Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

আ’লীগ থেকে বাবুর পদত্যাগ

১৭ মে, ২০২২ | ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 107 Views

সোনারগাঁ প্রতিনিধি

আগামী ১৫ জুন সোনারগাঁ মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দলীয় নৌকা প্রতীক না পাওয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু। নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের টানা দ্বিতীয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু। গতকাল সোমবার সকালে মোগরাপাড়া চৌরাস্তাস্থ একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা করেন  মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বেচ্ছায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীকের সঙ্গে লড়বেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, আমি ডেলিগেট ভোটে প্রথম হয়েও নৌকার প্রতীক পাইনি। আমি ইউনিয়নবাসীর সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। মোঃ আরিফ মাসুদ বাবু বলেন, আমার পিতা সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত (এমসিএ) বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম এড. সাজেদ আলী মিয়া। আমার ভাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, ১৯৭৩ সনে মহান জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ট এমপি এবং ১৯৮৬ স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের দুঃশাস্বনের আমলে ও বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোবারক হোসেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সনে সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে দলের হাল ধরেন। সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সভাপতি হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসনাত। ২০০১ সনে বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময় মামলা হামলায় সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা যখন জোট সরকারের নির্যাতনের স্টীম রোলারের চাকায় পিষ্ট হয়ে দিশে হারা এরই মধ্যে হাসনাত সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন ঠিক সেই কঠিন সময়ের মধ্যে নিজের আদরের সন্তান কায়সার হাসনাতকে আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের পাশে দারানোর জন্য নির্দেশ দিলেন। তার পরের ইতিহাস আপনাদের সবার জানা। কায়সার হাসনাত মাঠে নেমে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ্য করে সোনারগাঁ এ দুর্বার আন্দলন গড়ে তুলেন এবং আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে দৃষ্টি আকর্ষন করে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সেই সমেয় আন্দোলন করতে যেয়ে পুলিশির নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন কায়সার হাসনাত আমার মাতৃতুল্য নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৎকালীন আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মরহুম এড. আব্দুল মতিন খসরু সাহেব পর পর তিন দিন নারায়ণগঞ্জে এসে কায়সার হাসনাত কে জামিনে মুক্তি করান পরবর্তীতে যার পুরুস্কার হিসাবে আমাদের প্রানের নেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে কায়সার হাসনাতের হাতে নৌকা তুলে দেন। ফলশ্রুতিতে সোনারগাঁওয়ের ৩ বারের এমপি এবং মন্ত্রী বিএনপির রেজাউল করিম সাহেবকে ৮৫০০০ ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন এবং সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ২০১৪ সালে এসে, জাতীয় স্বার্থে জোটের কারনে কায়সায় হাসনাতকে মনোনয়ন না দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলেন এ আসন। আমরাও নেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জোটকে স্বাগত জানালাম। পরবর্তীতে নেত্রী আমাদের মূল্যায়ন করে আমার আরেক ভাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোশারফ হোসেন কে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেন, এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করা কালিন সময়ে গত জুলাই ২০২১ সালে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে উপ নির্বাচনে আমরা ভেবে ছিলাম আমাদের পরিবারেই নৌকা প্রতীক দিবেন, কিন্তু সে সময় নৌকা আমাদের না দিয়ে একজন সিনিয়র নেতাকে দিলেন, আমরা মেনে নিয়ে সতস্ফুর্ত ভাবে ওনাকে সমর্থন দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়ে দিলাম। সর্ব শেষ মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যেটা আমাদের ৭০ বৎসরের ইতিহাস। মোগরাপাড়া ইউনিয়ন হলো সোনারগাঁ রাজনীতির রাজধানী, আওয়ামী রাজনীতির পূন্যভূমি যার ধারক বাহক হলো আমাদের এই পরিবার। অনেক প্রতিকুলতার মাঝেও যেমন পাকিস্তানী আমল, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার জামাত বিএনপি জোটের অত্যাচার নির্যাতনের মধ্যেও আমাদের পরিবার থেকে চেয়ারম্যান পদবি কেউ কোন দিন ছিনিয়ে নিতে পারে নাই। তারই ধারা বাহিকতায় বিগত ১০ বৎসর যাবৎ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবা করে আসছিলাম। জনগনের সেবা করতে এসে আমি আমার বাবার নীতি এবং আদর্শ কে অনুকরন এবং অনুসরন করতে চেষ্টা করেছি। প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা নিশ্চই আমার বাবার সম্পর্কে অবগত আছেন। আমার বাবা সারা জীবন রাজনীতি করেছেন মানুষের জন্য, নিজের এবং পরিবারের জন্য কোন কিছু করেন নাই। ওনার একটাই লক্ষ ছিল সোনারগাঁওয়ের দরিদ্র জনগুষ্ঠিকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলে আদর্শ সোনারগাঁ বানানো। সেই সপ্ন নিয়েই গড়ে তোলে আজকের মোগরাপাড়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এবং একমাত্র ডিগ্রী কলেজ তথা বর্তমানে সোনারগাঁও সরকারী কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান দুটি ধার করানোর জন্যই জীবনের সমস্ত অর্জন ব্যায় করে গেছেন। সে আলোকেই আমি চেষ্টা করছি এই ১১ বৎসর মোগরাপাড়া ইউনিয়ন এর গরিব দুঃখি মানুষের পাশে দাড়াতে, কখনো অনৈতিক কোন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ও করিনি, মানুষ যাতে আমার দ্বারা সামান্য কষ্ট না পায় সেই চেষ্টাই আমি করেছি। অনৈতিক ভাবে টাকা কামানোর চিন্তাও করিনি কোন দিন। গেল দুই বছর এই ভয়বহ করোনা মাহামারীতে আমি জনগনের পাশে ছিলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *