Home » প্রথম পাতা » ফারদিন হত্যা মামলায় তথ্যগত ভুল: ডিবি

আ’লীগের কাধে বিএনপির রাজনীতি!

১২ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 46 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট দীর্ঘদীন ধরে ক্ষমতার সাধ গ্রহন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগসহ তাদের শরীকদলগুলো। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরও দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারেনি দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ। ফলে দলীয় বিভেদের জেলায় আওয়ামীলীগের দ্বিধাবিভক্তি অনেক পুরনো। অন্যদিকে বিএনপিতে কোন্দল থাকলেও অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার খড়গ নিয়েও দলটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা শামীম ওসমান। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই তার যথেষ্ট প্রভাব। দলের অপর নেতা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজস্ব বলয় নিয়ে আলাদাভাবে রাজনীতি করছেন। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা সভাপতি আবদুল হাই, সহসভাপতি সিটি মেয়র আইভী ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদল। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শামীম ও আইভী দ্বন্ধ থাকলেও শামীম ওসমান বলয়ের সঙ্গে রয়েছে সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ও সোনারগাঁ আসনের জাতীয় পার্টির অপর এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। অপরদিকে সিটি মেয়র আইভী বা পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সঙ্গে আছেন আড়াইহাজার আসন আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এই দুই বলয় নিয়েই চলছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি। এদিকে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি, মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারি করে জেলা বিএনপির ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন বছরের মাথায় কাজী মনির ও মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপরই তৈমুর আলম খন্দকারকে আহ্বায়ক এবং মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু নাসিক নির্বাচনে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে তৈমুর আলমসহ মহানগর বিএনপি নেতা এটিএম কামালকে বহিষ্কার এবং পরবর্তীতে শহর বিএনপির আরো ৯ নেতার স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কারনে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপির রাজনীতি। পরবর্তীতে বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে পূনরায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। তবে, মনিরুল ইসলাম রবির নেতৃত্বে জেলা বিএনপির রাজনীতি তেমন একটা আলোর মুখ দেখতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে, নারায়ণগঞ্জের এক প্রবাবশালী এমপির প্রেসক্রিপশন ধারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বর্তমান বিএনপির রাজনীতি!  তবে আওয়ামী লীগ সরকারের এই আমলে সৌভাগ্যবশত আওয়ামী লীগের অনেক নেতার চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন বিএনপির আলোচিত চার নেতা। এরা হলেন সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, বিএনপি নেতা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ বিশ্বাস, যুবদল নেতা সিটি কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, বিএনপি নেতা বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। তবে সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে রাজপথে মিছিল মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বিএনপিতে রয়েছে নেতাভিত্তিক চরম কোন্দল। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল দ্রুত নিরসন করা না হলে এর প্রভাব দ্বাদশ নির্বাচনে পড়বে বলে মনে করছেন দলের তৃনমূল নেতৃবৃন্দ। দলীয় কোন্দলের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে দলীয় বিভেদ কিংবা বলয় নেই। একটি পক্ষ দলীয় বিভেদ কিংবা বলয়ের অভিযোগ এনে স্বার্থ হাছিলের চেষ্টা করে। এমনকি দল আলোচনায় আসার জন্য দলের ভিতর দলীয় বিভেদ রয়েছে এমন অভিযোগ এনে লাইমলাইনে আসার চেষ্টা করে। তবে এটা সত্য বড় দল হিসেবে সামান্য মত পার্থক্য থাকতে পারে আর এটা থাকবেও। আর এর জন্য দলীয় কোন্দল এমন ধারনাটা সম্পূর্ণই ভূল। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, বিএনপিতে ত্যাগী ও যোগ্য নেতার বড়ই অভাব। আর এজন্য কেন্দ্র পূরানো কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে। দ্বাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে না’গঞ্জ বিএনপি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *