Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

আ’লীগের রাজনীতি ছাত্রলীগ নির্ভর!

০১ মে, ২০২২ | ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 85 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বন্দরে ছাত্রলীগের (সোনালী অতীত) নেতাকর্মীদের উপর অনেকটা নির্ভরশীল মূল সংগঠন।  ছাত্রলীগের নেতারা আওয়ামীলীগকে সব সময় বিশাল এক সাপট দিয়ে আসছে।  উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ প্রাচীন রাজনৈতিক গণ-সংগঠনের নাম হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ বাংলাদেশ কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবদান অবিস্মরণীয়।১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামান সহ তাঁর পরিবার কে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন ঘটে। তখন থেকেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে আ’লীগ। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি জয়লাভের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার, নির্যাতন অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগের মেধাবী নেতা-কর্মীদের।তখন সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের তৎকালীন ছাত্রলীগের পরিক্ষিত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে।জামাত-বিএনপি স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালালে প্রতিবাদী আন্দোলনেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরিক্ষিত নেতা-কর্মীরা সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেয়। পরবর্তী সেনা সমর্থিত সরকার কতৃক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে গ্রেফতারের পর নেত্রীর কারামুক্তি ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলনে বন্দর থানায় আরিফ-আবুল ও খান মাসুদ, শাহাদাত হোসেন বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কর্মীরা আন্দোলনে ফেটে পড়ে। সেসময় বিএনপি-জামা’ত কর্তৃক বিভিন্ন হামলা মামলায় কোনঠাসা হয়ে পরে ছাত্রলীগ। নির্যাতন আর হয়রানিতে অনেকেই ঘুমাতে পারেনি নিজ গৃহস্থলে। তবে এখন প্রশ্ন হল, সেসময়কার সক্রিয় ত্যাগী ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা এখন কে কোথায়? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎতকালীন (অর্থাৎ ২০০৩ সালে আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পর) বন্দর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান আরিফ বর্তমানে সরকার দলীয় রাজনীতিতে মোটামুটি সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়াও তিনি সমাজ সেবক ও ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির সাধারণ সম্পাদক কায়েস আহমেদ আবুল বর্তমানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে মাউশি’তে কর্মরত। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করলেও মনের দুঃখে কষ্টে রাজনীতিতে নিস্তব্ধতা দেখা মিলেছে। সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ, তিনি রাজনৈতিক মাঠে বর্তমানে ঐ কমিটির সবচেয়ে সক্রিয় সদস্য। গনতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে রাজনৈতিক মামলায় কয়েকবার কারাবরণসহ নানা নির্যাতনের শিকার ছিলেন তিনি। বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে পদ চারন। তার রক্তে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ প্রবহমান। তার পিতা মরহুম আব্দুল আলী ছিলেন প্রয়াত সামছুজ্জোহার ঘনিষ্ঠ সহচর। আব্দুল আলী আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কর্মী তৈরি করার একজন কারিগর ছিলেন। কর্মীবান্ধব এই নেতা (আব্দুল আলী) ‘র মৃত্যুর পর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়সহ বন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওর্য়াডে নানা কর্মসূচী পালন করেন। এখনো প্রতি বছর আব্দুল আলীর মৃত্যু বার্ষিকী বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওর্য়াডে পালন করেন। শাহাদাত হোসেন ছাত্রলীগের রাজনীতি করার অপরাধে ৪ বার কারাবরণ করতে হয়। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নিজ গৃহে ঘুমাতে পারেননি। বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় তারপরও বিন্দু পরিমান দাপট দেখান না। নিজ সংগঠনের চিন্তা করে রাজনীতি করে পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। বন্দর উপজেলা ফরাজীকান্দা ভোট কেন্দ্রে শাহাদাত হোসেনের বিশাল এক প্রভাব রয়েছে। শাহাদাত হোসেনের পরিবারসহ তার বিচক্ষণতায় ওই কেন্দ্রে তার যে প্রার্থীর পক্ষে যায় স পাশ করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও এলাকায় সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত।  এলাকার স্বার্থে এক নিবেদিত প্রান শাহাদাত হোসেন। সহ-সভাপতি গাজী মোঃ এম এ সালাম, তিনিও রাজনীতিতে যথেষ্ট সক্রিয় তবে এই এলাকার রাজনীতিতে তিনি বারবার আলোচনা-সমালোনায় ভরপুর রয়েছেন। অন্যদিকে তিনি মোটামুটি নিষ্ঠার সাথেই মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে টানা ৩ বার। সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বর্তমানে ব্যবসা করছেন। রাজনীতির মাঠে এখন খুব একটা দেখা যায় না তাকে। তবে মাঝে মাঝে দলীয় মিটিং মিছিলে তাকে দেখা যায়। তিনি বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তথা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রউফ সরকারের ছেলে। অন্য সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিনের ছেলে শেখ কামাল, বর্তমানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকতা ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মে ব্যস্ত তিনি শিক্ষক সমিতির বন্দর উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান কমান্ডের জেলা কমিটির সহ সভাপতি তিনি। যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বর্তমানে অভিমান নিয়ে রাজনীতির মাঠ হতে দূরে আছেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে অগ্রনী ভূমিকা ছিলো তার। বন্দর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল কবীর, বর্তমানে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত।ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করার অভিমানে রাজনীতিতে থেকে দূরে সরে আছেন। কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহীন তাহেরী সিনহা তিনিও বর্তমানে বেশ সক্রিয়। নারায়ণগঞ্জ কোর্টে তিনি আইনজীবী সহকারী হিসেবে আছেন। রাজনৈতিক মাঠে একসময়কার নির্যাতিত ও কারাবরণকারী এই নেতা সবসময়ই ত্যাগীদের মূল্যায়নের সাপেক্ষে আওয়াজ তুলে যান। সাধারণ সম্পাদক সোয়েব মোঃলিটন, তিনিও বর্তমানে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন। দলীয় সকল মিটিং মিছিলে তার উপস্থিতি দেখার মত। ধামগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বর্তমানে ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার। রাজনৈতিক মাঠে মোটামুটি সক্রিয়। মদনপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বর্তমানে ছোটো খাটো ব্যবসা করছেন।রাজনীতিতে মোটামুটি সক্রিয়। মিয়া বাবু, মাইনু, কাদির, মামুন, সুমন, আরিফ চৌধুরী, আঙ্গুর, মশিউর রহমান সুজুসহ আরো অনেক ছাত্রনেতা দুঃসময়ে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অতুলনীয় ভুমিকা পালণ করেন। যাদের মধ্যে কেউ সক্রিয় আবার কেউ রাজনীতির সাথে অভিমান করে আছেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *