই না। এদিকে গত শনিবার রাতে গোয়েন্দা পরিচয়ে ফোনে তৈমূর আলমের কাছে চাঁদা চাওয়া হলে তৈমূর আলম থানায় লিখিত অভিযোগও করেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা জানিয়েছেন, নাসিক নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য খুব শিগগিরই শামীম ওসমানকে গণভবনে ডেকে পাঠাতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আইভী ও শামীম ওসমানের মধ্যে দূরত্ব থাকলে তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই ঘোছাতে পারেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভেতরে ভোটের আগে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। নাসিকে নির্বাচন পুরোপুরি ভাবে জমে উঠেছে। গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় নাসিকের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ভোটারদের সমর্থন আমার সাথে আছে। ইনশাল্লাহ ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে। ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হেনে, সিটি করপোরেশন বেশি ট্যাক্স নেয় বার বার এসব কথা বলে আমার বিরুদ্ধে না কথা বলা হচ্ছে। নির্বাচন মানেই চ্যালেঞ্জ। আমি এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি। আমি আমার সব ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছিছ। এখনো কিছু উন্নয়ন করা বাকি আছে। আমার এই ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলার মাঠ, পার্ক নেই। আমি নির্বাচিত হলে চেষ্টা করবো মানুষের এইসব সমস্যাগুলো সমাধান করার। এসময় তার সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার নাসিকের ২৭ ও ১৬ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে বলেন, আমি যতদিন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ছিলাম প্রত্যেকটা বাস ট্রাকে আমার টেলিফোন নম্বর দেয়া ছিল। আমি কারও ওপর নির্ভর করিনি। জনগনের মেসেজের ওপর নির্ভর করেছি। আমি সিটি করপোরেশন চালালে প্রশাসনের মতামতের ওপর নির্ভর করবো না। আপনাদের মতামতের ওপর নির্ভর করবো। তিনি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে হাতি মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান। এদিকে সন্ধ্যায় মহানগর আওয়ামীলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইভীর পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চান। এলাকায় এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের প্রচারনায় নারায়ণগঞ্জ শহর এখন উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *