Home » শেষের পাতা » অক্টোবরে মাঠে নামবো

আ’লীগের বিরোধ মিটবে কবে?

০৩ জুলাই, ২০২২ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 57 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট বিরোধের আগুনে জ্বলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। এ বিরোধ মিটবে কবে? এই আগুন নিভবে কবে? এমন প্রশ্ন দলের তৃনমূলের। তবে এই বিরোধের কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে একাধিক বলয় গড়ে উঠেছে। এসব বলয় দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে কাজ করছে। তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে বিরোধ রয়েছে এটা স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানে এবং মানে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। নাসিক নির্বাচনে এসে এক কর্মীসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। তার দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করা হবে। অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার চিন্তা-ভাবনা চলছে। খুব কম সময়ের মধ্যেই ব্যক্তির বলয় থেকে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ পরিবারকে মুক্ত করা হবে। নতুন কাঠামোতে স্থান পাবেন ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আদর্শবান নেতা। ইতোমধ্যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ছেঁটে ফেলারন্ত্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতারা দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এ ব্যাপারে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত জানানোর তোড়জোড় রয়েছে। সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি এ দুই সাংগঠনিক কমিটির সময়সীমা অনেক আগেই ফুরিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর জেলা কমিটি এবং ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আবদুল হাইকে চূড়ান্ত করা হয়েছে যিনি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক। সেক্রেটারি পদে আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে চূড়ান্ত করা হয়েছে যিনি বর্তমানে জেলা যুবলীগের সেক্রেটারি হিসেবে আছেন। বাদল ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী নেতা হিসেবে পরিচিত। সহ সভাপতি হিসেবে আছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর নাম। তিনি বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। জানা গেছে, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত থাকা আওয়ামী লীগে দু’টি ধারা বিরাজমান ছিল। একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এসএম আকরাম। অপর অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম ওসমান। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে সাবেক এমপি এসএম আকরাম যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে। এরপর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধ দেখা দেয়। যা পরবর্তীতে ত্বকী হত্যাকান্ড নিয়ে উত্তাপ ছড়ায়। তবে মেয়র আইভী রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ায় এবং ওসমান পরিবারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষেই অবস্থান নেয় মেয়র আইভীপন্থী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই মূলত পাল্টে গেছে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির হালচাল। এরপরের ইতিহাস অনেক দূর গড়িয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *